গোপন চীনা মহাকাশযানের বিরল ছবি প্রকাশ করল পেন্টাগন
২০২০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত চারটি কক্ষপথ মিশন পরিচালনা করেছে এই চীনা মহাকাশযান, যার সর্বশেষটি উৎক্ষেপন হয়েছে এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে।
পৃথিবীকে প্রদক্ষিণরত চীনের শীর্ষ গোপন মহাকাশযানের একটি ছবি প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের মহাকাশ হুমকি বিষয়ক নতুন এক প্রতিবেদনে চীনের ‘শেনলং’ নামের মনুষ্যবিহীন মহাকাশযানটির এই ছবি প্রকাশ পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট।
এর আগে, ২০২৪ সালে একটি বাণিজ্যিক ইমেজিং স্যাটেলাইটের মাধ্যমে যানটির ছবি তোলা হয়েছিল।
মার্কিন বাণিজ্যিক কোম্পানি ‘ভ্যান্টর’ (আগের নাম ম্যাক্সার)-এর ধারণ করা ছবিটিতে ডানাওয়ালা একটি মহাকাশযান দেখা গেছে, যার সঙ্গে মার্কিন স্পেস ফোর্সের অতি গোপন ‘এক্স-৩৭বি’ মহাকাশযানের বেশ মিল রয়েছে।
এর কার্গো বে বা পেলোড বে ডোরগুলো থেকে ইঙ্গিত মেলে, এটি ভেতর থেকে ছোট স্যাটেলাইট বা অন্য কোনো মহাকাশযান সংরক্ষণ ও মহাকাশে মোতায়েন করতে পারে।
২০২০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত শেনলং চারটি পরিচিত অরবিটাল বা কক্ষপথ মিশন পরিচালনা করেছে, যার সর্বশেষটি উৎক্ষেপিত হয় এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে। এসব মিশন প্রায় নয় মাস ধরে চলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি’ বা ডিআইএ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “২০২২ সালের নভেম্বরে মহাকাশযানটিকে একটি সহচর স্যাটেলাইটের সঙ্গে কৌশলগত কায়দায় পরিচালনা করতে ও প্রায় ১ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে অবস্থান ধরে রাখতে দেখা যায়।
“এক পর্যায়ে বস্তু দুটি একে অপরের ১০০ মিটারের মধ্যে চলে আসে। স্যাটেলাইটটিকে পুনরায় মুক্ত করার আগে যানটির সঙ্গে স্যাটেলাইটের যোগাযোগ হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।”
প্রতিবেদনটিতে মহাকাশ অস্ত্র তৈরিতে চীনের অগ্রগতির বিভিন্ন বিবরণও তুলে ধরা হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে ‘ডিরেক্টেড-এনার্জি ওয়েপন’ বা ডিইডব্লিউ বা নির্দেশিত শক্তির অস্ত্র, যা আলোর গতিতে ছুটে চলা লেজার বা ঘনীভূত কণার বিম ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তু অকার্যকর করে দিতে পারে।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, “কক্ষপথে থাকা প্রতিপক্ষের স্যাটেলাইট অকার্যকর, ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস করার লক্ষ্যে চীন মহাকাশ অস্ত্র তৈরি করেছে ও সম্ভবত তা অব্যাহত রাখবে।
“মহাকাশ গবেষণায় শীর্ষ নেতৃত্ব নেওয়ার পাশাপাশি এ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন নিজেদের পক্ষে রাখা ও প্রতিপক্ষের ওপর মহাকাশ প্রযুক্তির নির্ভরশীলতাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ার লক্ষ্য রয়েছে বেইজিংয়ের।”
তবে ‘শেনলং’ মহাকাশযানটিতে মহাকাশ অস্ত্র বহন করা নিয়ে কোনো প্রমাণ মেলেনি।
ডিআইএ-এর এ প্রতিবেদনে রাশিয়ার নামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়া পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম স্যাটেলাইট তৈরির কাজ করছে।
“মহাকাশভিত্তিক এমন সক্ষমতা বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশ ও কোম্পানি পরিচালিত হাজার হাজার স্যাটেলাইটের দ্রুত ও আকস্মিক ক্ষতি করতে পারে।
“এতে করে এসব স্যাটেলাইটের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ, ন্যাভিগেশন, গবেষণা, আবহাওয়া, বাণিজ্যিক ও জাতীয় নিরাপত্তা সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।”
ডিআইএ-এর গবেষকরা বলেছেন, মহাকাশে থাকা কোনো পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্ফোরণ যদি তুলনামূলক কম উচ্চতায় ঘটে তবে বিশ্বজুড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বা পাওয়ার গ্রিডও বিপর্যস্ত হতে পারে।
১৯৬৭ সালের ‘আউটার স্পেস ট্রিটি’ অনুসারে, পৃথিবীর কক্ষপথে পারমাণবিক অস্ত্র স্থাপন নিষিদ্ধ হয়েছিল। আর এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন।
বর্তমানে মহাকাশে সামরিক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণের জন্য কোনো আন্তর্জাতিক সর্বসম্মত ব্যবস্থা নেই। তবে চীন ও রাশিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশ মহাকাশে অস্ত্র প্রতিযোগিতা ঠেকাতে নির্দিষ্ট নিয়ম চালুর পক্ষে দাবি জানিয়ে আসছে।
ডিআইএ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন ও রাশিয়া এসব চুক্তির প্রস্তাব দিলেও তারা নিজেরাই মহাকাশে অস্ত্র তৈরি ও মোতায়েনের চেষ্টাকে অস্বীকার করেই যাচ্ছে।
