Published : 19 Mar 2026, 02:35 PM
ডেটা নিরাপত্তার ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে এমন এক প্রযুক্তির জন্য এ বছরের টিউরিং অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন মার্কিন পদার্থবিদ চার্লস এইচ বেনেট এবং কানাডিয়ান কম্পিউটার বিজ্ঞানী জিল ব্রাসার্ড।
টিউরিং অ্যাওয়ার্ডকে কম্পিউটিং জগতের ‘নোবেল পুরস্কার’ বলা হয়। গণিতবিদ ও কোড ভাঙার পথিকৃৎ অ্যালান টিউরিংয়ের নামে দেওয়া এই পুরস্কারের অর্থমূল্য ১০ লাখ ডলার বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বিবিসি।
পুরস্কার কর্তৃপক্ষ, ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর কম্পিউটিং মেশিনারি’ এই দুই গবেষকের অবদান সম্পর্কে বলেছে, “১৯৮৪ সালে তাদের উদ্ভাবিত কোয়ান্টাম ক্রিপ্টোগ্রাফি প্রযুক্তি নিরাপদ যোগাযোগ ও কম্পিউটিং ধারণাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে”।
বর্তমান এনক্রিপশন প্রযুক্তি জটিল গাণিতিক সমীকরণের ওপর নির্ভর করে। তবে অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন, ভবিষ্যতের শক্তিশালী কোয়ান্টাম কম্পিউটার এই নিরাপত্তা ভেঙে ফেলতে পারে।
এই জায়গাতেই ভিন্ন পথ দেখিয়েছে বেনেট ও ব্রাসার্ডের কাজ। ‘বিবি৮৪’ নামে পরিচিত তাদের উদ্ভাবিত পদ্ধতিতে কেউ যদি এই এনক্রিপশন কি ভাঙতে বা কপি করতে চায়, তাহলে সেটির মৌলিক কণার আচরণই বদলে যায়। ফলে সেটি নকল করা কার্যত অসম্ভব হয়ে ওঠে।
নিউ ইয়র্কে প্রযুক্তি কোম্পানি আইবিএমের সঙ্গে যুক্ত ৮২ বছর বয়সী বেনেট এবং মন্ট্রিয়ল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭০ বছর বয়সী অধ্যাপক ব্রাসার্ডের প্রথম দেখা হয়েছিল পুয়ের্তো রিকোতে একটি একাডেমিক সম্মেলনে, ১৯৭৯ সালে।
এক পর্যায়ে বিরতির সময় সাঁতার কাটতে কাটতে বেনেট এমন একটি ব্যাংকনোট তৈরির ধারণা দেন, যা কখনো জাল করা যাবে না। সেখান থেকেই শুরু হয় তাদের দীর্ঘদিনের যৌথ গবেষণা।
এই গবেষণায় তারা কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানের ধারণা ব্যবহার করেন, যেখানে ইলেকট্রন ও ফোটনের মতো কণার আচরণ নিয়ে কাজ করা হয়।
অ্যাসোসিয়েশন অফ কম্পিউটিং মেশিনারি, যারা এই পুরস্কার দেয়, তারা বলেছে এই কাজ ভবিষ্যতের ডিজিটাল যোগাযোগকে নিরাপদ করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করেছে।