ফেইসবুক ফাইলস: হীনমন্যতায় বেশি ভোগেন তারকা ভক্তরা!

ফেইসবুকের অভ্যন্তরীণ গবেষণা বলছে, হীনমন্যতায় বেশি ভোগেন কিম কারদাশিয়ান, জাস্টিন বিবার আর চার্লি ডি’আমেলিওর মতো সামাজিক মাধ্যমে জনপ্রিয় তারকাদেরর ভক্তরা। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাম্প্রতিক সিরিজ প্রতিবেদন ‘ফেইসবুক ফাইলস’ থেকে এই তথ্য উঠে আসায় প্রশ্ন উঠেছে সাধারণ ব্যবহারকারীদের উপর সামজিক মাধ্যমভিত্তিক কথিত ‘তারকা সংস্কৃতির’ প্রভাব নিয়ে।

প্রযুক্তি ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 1 Oct 2021, 12:18 PM
Updated : 1 Oct 2021, 12:18 PM

বুধবার ফেইসবুকের গবেষণা প্রতিবেদনের স্লাইড অনলাইনে প্রকাশ করেছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। ওই স্লাইডসহ ফেইসবুকের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ নথির ভিত্তিতে ‘ফেইসবুক ফাইলস’ প্রতিবেদনগুলো প্রকাশ করছিলো মার্কিন দৈনিকটি। জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিশোর বয়সীদের উপর নিজস্ব প্ল্যাটফর্মের নেতিবাচক প্রভাবের বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে জানা থাকলেও বিষয়টি সম্পূর্ণ চেপে গেছে ফেইসবুক।

ছবি: রয়টার্স

রয়টার্স জানিয়েছে, ২০২০ সালের মার্চ-এপ্রিল মাসে “সোশাল কম্প্যারিজন অন ইনস্টাগ্রাম” শিরোনামের ওই গবেষণা প্রকল্পের অংশ ছিলেন ১ লাখ ব্যবহারকারী। নয়টি দেশের নাগরিকরা জরিপে অংশ নেন, যার মধ্যে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া এবং ব্রাজিলের ব্যবহারকারীরাও।

এই প্রসঙ্গে ফেইসবুকের মুখপাত্র কেভিন ম্যাকক্যালিস্টার জানিয়েছেন, জরিপে অংশগ্রহণকারীদের নির্দিষ্ট কোনো অ্যাকাউন্টের নাম নিতে বলা হয়নি। কিন্তু অভ্যন্তরীণ ডেটার ভিত্তিতে গবেষকরা বলছেন, “যারা ইনস্টাগ্রামে সামাজিক তুলনার নেতিবাচক অনুভূতি হওয়ার কথা বেশি বলেছেন তাদের সবচেয়ে বেশি দেখা অ্যাকাউন্টগুলোর মধ্যে ছিলো তারকাদের অ্যাকাউন্টগুলো”।

ফেইসবুক মুখপাত্র বলছেন, ওই তারকাদের প্রত্যেকের ফলোয়ার সংখ্যা তিন কোটির বেশি হওয়ায় গবেষণার ফলাফল এমন হতেই পারে।

তবে, তারকাদের অ্যাকাউন্ট অনুসরণ করার কারণেই ব্যবহারকারীদের মধ্যে হীনমন্যতার অনুভূতি তৈরি হচ্ছে কি না, সেই বিষয়টি তদন্ত করে দেখেননি গবেষকরা।

ফেইসবুকের গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, সামাজিকভাবে নেতিবাচক তুলনার অনুভূতি পরিলক্ষিত হয়েছে যেসব তারকার অনুসারীদের মধ্যে, তাদের মধ্যে আছেন গায়িকা আরিয়ানা গ্রান্ডে আর মডেল কেন্ডল জেনার।

ছবি: রয়টার্স

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রকাশিত স্লাইডে ফেইসবুকের গবেষকরা এটাও উল্লেখ করেছেন যে, তাদের প্রতিষ্ঠানটি ব্যবহারকারীদের উপর এই বিরূপ প্রভাবের মোকাবেলায় ওই তারকাদের সঙ্গেই জোট বাঁধতে পারে।

অন্যদিকে ফেইসবুকের গবেষণার তথ্য বলছে, আমেরিকান কমেডিয়ান এলেন ডিজেনেরিস, অভিনেতা উইল স্মিথ আর ফুটবল তারকা নেইমারের অনুসারীদের মধ্যে নেতিবাচক অনুভূতি ছিলো “তুলনামূলক কম”।

উল্লেখ্য, সামাজিক মাধ্যমে ইনফ্লুয়েন্সারদের জনপ্রিয়তার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছিলো ইনস্টাগ্রাম। নিজস্ব প্ল্যাটফর্মে তারকাদের টানতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে প্ল্যাটফর্মটি।

রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, তারকাদের কাছে সামাজিক মাধ্যম হিসেবে ইনস্টাগ্রামের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন অভিনেতা অ্যাস্টন কুচার। সঙ্গীতশিল্পী আরিয়ানা গ্রান্ডের সঙ্গে ইনস্টাগ্রামের পরিচয়ও করিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।  

ইনস্টাগ্রামের কয়েকজন কর্মীর লিংকডইন প্রোফাইলেন বিবরণ অনুযায়ী, নিজস্ব প্ল্যাটফর্মে তারকা, সংগীতশিল্পী এবং জনপ্রিয় ব্যক্তিদের উপস্থিতি বাড়াতে তাদের সঙ্গে কাজ করে ইনস্টাগ্রামের একদল কর্মী।

রয়টার্স বলছে, সেলিব্রেটিদের কন্টেন্ট বেশি দেখা আর শারীরিক গঠন নিয়ে হীনমন্যতার অনুভূতির মধ্যে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেয়েছিলেন ফেইসবুকের গবেষকরা। প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইনস্টাগ্রামে সাধারণ ব্যবহারকারীরা যে কন্টেন্টগুলো বেশি দেখেন, তার অর্ধেকই আসে বিভিন্ন সেলিব্রেটি বা তারকাদের কাছ থেকে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক