১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

নিউ ইয়র্কের মেয়রের বিরুদ্ধে 'বিদ্বেষ ছড়ানোর' অভিযোগ নেতানিয়াহুর

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু নিউ ইয়র্কে গেলে মেয়র মামদানি আইসিসি পরোয়ানা কার্যকর করে তাকে গ্রেপ্তার করবেন বলে হুমকি দেওয়ার পর এই অভিযোগ তুললেন নেতানিয়াহু।

নিউ ইয়র্কের মেয়রের বিরুদ্ধে 'বিদ্বেষ ছড়ানোর' অভিযোগ নেতানিয়াহুর
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 27 Jul 2026, 06:47 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:44 PM

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) পরোয়ানা কার্যকর করে গ্রেপ্তারের হুমকি দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির বক্তব্যকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। 

উল্টো নিউ ইয়র্কের মেয়র নগরে 'বিদ্বেষ ছড়াচ্ছেন' বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

বিবিসি লিখেছে, সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফরের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ার আগে রোববার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু এ অভিযোগ করেন। 

তিনি বলেন, নিউ ইয়র্কের মেয়র এর আগে তাকে (নেতানিয়াহু) গ্রেপ্তারের যে অঙ্গীকার করেছিলেন তা নিয়ে তিনি বিন্দুমাত্র চিন্তিত নন।

ফক্স নিউজকে নেতানিয়াহু বলেন, “তিনি (মামদানি) বিদ্বেষ উসকে দিচ্ছেন। তার তো নিউইয়র্কের সব নাগরিক,ইহুদি, খ্রিস্টান, মুসলিম সবার মেয়র হওয়ার কথা। কিন্তু তিনি এক গোষ্ঠীকে অন্য গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে খেপিয়ে তোলার চেষ্টা করছেন। আমি মার্কিন ইহুদিদের সঙ্গে কথা বলেছি, তারা এখন আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।”

নিউ ইয়র্কে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া জাতিগত সহিংসতার কথা উল্লেখ করে নেতানিয়াহু দাবি করেন, শহরের ইহুদি সম্প্রদায় বর্তমানে ভয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে পৃথক দুটি হামলায় এক ইহুদি ও এক এশীয় ব্যক্তি ছুরিকাহত হন। পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি 'আল্লাহু আকবার' ধ্বনি দিয়ে হামলাটি চালায় এবং তাকে বিদ্বেষমূলক অপরাধে (হেট ক্রাইম) অভিযুক্ত করা হয়েছে। হামলায় আহত দুজনই অবশ্য বেঁচে গেছেন।

ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক ও পৃথক সফর:

সোমবার আলাদা এক সফরে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। তবে এ সফরে নিউ ইয়র্ক তার ভ্রমণসূচিতে নেই। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউজে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন নেতানিয়াহু। পাশাপাশি সদ্যপ্রয়াত সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের শেষকৃত্যানুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি।

হুমকি থেকে পিছু হটেছেন মামদানি:

ফিলিস্তিনিদের অধিকারের সোচ্চার সমর্থক নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি তার নির্বাচনী প্রচারণার অন্যতম প্রধান বিষয় বানিয়েছিলেন গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করাকে। 

গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ২০২৪ সালে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত (আইসিসি)। মামদানি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, নেতানিয়াহু নিউ ইয়র্কে গেলে তিনি ওই পরোয়ানা কার্যকর করে তাকে গ্রেপ্তার করবেন।

তবে গত সপ্তাহে আইন খতিয়ে দেখার পর নিজের অবস্থান থেকে পিছু হটেন মামদানি। তিনি স্বীকার করেন, আইসিসি’র পরোয়ানা সরাসরি কার্যকর করার মতো স্বাধীন আইনি এক্তিয়ার নিউ ইয়র্ক নগর প্রশাসনের নেই।

তারপরও নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানান মামদানি। একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিউ ইয়র্ক সিটিতে স্বাগত নন।”

গাজা পরিস্থিতি ও আইসিসির পরোয়ানা:

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা থেকে হামাসের হামলার পর ভূখণ্ডটিতে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। হামাসের ওই হামলায় আনুমানিক ১,২০০ জন নিহত এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়।

অন্যদিকে, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত গাজায় ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ২১ হাজারের বেশি শিশু। জাতিসংঘ এ পরিসংখ্যানকে নির্ভরযোগ্য মনে করে।

গাজায় যুদ্ধাপরাধের সব অভিযোগ ইসরায়েল বরাবরই অস্বীকার করে আসছে এবং নেতানিয়াহু আইসিসির পরোয়ানাকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।