Published : 11 Jul 2026, 09:48 PM
সিলেটের হযরত শাহজালাল (র.) এর মাজারের দানবাক্স খুলে টাকা গণনার সময় কয়েকটি হাতে লেখা চিঠি পাওয়া গেছে।
শনিবার দানবাক্সের টাকা গণনার সময় চিঠিগুলো উদ্ধার করা হয়।
চিঠিগুলোর একটিতে উঠে এসেছে চাকরি না পাওয়ার হতাশায় ভেঙে পড়া এক যুবকের আকুতি।
তিনি লিখেছেন, “আল্লাহ গো, আমি কতো চেষ্টা করতাছি একটা চাকরি নেওয়ার জন্য, আল্লাহ তাও হয় না। অনেকবার চেষ্টা করছি, অনেকবার ব্যর্থ হয়েছি। অনেক টাকা নষ্ট করছি একটা চাকরির জন্য। মাঠে ব্যর্থ হয়ে গিয়েছি। আল্লাহ গো আমি আর পারছি না...।”
চিঠির তথ্য অনুযায়ী, চাকরির জন্য তিনি বিভিন্ন সরকারি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়োগ পরীক্ষায় অন্তত ১৩ বার অংশ নিয়েও সফল হতে পারেননি।
তিনি লিখেছেন, পুলিশে তিনবার, নৌবাহিনীতে তিনবার, সেনাবাহিনীতে তিনবার, বিমানবাহিনীতে একবার, বিজিবিতে একবার, কারারক্ষী পদে একবার এবং ব্যাটালিয়নে একবার পরীক্ষা দিয়েও চাকরি পাননি।
চিঠির শেষ অংশে তিনি লিখেছেন, “আল্লাহ, এবার তোমার অলি হযরত শাহজালাল মাজারে আসিয়া খাসি মান্নত করছি, আমি এই মান্নত পূর্ণ করব। আল্লাহ তুমি এবার আমার জেল কারারক্ষী চাকরিটা পাইয়ে দেও। আমার মা-বাবার আশা পূর্ণ করে দেও।”
দানবাক্স থেকে পাওয়া আরেকটি চিঠিতে এক ব্যক্তি স্ত্রীকে নিয়ে সুখী দাম্পত্য জীবনের জন্য প্রার্থনা করেছেন। টিঠিতে পুরুষ ও নারী দুজনের নাম লেখা রয়েছে।
তাতে লেখা রয়েছে, “... আমার বউ। তাকে আমি অনেক অনেক ভালোবাসি। (দুজনের) সম্পর্ক হাজার বছর ঠিক রাখার তৌফিক দাও।”
চিঠিতে দাম্পত্য জীবনে ভালোবাসা অটুট রাখা, ভুল-বোঝাবুঝি দূর হওয়া, আর্থিক সচ্ছলতা এবং শত্রুর হাত থেকে রক্ষার জন্যও আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা হয়েছে।
এ ছাড়া দানবাক্স থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে লেখা একটি চিঠিও পাওয়া গেছে।
চিঠিতে নিজেকে সিলেটের দরগা মহল্লার বাসিন্দা ও ‘শুভাকাঙ্ক্ষী’ পরিচয় দিয়ে লেখক তারেক রহমানকে ‘দুলাভাই’ সম্বোধন করে তার কাছে কয়েকটি অনুরোধ জানিয়েছেন।
তিনি লিখেছেন, সিলেটের সাবেক জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমকে পুনরায় সিলেটে দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হোক। একই সঙ্গে হাদী হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ ছাড়া মামুনুল হককে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি লিখেছেন, কোনো সংসদীয় আসন শূন্য থাকলে সেখানে তাকে মনোনয়ন দেওয়া যেতে পারে। প্রয়োজনে মির্জা আব্বাসের আসনেও তাকে বিবেচনার প্রস্তাব দিয়েছেন।
চিঠিতে লেখা হয়েছে, আল্লামা মামুনুল হক বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি আন্তরিকতা ও শ্রদ্ধার পরিচয় দিয়েছেন। বেগম খালেদা জিয়ার মাতার জানাজা ও দাফনের সময় তার খাটিয়া বহনে অংশ নেওয়ার দৃশ্য গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছিল। তিনি মনে করেন, তার এই অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন করা উচিত।