Published : 20 Feb 2026, 01:10 PM
নাইজেরিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো অর্থনীতিতে স্টেবলকয়েন ব্যবহারের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। প্রথাগত ব্যাংকিং ব্যবস্থার ধীরগতি ও অতিরিক্ত লেনদেন ফি এড়াতে সাধারণ মানুষ এখন ডলার সমমূল্যের এ ডিজিটাল মুদ্রার দিকে ঝুঁকছে বলে উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক জরিপে।
‘স্টেবলকয়েন ইউটিলিটি রিপোর্ট’ শিরোনামের জরিপে উঠে এসেছে, এসব দেশ ক্রিপ্টো বা ডিজিটাল মুদ্রা স্টেবলকয়েনের সম্ভাবনা নিয়ে সবচেয়ে বেশি আশাবাদী এবং ব্যবহারকারীরা চাইছেন এগুলো যেন লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে আরও ব্যাপকভাবে গৃহীত হয়।
রয়টার্স লিখেছে, দরিদ্র দেশগুলোতে অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে স্টেবলকয়েন দ্রুততর ও সাশ্রয়ী উপায়ের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। তবে মুদ্রাবাজারে আধিপত্য বিস্তারকারী ‘টিথার’ বা ‘ইউএসডিসি’সহ প্রায় ৯৯ শতাংশ স্টেবলকয়েনের মান যেহেতু ডলারের সঙ্গে জড়িয়ে, ফলে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অর্থনীতিতে ‘ডলারাইজেশন’ বা ডলারের ওপর অতি নির্ভরশীলতা এবং পুঁজি পাচারের উদ্বেগও বাড়িয়ে তুলছে।
জরিপটি পরিচালনা করেছে অনলাইনভিত্তিক মার্কেট রিসার্চ ও ডেটা অ্যানালিটিক্স বিষয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘ইউগভ’। এ কাজে তাদের সহযোগিতা করেছে ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠান ‘বিভিএনকে’, ‘কয়েনবেইস’ ও ‘আর্টেমিস’।
যারা বর্তমানে স্টেবলকয়েন বা ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করছেন বা ভবিষ্যতে করার পরিকল্পনা রাখছেন এমন ১৫টি দেশের ৪ হাজার ৬৫০ জনেরও বেশি মানুষের মতামতের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদনটি তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে এসব কয়েনের প্রধান ব্যবহার হচ্ছে বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সি মার্কেটের মধ্যে অর্থ লেনদেন করায়।
গত বছর মার্কিন ম্যানেজমেন্ট কনসাল্টিং ফার্ম ‘বস্টন কনসাল্টিং গ্রুপ’ বা বিসিজি-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, স্টেবলকয়েন লেনদেনের প্রায় ৯০ শতাংশই ক্রিপ্টো ট্রেডিং বা কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত। এর বদলে কেবল ৬ শতাংশ লেনদেন হয় পণ্য কেনা বা সেবার মূল্য পরিশোধের কাজে।
স্টেবলকয়েন পেমেন্টের প্রতি আগ্রহ
জরিপে দেখা গেছে, ভারতের মতো অন্যান্য উদীয়মান দেশগুলোতেও স্টেবলকয়েনের চাহিদা বাড়ছে। জরিপে অংশ নেওয়া অর্ধেকেরও বেশি মানুষ গত এক বছরে নিজেদের স্টেবলকয়েন জমানোর পরিমাণ বাড়িয়েছেন। এ প্রবণতা উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সবচেয়ে বেশি।
পরিসংখ্যান অনুসারে, নাইজেরিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষের কাছে আগে থেকেই স্টেবলকয়েন রয়েছে। তাদের মধ্যে ৭৫ শতাংশেরও বেশি মানুষ আগামী বছর এ জমানোর পরিমাণ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন।
যাদের কাছে বর্তমানে কোনো স্টেবলকয়েন নেই তাদের মধ্যে উচ্চ-আয়ের দেশগুলোর তুলনায় নিম্ন ও মধ্য-আয়ের দেশগুলোতে তা জমানোর আগ্রহ প্রায় দ্বিগুণ। যেমন, নাইজেরিয়ার ৯৫ শতাংশ মানুষ বলেছেন, তাদের স্থানীয় মুদ্রা ‘নাইরা’র বদলে স্টেবলকয়েনে পারিশ্রমিক বা পেমেন্ট নিতে বেশি পছন্দ করবেন তারা।
‘বিভিএনকে’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ক্রিস হার্মস বলেছেন, “মানুষ বর্তমানে স্টেবলকয়েনের মাধ্যমে পেমেন্ট গ্রহণ ও খরচ করছে, বিশেষ করে যেখানে প্রথাগত পেমেন্ট ব্যবস্থা ধীরগতিসম্পন্ন, ব্যয়বহুল বা নির্ভরযোগ্য নয়।”
তিনি আরও বলেছেন, ব্যবহারকারীরা এখন চাইছেন তাদের বর্তমান সাধারণ আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমগুলো, যেমন ব্যাংক বা ওয়ালেটের সঙ্গে যেন এ স্টেবলকয়েন আরও সহজভাবে যোগ করা হয়।
আর্থিক নীতির জন্য হুমকি
বিশ্বজুড়ে স্টেবলকয়েন বাজারের বর্তমান মূল্য ৩১ হাজার কোটি ডলারের বেশি, যার সিংহভাগই ডলারের সঙ্গে জড়িত টোকেন, যেমন টিথার (সাড়ে ১৮ হাজার কোটি ডলার) ও ‘ইউএসডিসি’ (সাড়ে ৭ হাজার কোটি ডলার)।
যুক্তরাষ্ট্রে ‘জিনিয়াস অ্যাক্ট’-এর মতো নতুন নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপের ফলে এ বাজার আরও বড় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ বিষয়ে বেশ সতর্ক। তারা আশঙ্কা করছেন, স্থানীয় ব্যাংকগুলোর আমানত কমিয়ে দিতে পারে স্টেবলকয়েন, যা দেশের অর্থনীতিকে দুর্বল করবে ও দেশ থেকে পুঁজি পাচারের পথ সহজ করবে।
অন্যদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকার রিজার্ভ ব্যাংকের গভর্নর লেসেতজা কগানিয়াগো সম্ভাব্য একটি সুবিধার কথা বলেছেন।
তিনি বলেছেন, প্রতিবেশী দেশ মোজাম্বিকে ১০০ ডলার পাঠাতে ৩০ ডলার পর্যন্ত ফি দিতে হয়। আর স্টেবলকয়েন এ বড় খরচের সমস্যাটি সমাধান করতে পারে।
জরিপে আরও উঠে এসেছে, সাধারণ দোকান বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে স্টেবলকয়েন খুব একটা নেওয়া হয় না, যা দৈনন্দিন কেনাকাটা বা সাবস্ক্রিপশনের কাজে এর প্রসারের ক্ষেত্রে বড় বাধা।