Published : 17 Jan 2026, 01:12 PM
সন্তানদের মৃত্যুর ঘটনায় শর্ট ভিডিও প্ল্যাটফর্ম টিকটকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে যুক্তরাজ্যের পাঁচটি পরিবার। এই মামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে নজিরবিহীন এক আইনি পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ডেলাওয়্যারের আদালতে শুনানিতে পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত হন। এই প্রথমবারের মতো কোনো ব্রিটিশ পরিবার তাদের সন্তানদের মৃত্যুর ঘটনায় মার্কিন আদালতে টিকটকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছেন। এ নিয়ে ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্টে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
এসব পরিবারের পক্ষে আদালতে উপস্থিত থাকছেন এলিন রুমি, লিসা কেনেভান ও লিয়াম ওয়ালশ।
সন্তানদের মৃত্যুর পর কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল তা জানার জন্য মা-বাবাদের লড়াই করতে হচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এলিন রুমি। তিনি বলেন, “সন্তানের সঙ্গে কী ঘটেছে তা জানার জন্য মা-বাবাদের মহাদেশ পাড়ি দিয়ে বহুজাতিক প্রযুক্তি কোম্পানির বিরুদ্ধে লড়াই করা অত্যন্ত কষ্টকর।”
মামলায় টিকটকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, অ্যাপটির অ্যালগরিদম শিশুদের কাছে অত্যন্ত বিপজ্জনক কনটেন্ট পৌঁছে দিয়েছে এবং সেগুলো ছড়িয়ে পড়তে সহায়তা করেছে। এর মধ্যে ‘ব্ল্যাকআউট চ্যালেঞ্জ’-এর মতো ঝুঁকিপূর্ণ ট্রেন্ডও ছিল।
পরিবারগুলোর দাবি, এ ধরনের ভিডিওই তাদের সন্তানদের মৃত্যুর কারণ হয়েছে। তারা আরও বলেছে, মৃত্যুর আগের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাদের সন্তানরা ঠিক কী ধরনের ভিডিও দেখেছিল সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে টিকটক বারবার অস্বীকার করেছে।
রুমি জানান, ২০২২ সালের এপ্রিলে তার ১৪ বছর বয়সী ছেলে জুলস এক অনলাইন চ্যালেঞ্জে অংশ নিতে গিয়ে মারা যায়।
তিনি বলেন, “ওই ঘটনার পর অনলাইন কার্যক্রম নিয়ে এমন অনেক কিছু জেনেছি, যেগুলো সম্পর্কে আগে আমি অজ্ঞ ছিলাম। আমি ভেবেছিলাম জুলস হয়তো মজার নাচের ভিডিও বা নিরীহ কোনো চ্যালেঞ্জ দেখছে। এখন বুঝি, ইন্টারনেটে ক্ষতিকর ও অবৈধ কনটেন্টের বিশাল ভাণ্ডার রয়েছে।
“অনলাইন সুরক্ষা আইন দ্রুত হালনাগাদ হওয়া জরুরি। আমি চাই না অন্য কোনো পরিবার আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাক।”
শোকাহত পরিবারগুলোর অভিযোগ, একাধিকবার অনুরোধ জানানো সত্ত্বেও টিকটক এখনো তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য দেয়নি।
এ বিষয়ে ইন্ডিপেনডেন্টের মন্তব্য চাওয়ার অনুরোধেও টিকটক সাড়া দেয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রে মামলার পাশাপাশি যুক্তরাজ্যেও ‘জুলস ল’ নামে নতুন একটি আইন কার্যকরের দাবিতে প্রচারণা চালাচ্ছেন রুমি। প্রস্তাবিত এই আইনে বলা হয়েছে, কোনো শিশুর মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে তার অনলাইন ডেটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে তদন্তের শুরুতেই গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হারিয়ে না যায়।
এই প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য ‘ক্রাইম অ্যান্ড পুলিশিং বিল’-এ একটি সংশোধনী জমা দিয়েছেন ব্যারনেস বিবন কিডরন। বিলটি বর্তমানে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ মাসের শেষ দিকে হাউস অফ লর্ডসে এ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
পরিবারগুলোর মতে, সত্য জানা, বিচার পাওয়া এবং বর্তমান ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে এই শুনানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক মাধ্যম কোম্পানিগুলো শিশুদের ক্ষতির জন্য কতটা দায় বহন করবে, সে প্রশ্নে এই মামলা ভবিষ্যতে বড় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।
বিশ্বজুড়ে অ্যালগরিদমভিত্তিক সামাজিক মাধ্যম শিশুদের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলছে এবং ক্ষতিকর কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়ার পেছনে এসব সিস্টেমের ভূমিকা কী, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ঠিক এই সময়েই মামলাটি সামনে এল।