Published : 01 Apr 2026, 04:30 PM
মেটা, টিকটক ও গুগলের মতো বড় বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা না মানার অভিযোগ তুলেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। ওই নিষেধাজ্ঞায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার নিষেধ।
মঙ্গলবার দেশটির অনলাইন নিরাপত্তা দপ্তর বা ‘অনলাইন সেইফটি অফিস’ সতর্ক করে বলেছে, এখনও অনেক শিশুর সামাজিক মাধ্যম অ্যাকাউন্ট রয়েছে। নিয়ম না মানার অভিযোগে বর্তমানে ইনস্টাগ্রাম, ফেইসবুক, স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক ও ইউটিউবের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান প্রতিবেদনে লিখেছে, অস্ট্রেলিয়ার যোগাযোগ মন্ত্রী আনিকা ওয়েলস অভিযোগ করেছেন, অস্ট্রেলিয়ায় নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের ক্ষেত্রে এসব কোম্পানি যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
নয়শ জন অস্ট্রেলীয় অভিভাবকের ওপর পরিচালিত এক জরিপে উঠে এসেছে, নিষেধাজ্ঞার আগে যেখানে ৪৯ শতাংশ শিশুর অ্যাকাউন্ট ছিল, সেখানে নিষেধাজ্ঞার পর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বা ৩১ শতাংশ শিশুর এক বা একাধিক সামাজিক মাধ্যম অ্যাকাউন্ট রয়ে গেছে।
জরিপ বলছে, নিষেধাজ্ঞার আগে যাদের ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট ও টিকটক অ্যাকাউন্ট ছিল, তাদের মধ্যে ৭০ শতাংশ শিশু এখনও সেগুলো ব্যবহার করতে পারছে।
অস্ট্রেলিয়ার ই সেইফটি কমিশন দাবি করেছে, দেশটিতে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো যেসব প্রযুক্তি ব্যবহার করছে, যেমন চেহারা দেখে বয়স নির্ধারণ তা যথেষ্ট কার্যকর নয়। এসব কোম্পানির সুরক্ষা ব্যবস্থা শিথিল, যার ফলে টিনএজাররা সফল না হওয়া পর্যন্ত বারবার বয়স যাচাই চেষ্টার সুযোগ পাচ্ছে।
মঙ্গলবার ক্যানবেরায় যোগাযোগ মন্ত্রী আনিকা ওয়েলস বলেন, “এসবের কোনোটিই অসম্ভব নয়। শতকোটি ডলারের উদ্ভাবনী এসব প্রযুক্তি কোম্পানির জন্য এগুলো মোটেও কঠিন কাজ নয়। এ আপডেটে যা দেখা যাচ্ছে তা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।
“এসব কোম্পানি যদি অস্ট্রেলিয়ায় ব্যবসা করতে চায়, তবে তাদের অবশ্যই অস্ট্রেলিয়ার আইন মেনে চলতে হবে।”
সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের ন্যূনতম বয়স সংক্রান্ত অস্ট্রেলিয়ার এ আইনে ফেইসবুক, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট, থ্রেডস, টিকটক, টুইচ, এক্স, ইউটিউব, কিক ও রেডিট’কে ‘বয়স সীমাবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম’ হিসেবে নির্দিষ্ট করা হয়েছে।
এ আইন অনুসারে, ১৬ বছরের কম বয়সীদের অ্যাকাউন্ট রাখা নিষিদ্ধ ও শিশুদের অ্যাকাউন্ট খোলা বা সচল রাখা বন্ধ করতে এসব কোম্পানিকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
গেল ডিসেম্বরে কার্যকর হওয়া এ আইনে সর্বোচ্চ ৩ কোটি ৩৯ লাখ ডলার জরিমানার বিধান রয়েছে।
যোগাযোগ মন্ত্রী আনিকা ওয়েলস বলেছেন, কোনো কোম্পানির বিরুদ্ধে এই জরিমানা করা হবে কি না সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ই সেইফটি কমিশন প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করছে।
“আমরা সামাজিক মাধ্যম কোম্পানিগুলোর দায়সারা ভাব দেখতে পাচ্ছি, যা বড় বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানর পুরানো কৌশল... তারা নিয়মকানুন নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি করে ও সেগুলোকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করে।”
এক বিবৃতিতে মেটা বলেছে, তারা অস্ট্রেলিয়ার সামজিক মাধ্যম নিষেধাজ্ঞা মেনে চলতে এবং ই সেইফটি ও সরকারের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
“আমরা স্পষ্টভাবেই বলেছি, ইন্টারনেটে সঠিকভাবে বয়স নির্ধারণ করা পুরো ইন্ডাস্ট্রির জন্যই চ্যালেঞ্জ, বিশেষ করে ১৬ বছর বয়সীদের জন্য। অস্ট্রেলিয়া সরকারের নিজস্ব ‘এজ অ্যাসিউরেন্স টেকনোলজি ট্রায়াল’-এও এই ক্ষেত্রে ভুলের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।”
এ বিষয়ে গার্ডিয়ানের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি টিকটক ও গুগল।
অস্ট্রেলিয়া সরকার বলেছে, গত বছরের ১০ ডিসেম্বর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর প্রথম কয়েক দিনেই ৪৭ লাখেরও বেশি সামাজিক মাধ্যম অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয়, মুছে ফেলা বা সীমিত করা হয়েছে।
তবে কোন প্ল্যাটফর্ম থেকে কতটি অ্যাকাউন্ট সরানো হয়েছে তার আলাদা কোনো পরিসংখ্যান দেয়নি সরকার। এ নিষেধাজ্ঞার সাফল্য প্রচার করে আসছে দেশটি। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘেও বিষয়টি তুলে ধরেছে অস্ট্রেলিয়া।
তবে দেশটির অনেক শিশু এখনও অনলাইনে সক্রিয় রয়েছে, এমন বিচ্ছিন্ন বিভিন্ন খবর এই নীতির ফলাফলকে কিছুটা ম্লান করে দিয়েছে।