Published : 16 Jan 2026, 03:51 PM
২০২৫ সালে আক্ষরিক অর্থেই সোনার খনি খুঁজে পেয়েছে চীন। গেল বছর তিনটি বড় সোনার খনির সন্ধান পাওয়ার কথা ঘোষণা করেছে দেশটি।
চীনের লিওনিং প্রদেশের ‘ড্যাডংগউ’ নামের সোনার খনিটি ২০২৫ সালের নভেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে দেশটি। ধারণা করা হচ্ছে, এখানে প্রায় দেড় হাজার টন সোনা রয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ১৯ হাজার দুইশ কোটি ডলার।
শিনজিয়াং প্রদেশের ‘কুনলুন’ পর্বতমালার খনিতে এক হাজার টনেরও বেশি সোনা থাকার কথা প্রথম জানায় ‘অ্যাক্টা জিওসায়েন্টিফা সিনিকা’ নামের এক সাময়িকী।
গত ডিসেম্বরে শানডং প্রদেশের লাইঝু কাউন্টির সমুদ্রতলে পাওয়া জিওডং উপদ্বীপের কাছে সমুদ্রের নিচে এক সোনার খনির খবর মেলে। এ খনির সুনির্দিষ্ট আকার প্রকাশ না করলেও চীনা কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, সমুদ্রতলে এশিয়ার বৃহত্তম সোনার খনি এটি। ফলে লাইঝু অঞ্চলের মোট সোনা মজুদের পরিমাণ তিন হাজার নয়শ টন ছাড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সাইট স্ল্যাশগিয়ার।
২০২৪ সালের শেষদিকে চীনের হুনান প্রদেশে পাওয়া বিশাল এক সোনার খনির রেশ কাটতে না কাটতেই সামনে এসেছে নতুন এসব আবিষ্কার। এক হাজার টনের সেই খনিটিকে ওই সময় বিশ্বের বৃহত্তম মূল্যবান খনিজ ভাণ্ডার হিসেবে দাবি করেছিলেন বিজ্ঞানীরা। পরে অবশ্য ড্যাডংগউ খনির আবিষ্কার সেটিকেও ছাড়িয়ে যায়।
হুনানের এ নির্দিষ্ট খনিটির দাম ঘোষণার সময় এর আনুমানিক মূল্য প্রায় ৮ হাজার ৩০০ কোটি ডলার বলেছে চীন। এর অন্যতম কারণ, পাথরের প্রতি মেট্রিক টনে ১৩৮ গ্রাম পর্যন্ত উচ্চমানের সোনার উপস্থিতি।
‘ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল’-এর তথ্য অনুসারে, এ পর্যন্ত কেবল ২ লাখ ১৬ হাজার ২৬৫ টনের মতো সোনা উত্তোলন করতে পেরেছে মানুষ। সেই তুলনায় চীনের এসব নতুন আবিষ্কার অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এসব খনি চীনকে বিশ্বের শীর্ষ সোনা উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে সাহায্য এবং ইলেকট্রনিক্স পণ্য তৈরিতে সোনার পর্যাপ্ত সরবরাহও নিশ্চিত করবে।
তবে মনে রাখা জরুরি, এসব খনির মজুদ বা এদের সম্ভাব্য মূল্যের বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত নয়।
‘সবকিছুই যে নিশ্চিত, তা কিন্তু নয়’
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, এসব সংখ্যা এখনও নিশ্চিত হওয়া বাকি। যেমন চীনের হুনান প্রদেশের এক হাজার টন সোনার পরিমাণটি কেবল এক অনুমান। শুরুতে সেখানে কেবল তিনশ টনের সন্ধান মিলেছিল, বাকি সোনার হিসাবটি বের হয়েছে থ্রিডি বা ত্রিমাত্রিক মডেলিংয়ের মাধ্যমে, যার নির্ভুলতা এখনও নিশ্চিত নয়।
চীনের লিওনিং প্রদেশের ‘ড্যাডংগউ’ খনির অবস্থাও একই রকম। শিরোনামে আসা এক হাজার চারশ ৪৪ টনের সংখ্যাটি মূলত ১৫ মাসের অনুসন্ধানমূলক খননের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এক প্রজেকশন।
তবে চীনা কর্মকর্তারা বরছেন, ড্যাডংগউ খনিতে কম পরিশ্রম ও কম খরচে সোনা উত্তোলন দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক হবে। দেড় হাজার টনের কাছাকাছি এ মোট পরিমাণের বিষয়টি এখনও নিশ্চিত কোনো গ্যারান্টি দেয় না। এ ছাড়া সাধারণ বাস্তবতা হচ্ছে, কোনো জায়গায় সোনা থাকলেই যে তার পুরোটাই উত্তোলন করা সম্ভব বা লাভজনক হবে এমনটিও ভাবা ঠিক নয়।
হুনান প্রদেশের সোনার খনিটি নিয়ে ‘নর্দান মাইনার’কে দেওয়া এক ইমেইলে ‘ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল’-এর জন রিড বলেছেন, “এক হাজার টনের এ সম্ভাব্য সম্পদের বিষয়টি উচ্চাভিলাষী এক লক্ষ্য বলে মনে হচ্ছে। এ খনিটিকে প্রকৃত সংরক্ষিত মজুদ হিসেবে গণ্য করতে আরও অনেক বেশি খনন কাজের প্রয়োজন।”
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরে রিড বলেছেন, চীন খনিজ সম্পদ প্রকাশের ক্ষেত্রে ভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করে। যার মানে, তাদের দেওয়া এসব সংখ্যা বিশ্বের অন্যান্য দেশের ব্যবহৃত আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
চীন যে কেবল সোনার খনিই খুঁজে পেয়েছে তা নয়, বরং দেশটির কাছে আরও অনেক মূল্যবান খনিজ সম্পদের বিশাল ভাণ্ডার রয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে ৪৯ কোটি টনের বিশাল এক লিথিয়াম আকরিক খনির কথা ঘোষণা করেছে চীন, যা ২০২৫ সালের শুরুর দিকে জার্মানিতে পাওয়া ৪ কোটি ৩০ লাখ টনের খনিকেও অনেক পেছনে ফেলেছে।
তবে এসব আবিষ্কারের কোনো আন্তর্জাতিক যাচাইকরণ এখন পর্যন্ত না হওয়ায় এসব ঘোষণা অনুমানের চোখে দেখাই ভালো। চীনের দাবি অনুসারে দেশটি সত্যিই এত বিপুল পরিমাণ সোনা ও লিথিয়ামের ওপর বসে আছে কি না তা সময়ই বলে দেবে।