Published : 13 Jun 2026, 07:55 PM
অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার টমাস পার্টিকে কানাডায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাকে ‘কর্তৃত্ববাদী’ ও ‘চরম অন্যায্য’ সিদ্ধান্ত বলে অভিহিত করেছে ঘানা সরকার। কানাডাকে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
পশ্চিম আফ্রিকার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা জানতে পেরেছে যে ব্রিটেনে বিচারাধীন ফৌজদারি মামলার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২০২০ থেকে ২০২২ পর্যন্ত সময়কালে ব্রিটেনে পার্টির বিরুদ্ধে চার জন ভিন্ন নারীকে ধর্ষণের সাতটি অভিযোগ ও একটি যৌন নিপীড়নের অভিযোগ রয়েছে। ৩২ বছর বয়সী এই ফুটবলার অবশ্য শুরু থেকে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসছেন। আগামী বছর ওই সব অভিযোগে তার মামলার মুখোমুখি হতে হবে।
আর্সেনালের সাবেক এই খেলোয়াড়ের কানাডার ভিসার আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। ফলে বাংলাদেশ সময় আগামী বৃহস্পতিবার ভোরে টরন্টোয় বিশ্বকাপে ঘানার প্রথম ম্যাচে পানামার বিপক্ষে তিনি খেলতে পারবেন না।
দলের বাকি সদস্যদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বস্টনে ঘানার বেইস ক্যাম্পে আছেন পার্টি। পরের দুটি ম্যাচ খেলতে কোনো বাধা নেই তার। ‘এল’ গ্রুপে দ্বিতীয় ম্যাচে আগামী ২৩ জন বস্টনে ঘানা খেলবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। আর শেষ ম্যাচে ফিলাডেলফিয়ায় আগামী ২৭ জুন তারা মুখোমুখি হবে ক্রোয়েশিয়ার।
ঘানার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা বৃহস্পতিবার একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদপত্র পাঠিয়ে কানাডাকে তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “কানাডার এই কর্তৃত্ববাদী ও চরম অন্যায্য সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে ঘানা সরকার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে।”
কানাডার অভিবাসন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ব বিষয়ক একজন মুখপাত্র শুক্রবার বলেছেন, দেশটি বরাবরই এই অবস্থানে অটল যে, বড় কোনো ইভেন্ট আয়োজন করলে অভিবাসন আইনে কোনো পরিবর্তন আসে না।
“কানাডায় আসতে ইচ্ছুক প্রত্যেক ব্যক্তিকে প্রাপ্য তথ্য ও প্রযোজ্য আইনের ভিত্তিতে স্বতন্ত্রভাবে মূল্যায়ন করা হয়।”
কানাডিয়ান সরকারের ওয়েবসাইটে দেশটিতে ভ্রমণের পূর্ব শর্তস্বরূপ লেখা আছে, “যদি আপনি কোনো অপরাধ করে থাকেন অথবা কোনো অপরাধে দোষী প্রমাণিত হয়ে থাকেন, তবে আপনি হয়তো কানাডায় প্রবেশ করতে পারবেন না।”
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থা ফিফা জানিয়েছে, স্বাগতিক দেশের ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ায় ফিফা হস্তক্ষেপ করে না।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় যৌথভাবে আয়োজিত ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এই বিশ্বকাপে বিতর্কিত বিষয়গুলোর একটি এই ভিসা জটিলতা।
এর আগে শিকাগো বিমানবন্দরে ইরাকি স্ট্রাইকার আইমেন হুসেইনকে কয়েক ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে দেওয়া হয়।
ইরান দলকে তো তাদের বেইস ক্যাম্পের স্থানই বদলে ফেলতে হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরে গিয়ে তারা মেক্সিকোয় ক্যাম্প করেছে। দেশটির ফুটবল সমর্থকদের ভিসা বাতিলের খবরও মিলেছে। শুধু তাই নয়, ইরান দলের ম্যানেজারসহ ফেডারেশনের ১৫ জন সদস্যকে ভিসা দেওয়া হয়নি।
সোমালিয়ার রেফারি ওমার আব্দুলকাদির আর্তানকেও যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ‘সন্ত্রাসী সংগঠনের সন্দেহভাজন সদস্যদের সঙ্গে তার যোগসূত্র থাকাটাকে কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে।