Published : 05 Jan 2026, 02:15 PM
মহাকাশে একা একা ঘুরে বেড়ানো এক ‘ভবঘুরে’ গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
গ্রহগুলো সাধারণত কোনো না কোনো তারাকে (যেমন আমাদের সূর্য) কেন্দ্র করে ঘোরে। তবে এই ‘ভবঘুরে’ গ্রহটির কোনো অভিভাবক তারা নেই। মহাকাশের অন্ধকারে গ্রহটি সম্পূর্ণ একা ভেসে বেড়াচ্ছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ পত্রিকা ইন্ডিপেনডেন্ট।
কিছু গ্রহ মহাকাশে স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়ায় বলে এদেরকে ভবঘুরে গ্রহ বলে। এদের নিজস্ব কোনো তারা বা আমাদের সূর্যের মতোন কোনো বাঁধন নেই।
ভবঘুরে গ্রহ বিজ্ঞানীদের কাছে অনেক বেশি রহস্যময়। কারণ এগুলো অন্যান্য সাধারণ গ্রহের তুলনায় অনেক কম উজ্জ্বল। অন্যান্য গ্রহ খুঁজে পাওয়ার প্রধান উপায় হচ্ছে, যখন এরা নিজেদের তারার সামনে দিয়ে যায় তখন এদের শনাক্ত করা। তবে এসব ভবঘুরে গ্রহের কোনো নিজস্ব তারা না থাকায় এদের খুঁজে পাওয়াও কঠিন।
বিজ্ঞানীরা নতুন এই ভবঘুরে গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন ‘মাইক্রো-লেন্সিং’ নামের এক ঘটনার মাধ্যমে। যখন কোনো বস্তুর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি এর পেছনের কোনো তারা থেকে আসা আলোকে বড় করে দেখায় তখন এমন ঘটনা ঘটে।
এ প্রভাবটি পৃথিবী ও মহাকাশ উভয় জায়গার টেলিস্কোপ থেকে দেখা গেছে। ফলে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এই ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান তুলনা করে গ্রহটির ভর বের করতে পেরেছেন।
তাদের মতে, গ্রহটি বৃহস্পতির ভরের তুলনায় প্রায় ২২ শতাংশ ও আমাদের মিল্কিওয়ে ছায়াপথের কেন্দ্র থেকে প্রায় তিন হাজার পারসেক দূরে অবস্থিত।
২০০০ সালে প্রথম ‘ভবঘুরে’ গ্রহের সংকেত পান জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। এরপর ২০২৪ সালে দূরবর্তী এক তারার আলোতে বিকৃতি দেখতে পান তারা। এ ঘটনাটি একইসঙ্গে পৃথিবী ও মহাকাশ থেকে পর্যবেক্ষণ করা হয়। এজন্য ব্যবহৃত হয়েছিল ভূ-পৃষ্ঠের বেশ কিছু মানমন্দির ও ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত ‘গাইয়া’ স্পেস টেলিস্কোপ।
গবেষকরা বলছেন, গ্রহটির ভর দেখে মনে হচ্ছে সম্ভবত কোনো এক গ্রহ ব্যবস্থার মধ্যেই তৈরি হয়েছিল এই গ্রহ, যেখান থেকে পরবর্তীতে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
বিজ্ঞানীদের ধারণা, যখন কোনো গ্রহমণ্ডলে বড় ধরনের মহাকর্ষীয় পরিবর্তন ঘটে, যেমন, পাশের অন্য কোনো গ্রহের সঙ্গে সংঘর্ষ বা অস্থির তারার প্রভাব তখন এ ধরনের কম ভরের ভবঘুরে বিভিন্ন গ্রহ মহাকাশে ছিটকে পড়ে।
নতুন আবিষ্কৃত এ গ্রহটি এখন পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া অল্প কয়েকটি ভবঘুরে গ্রহের মধ্যে একটি।
ধারণা করা হচ্ছে, সামনের বছরগুলোতে এ ধরনের গ্রহ খুঁজে পাওয়ার সংখ্যা আরও বাড়বে, বিশেষ করে নাসার ‘ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস’ নামের টেলিস্কোপ মহাকাশে উৎক্ষেপণের মাধ্যমে এমনটি সম্ভব হবে।
গবেষণাটি প্রকাশ পেয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘সায়েন্স’-এ।