Published : 01 Mar 2026, 03:38 PM
ক্যাথলিক যাজকদের প্রতি ধর্মোপদেশ লেখার ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের ‘প্রলোভন’ সামলে চলার আহ্বান জানিয়েছেন পোপ লিও চতুর্দশ।
যাজকদের উদ্দেশ্যে পোপ বলেছেন, এআই হয়ত তথ্য দিতে পারে তবে তা কখনোই মানুষের ‘বিশ্বাস’ ভাগ করে নিতে পারে না।
ব্রিটিশ পত্রিকা ইন্ডিপেনডেন্ট লিখেছে, শিকাগোতে জন্ম নেওয়া প্রথম এই মার্কিন পোপ তার সহকর্মী যাজকদের ‘নিজেদের বুদ্ধিমত্তা ও মস্তিষ্ক আরও বেশি ব্যবহার করার’ অনুরোধ করেছেন।
১৯ ফেব্রুয়ারি রোমের ধর্মপ্রদেশের যাজকদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে পোপ এমন মন্তব্য করেন। সেই বৈঠকে যাজকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরও দেন তিনি। বৈঠকের বিস্তারিত তথ্য পরের দিন প্রকাশ পায় এবং ভ্যাটিকান নিউজ তা প্রচার করে।
বৈঠক চলাকালীন পোপ শ্রোতাদের বলেছেন, ধর্মোপদেশ দেওয়া বা ‘হোমিলি’র কাজ ‘বিশ্বাস ভাগ করে নেওয়া’। এরপর তিনি যুক্তি দিয়েছেন, এআই ‘কখনও বিশ্বাস ভাগ করে নিতে পারবে না’।
“শরীরের অন্যান্য পেশি আমরা যদি ব্যবহার না করি বা না নাড়াই তবে তা অকেজো হয়ে যায়। মস্তিষ্কেরও ব্যবহার প্রয়োজন, আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা যাতে হারিয়ে না যায় সেজন্য চর্চা করতে হবে।”
বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেরও সমালোচনা করেছেন ৭০ বছর বয়সী পোপ। তিনি যাজকদের নির্দেশ দিয়েছেন, তারা যেন টিকটক বা ইন্টারনেটের ‘মোহ’র পেছনে ছুটে ‘লাইক’ ও ‘ফলোয়ার’ পাওয়ার নেশায় মত্ত না হন।
পোপ চতুর্দশ লিও প্রায়ই বিশ্ব রাজনীতি নিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করেন। এআই নিয়ে তার চিন্তাধারা ও নামের ঐতিহাসিক তাৎপর্যের কারণেই নিজের পোপ নাম হিসেবে ‘লিও’ বেছে নিয়েছেন তিনি।
ভ্যাটিকান নিউজের তথ্যমতে, গত বছর পোপ লিও বলেছিলেন, “এর পেছনে অনেকগুলো কারণ ছিল। তবে প্রধান কারণ হলেন পোপ লিও ত্রয়োদশ। তিনি তার ঐতিহাসিক ইশতেহার ‘রেরাম নোভেরাম’-এ প্রথম বড় শিল্প বিপ্লবের প্রেক্ষাপটে সামাজিক বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কথা বলেছিলেন।
“আমাদের বর্তমান সময়ে চার্চ তার সামাজিক শিক্ষার ভাণ্ডার সবার জন্য খুলে দিয়েছে আরও একটি শিল্প বিপ্লব (এআই) ঠেকাতে। এআই উন্নয়নগুলো মানুষের মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও শ্রম রক্ষার ক্ষেত্রে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।”
জন্মভূমির (যুক্তরাষ্ট্র) রাজনীতি নিয়েও নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন পোপ। তিনি বারবার প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা করেছেন। ফলে কিছু ‘মাগা’ রিপাবলিকান পোপ লিওকে ‘ঔক’ বা অতি উদারপন্থী হিসেবে বর্ণণা করেছেন।
দায়িত্ব পালনকালে পোপ লিও ট্রাম্পের ‘বোর্ড অফ পিস’-এর আমন্ত্রণ বাতিল করেছেন। তিনি ‘শক্তির ওপর ভিত্তি করে কূটনীতি’ বা পেশিশক্তির রাজনীতির নতুন যুগ সম্পর্কে সতর্ক করে মত দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীরা ‘অমানবিক আচরণের’ শিকার হচ্ছেন।
তবে অভিবাসীদের সঙ্গে অমানবিক আচরণের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট। তবে তিনি সরাসরি পোপ লিওর মন্তব্যের কথা উল্লেখ করেননি।
ক্যাথলিক চার্চের প্রধান হওয়ার আগেও এ ভবিষ্যৎ পোপ অভিবাসন বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানের কড়া সমালোচক ছিলেন।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে পোপ লিও দাবি করেছিলেন, খ্রিস্টীয় শিক্ষা সরকারি অভিবাসন নীতির ভিত্তি ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের এমন ধারণা ‘ভুল’।
ভ্যান্স ফক্স নিউজকে বলেছিলেন, তার ধারণা, মানুষের উচিত প্রথমে ‘নিজের পরিবারকে ভালোবাসা ও তারপর প্রতিবেশীকে ভালোবাসা।’ এর পরেই কেবল সরকারের উচিত ‘বিশ্বের বাকি অংশকে অগ্রাধিকার দেওয়া’।
এর জবাবে পোপ লিও বলেছেন, “যিশু আমাদের অন্যদের প্রতি ভালোবাসার কোনো ক্রম বা র্যাংকিং করতে বলেননি।”