Published : 29 Dec 2025, 01:19 PM
বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সিগারেটের প্যাকেটের মতো সতর্কতামূলক লেবেল দেখাতে বাধ্য করতে নতুন আইন পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্য।
এ বছরের জুনে নিউ ইয়র্কের আইনসভায় বিলটি পাস হওয়ার পর শুক্রবার এতে স্বাক্ষর করে তা আইন হিসেবে অনুমোদন দিয়েছেন অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর ক্যাথি হোকুল।
যেসব প্ল্যাটফর্মে ‘ইনফিনিট স্ক্রলিং’ বা বিরতিহীনভাবে নিচে নামা, ‘অটো-প্লে’, ‘লাইক কাউন্ট’ বা ‘অ্যালগরিদমিক ফিড’ রয়েছে সেগুলোর ক্ষেত্রে আইনটি প্রযোজ্য হবে। এসব লেবেল তরুণ ব্যবহারকারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর সম্ভাব্য ক্ষতির বিষয়ে সতর্ক করবে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সাইট এনগ্যাজেট।
কোনো ব্যবহারকারী প্রথমবার যখন এমন কোনো ফিচারের সংস্পর্শে আসবেন যেগুলোকে ‘শিকারি’ বা ‘ক্ষতিকর’ হিসেবে বিবেচনা করে নিউ ইয়র্ক তখন বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম কোম্পানিকে এসব সতর্কতামূলক লেবেল দেখাতে হবে। সেই প্রথম দেখার পর থেকে নির্দিষ্ট সময় পরপর এ সতর্কবাণীটি ব্যবহারকারীদের বারবার দেখানো হবে।
অ্যালগরিদমের মাধ্যমে ব্যবহারকারীকে অ্যাপে আটকে রাখার বিভিন্ন কৌশলকে ‘শিকারি’ আচরণ হিসেবে দেখছে নিউ ইয়র্ক।
গভর্নর হোকুল বলেছেন, “দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নিউ ইয়র্কবাসীদের নিরাপদ রাখা আমার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। যার মধ্যে আমাদের শিশুদের সামাজিক মাধ্যমে এমন সব ফিচার থেকে রক্ষার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত, যা মাধ্যমটির অতিরিক্ত ব্যবহারে উৎসাহিত করে।”
নিউ ইয়র্ক থেকে এসব প্ল্যাটফর্ম যখনই ব্যবহৃত হবে তখনই এ আইন কার্যকর হবে। গত বছরও শিশুদের সামাজিক মাধ্যম থেকে সুরক্ষিত রাখতে দুটি বিলে স্বাক্ষর করে তা আইনে পরিণত করেছিলেন গভর্নর হোকুল।
বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তরুণ ব্যবহারকারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে তা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমাগত বাড়ছে এবং ক্রমেই কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকারি বিভিন্ন সংস্থা।
নিউ ইয়র্কের মতো একই ধরনের বিলের প্রস্তাব এসেছে ক্যালিফোর্নিয়াতেও। এ বছর অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে শিশুদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করেছে এবং খুব শিগগিরই একই পথ অনুসরণ করতে যাচ্ছে ডেনমার্কও।
গত বছর মার্কিন সার্জন জেনারেল বলেছিলেন, সামাজিক মাধ্যমে সতর্কতামূলক লেবেল থাকা উচিত। এমন কিছু তথ্যের দিকেও আলোকপাত করেছিলেন তিনি, যেখানে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের সঙ্গে তরুণদের মধ্যে উদ্বেগ ও বিষণ্নতা বেড়ে যাওয়ার যোগসূত্র রয়েছে।
শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের বিভিন্ন ঝুঁকি বহুমুখী ও এ নিয়ে নানা গবেষণাও চলছে।
নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যটির এমন সিদ্ধান্তের বিষয়ে এনগ্যাজেটের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি মেটা, স্ন্যাপ ও টিকটক।