Published : 16 Jun 2026, 10:12 AM
অ্যানথ্রপিকের সর্বশেষ দুই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পেছনে ভূমিকা রেখেছে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যামাজন।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন বলছে, অ্যামাজনের সাইবার নিরাপত্তা বিভাগ অ্যানথ্রপিকের নতুন মডেলদুটি নিয়ে গবেষণা করে নিরাপত্তা ত্রুটি বের করতে পেরেছে এবং এ নিয়ে সিইও অ্যান্ডি জ্যাসি কথা বলেছেন হোযাইট হাউজের সঙ্গে।
ওই যোগাযোগের পরপরই মার্কিন কর্তৃপক্ষ অ্যানথ্রপিক তাদের ‘ফেবল ফাইভ’ ও ‘মিথস ফাইভ’ মডেলের প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দেয় বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট ভার্জ।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, অ্যামাজনের এক গবেষণাপত্রে দাবি করা হয়, ধারাবাহিক কিছু নির্দেশনা বা প্রম্পট ব্যবহার করে তারা ‘ফেবল ফাইভ’ থেকে এমন তথ্য বের করতে পেরেছে, যা সাইবার হামলায় ব্যবহার করা সম্ভব। এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে এখনও সাড়া দেয়নি অ্যামাজন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্যাসি সরকারের কাছে এ তথ্য তুলে ধরার কিছু সময় পরই বিদেশি নাগরিকদের জন্য মডেলটি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
তবে এতে অ্যানথ্রপিকের ভেতরেই নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। কারণ, কোম্পানিটির অনেক গবেষক বিদেশে জন্ম নেওয়া নাগরিক হওয়ায় তারা নিজেদের তৈরি পণ্য ব্যবহারের সুযোগ হারিয়েছেন।
এক বিবৃতিতে অ্যানথ্রপিক সরকারের এই ঘটনাকে ‘জেইলব্রেক’ হিসেবে বর্ণনা করার বিরোধিতা করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, একই ধরনের দুর্বলতা উন্মুক্তভাবে পাওয়া যায় এমন অন্যান্য মডেল দিয়েও খুঁজে বের করা সম্ভব, যার মধ্যে জিপিটি ফাইভ পয়েন্ট ফাইভও রয়েছে।
এ ব্যাখ্যার সঙ্গে কিছু নিরাপত্তা গবেষকও একমত হয়েছেন। লুটাসিকিউরিটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কেটি মুসোরিস ব্লুস্কাইয়ে লিখেছেন, “আমি গবেষণাপত্রটি দেখেছি। এটি কোনো জেইলব্রেক নয়।”
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা কেট কোরেন ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেছেন, অ্যানথ্রপিকের প্রতি হোয়াইট হাউসের অপছন্দও এ সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।
কোম্পানিটির সঙ্গে ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের মতবিরোধ নতুন নয়। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ওপর ব্যাপক নজরদারি বা প্রাণঘাতী স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র পরিচালনায় নিজেদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করতে দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে টানাপোড়েন চলছে।
ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প ফেডারেল সংস্থাগুলোকে অ্যানথ্রপিকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার বন্ধের নির্দেশ দেন। এর কয়েক ঘণ্টা পরই প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ কোম্পানিটিকে সরবরাহ শৃঙ্খল ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেন।
পরে দুই পক্ষের সম্পর্ক কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছিল এবং ‘মিথস’ মডেলের প্রবেশাধিকার বাড়াতে তারা একসঙ্গে কাজও করেছে। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে আবারও নতুন বিরোধের মুখে পড়তে পারে উভয় পক্ষ।