Published : 10 Dec 2025, 02:20 PM
ক্রুজ জাহাজগুলো এত বিশাল যে কিছু জাহাজ আসলে বিমানবাহী রণতরীর চেয়েও বড়। তবে অন্য যে কোনো সমুদ্রযানের মতো এগুলোও চিরকাল টিকে থাকে না। সাধারণত অবসরে যাওয়া এসব ক্রুজ জাহাজকে অন্য কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দেয় বিভিন্ন ক্রুজ কোম্পানি, যেগুলোকে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করে তারা।
‘কুইন মেরি’ ও ‘কুইন এলিজাবেথ ২’ ত্রুুজ জাহাজের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটেছে, যেগুলো এখন ক্যালিফোর্নিয়া ও দুবাইতে ভাসমান হোটেল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি বিষয়ক সাইট স্ল্যাশগিয়ার।
আবার কখনও কখনও ক্রুজ জাহাজকে নতুন নামে পুনরায় ব্র্যান্ড করে কোম্পানিগুলো এবং বিক্রির পরও আবার গোটা বিশ্বের সমুদ্রে ভ্রমণ চালিয়ে যায় এরা।
‘মার্গারিটাভিল অ্যাট সি’-এর নতুন সংযোজন ‘বিচকম্বর’ আসলে ‘কস্টা ক্রুজেস’ থেকে কেনা জাহাজ, যেটি আসলে সেই ‘জিমি বাফেট’ থেকে অনুপ্রাণিত ক্রুজ লাইনের কস্টা থেকে কেনা তৃতীয় জাহাজ।
তবে ‘মাজেস্টি অফ দ্য সিজ’ এক সময় রয়েল ক্যারিবিয়ানের অন্যতম বড় জাহাজ হওয়ার পরও এটি নতুন করে ইজারা পায়নি। ২০২০ সালে ‘গ্রিক ফেরি কোম্পানি সিজেটস’-এর কাছে বিক্রি করা হয়েছে জাহাজটিকে। বছরের পর বছর ধরে ক্ষয়প্রাপ্ত এ জাহাজটি বন্দরে নোঙর করা অবস্থায় আছে এবং আবার এর যাত্রা শুরুর কোনও লক্ষণ নেই।
কোনো জাহাজকে যদি নতুন কাজে ব্যবহারের চাহিদা না থাকে তবে তা ভাঙা হয়। এ রকমই অবস্থা হয়েছিল বছরের পর বছর ধরে কয়েকটি কার্নিভাল ক্রুজ জাহাজের, যেমন ইকস্টেসি, ফ্যান্টাসি ও সেনসেশন।
সাধারণত কোনো ক্রুজ জাহাজ ভাঙার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বিভিন্ন কারণে, যার মধ্যে পুনরায় জাহাজ তৈরির খরচের বিষয়টি অন্যতম। সহজভাবে বললে, পুরানো ও অব্যবহৃত জাহাজকে আধুনিক করে তোলার জন্য যে অর্থ ব্যয় হয় তা শেষ পর্যন্ত কোম্পানির জন্য লোকসান হতে পারে। এসব জাহাজের মধ্যে কিছু অবশেষে বিশ্বের বৃহত্তম ক্রুজ জাহাজের ‘ভাগাড়ে’ চলে যায়।
ক্রুজ জাহাজ পুনরায় ব্যবহার ও ভাঙা
ক্রুজ জাহাজ ভেঙেও আয় করতে পারে এসব জাহাজের নির্মাতা কোম্পানি। এ অর্থ আসে জাহাজের কাঠামোর ধাতু ও অন্যান্য অংশের বিক্রি থেকে, যা আগে কোম্পানি অন্য কাজে ব্যবহার করেনি। জাহাজের অনেক অংশই পুনরায় ব্যবহৃত হয় এবং এর কিছু অংশ এমনকি নতুন কোনো ক্রুজ জাহাজেও দ্বিতীয় জীবন খুঁজে পেতে পারে।
ক্রুজ জাহাজ তৈরি হতে যতটা সময় লাগে ঠিক ততটাই জটিল জাহাজ ভাঙার কাজও। সাধারণত ‘ব্রেকিং’ নামেও পরিচিত এ প্রক্রিয়াটি বাংলাদেশ, ভারত ও যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ঘটে। ব্রেকিং স্থাপনাগুলো ভালোভাবে কাজ করতে ও সব আকারের জাহাজকে ভাঙার কাজ করতে পারলেও এ কাজ করা ক্রুদের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।
জাহাজের মধ্যে থাকা বিভিন্ন বিষাক্ত পদার্থ সঠিকভাবে সরানো না গেলে তা পরিবেশের জন্যও বিপজ্জনক।
শিল্পটি নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থায় হলেও কিছু জাহাজ ভাঙার কোম্পানি সম্প্রতি সমালোচনার মুখে পড়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরের শেষ দিকে প্রকাশ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে নির্দিষ্ট কিছু জাহাজ পুনরায় ব্যবহার সুবিধার অনুমোদন প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ও তুর্কি নেতাদের একটি জোট। এসব সংগঠনের অভিযোগ, তুরস্কের এসব স্থাপনার একটির কাজের প্রক্রিয়া পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।