Published : 09 Oct 2025, 03:49 PM
ফেইসবুক, গুগল, স্ন্যাপচ্যাট, টিকটকসহ বেশ কয়েকটি সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে নিউ ইয়র্ক সিটি।
শহরটির অভিযোগ, এসব অনলাইন প্লাটফর্ম শিশুদের এমনভাবে আসক্ত করছে যে তা তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলছে ও এক ধরনের মানসিক সংকট তৈরি করছে।
বুধবার ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে দায়ের করা মামলার ৩২৭ পৃষ্ঠার বর্ণনায় ফেইসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মালিক মেটা, গুগল ও ইউটিউবের মালিক অ্যালফাবেট, স্ন্যাপচ্যাটের মালিক স্ন্যাপ ও টিকটকের মালিক বাইটড্যান্সের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে নিউ ইয়র্ক।
মামলায় অভিযুক্ত এসব প্রযুক্তি কোম্পানির বিরুদ্ধে জনস্বার্থে গুরুতর অবহেলা ও ক্ষতির অভিযোগ এনেছে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ এ শহরটি।
রয়টার্স লিখেছে, যুক্তরাষ্ট্রের আরও অনেক শহর, ডিস্ট্রিক্ট স্কুল ও ব্যক্তিদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্রায় দুই হাজার ৫০টি একই ধরনের মামলায় অংশগ্রহণ করেছে নিউ ইয়র্ক, যা ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ড শহরের ফেডারেল আদালতে চলমান রয়েছে।
তবে নতুন এ মামলার অন্যতম বড় বাদি নিউ ইয়র্ক। শহরটির জনসংখ্যা প্রায় ৮৪ লাখ ৮০ হাজার, যার মধ্যে প্রায় ১৮ লাখ বাসিন্দার বয়স ১৮ বছরের নিচে। এই মামলার অংশ হিসেবে বাদী হয়েছে শহরটির শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাও।
গুগলের একজন মুখপাত্র হোসে কাস্তানেদা বলেছেন, ইউটিউব নিয়ে যেসব অভিযোগ রয়েছে, সেগুলো ‘একেবারে ঠিক নয়’। তিনি বলেছেন, ইউটিউব মূলত একটি স্ট্রিমিং পরিষেবা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নয়।
তবে এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরাধে সাড়া দেয়নি অভিযুক্ত অন্যান্য প্রযুক্তি কোম্পানি।
নিউ ইয়র্ক সিটির আইন বিভাগের একজন মুখপাত্র বলেছেন, এর আগে ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল আদালতে মামলা করেছিল তারা। তবে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে মেয়র এরিক অ্যাডামসের ঘোষণার পর তারা ওই অঙ্গরাজ্যের আদালতে করা বিভিন্ন মামলা থেকে সরে এসেছে, যাতে এখন তারা ফেডারেল আদালতে চলা বড় মামলাটির সঙ্গে যোগ দিতে পারে।
বুধবার দায়ের করা নতুন মামলায় বলা হয়েছে, অভিযুক্ত বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানি নিজেদের প্ল্যাটফর্মগুলো এমনভাবে তৈরি করেছে যাতে তারা ‘তরুণদের মনস্তত্ত্ব ও মস্তিষ্কের কার্যপ্রণালীকে কাজে লাগিয়ে’ তাদের আসক্ত করে তুলতে পারে। আর এসব কোম্পানি এমনটি করছে স্রেফ মুনাফা অর্জনের জন্য।
মামলায় আরও বলা হয়েছে, নিউ ইয়র্ক সিটির কলেজ পর্যায়ের ৭৭.৩ শতাংশ ছাত্র এবং ৮২.১ শতাংশ ছাত্রী স্বীকার করেছে, তারা দিনে তিন ঘণ্টা বা তার বেশি সময় ‘ফোনের সামনে’ থাকে। যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে টিভি, কম্পিউটার ও স্মার্টফোন ব্যবহারের বিষয়টি। ফলে তাদের ঘুম কমের পাশাপাশি তারা স্কুলে নিয়মিত অনুপস্থিত থাকতে বাধ্য হচ্ছে।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে সামাজিক মাধ্যমকে এক জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন নিউ ইয়র্ক সিটির স্বাস্থ্য কমিশনার। শহরটি, বিশেষ করে সেখানকার স্কুলগুলোকে তরুণ সমাজের মানসিক স্বাস্থ্য সংকট ঠেকাতে করদাতাদের আরও বেশি ডলার ব্যয় করতে হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে মামলায়।
শহরটিতে ‘সাবওয়ে সার্ফিং’ বা চলন্ত ট্রেনের উপর বা পাশে স্টান্ট করার ঘটনা বেড়ে যাওয়ার জন্য সামাজিক মাধ্যমকেও দায়ী করেছে নিউ ইয়র্ক। পুলিশের তথ্য অনুসারে, ২০২৩ সাল থেকে অন্তত ১৬ জন সাবওয়ে সার্ফার মারা গিয়েছেন, যার মধ্যে এই মাসে ১২ ও ১৩ বছর বয়সী দুই মেয়েও রয়েছেন।
নিউ ইয়র্ক বলেছে, “অভিযুক্ত এসব কোম্পানিকে নিজেদের কর্মকাণ্ডের কারণে তৈরি ক্ষতির জন্য দায়ী করা উচিত, যেখানে বর্তমানে বাদীরা নিজেরাই এই সমস্যা কমাতে ও এর খরচ বহন করতে বাধ্য হচ্ছে।”