১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

গবেষণার কাজ সহজ করতে ‘প্রিজম’ আনল ওপেনএআই

এ মডেলটি কেবল গবেষণাপত্রের ফরম্যাট করতেই সাহায্য করে না, বরং এর সঙ্গে প্রাসঙ্গিক বৈজ্ঞানিক তথ্য বা নিবন্ধ খুঁজে বের করে সেগুলো গবেষণাপত্রের সঙ্গে যোগও করবে।

গবেষণার কাজ সহজ করতে ‘প্রিজম’ আনল ওপেনএআই
ওপেনএআইয়ের লক্ষ্য, এসব ফিচারের মাধ্যমে বিজ্ঞানী ও অধ্যাপকদের পেশাগত জীবনের একঘেয়ে বা ক্লান্তিকর বিভিন্ন কাজ কমিয়ে আনা। ছবি: ওপেনএআই

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 28 Jan 2026, 07:12 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:48 PM

গবেষক ও বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের জটিল বিভিন্ন কাজকে সহজ করতে নতুন অ্যাপ উন্মোচন করেছে চ্যাটজিপিটি নির্মাতা ওপেনএআই।

‘প্রিজম’ নামের নতুন অ্যাপটি ‘ক্লড কোড’ ও তাদের নিজস্ব ‘কোডেক্স’ প্ল্যাটফর্ম যেভাবে প্রোগ্রামিংয়ের কাজকে সহজ করে দিয়েছে ‘প্রিজম’ও বিজ্ঞান গবেষণার ক্ষেত্রে ঠিক একই রকম বিপ্লব ঘটাবে বলে দাবি কোম্পানিটির।

প্রযুক্তি সাইট এনগ্যাজেট লিখেছে, প্রিজম মূলত ‘ক্রিক্সেট’ নামের ক্লাউডভিত্তিক ‘ল্যাটেক্স’ প্ল্যাটফর্মের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যা মঙ্গলবার কিনে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ওপেনএআই। ল্যাটেক্স হচ্ছে টাইপসেটিং সিস্টেম, যা বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্র ফরম্যাটিংয়ের কাজে ব্যবহৃত হয়।

গোটা বিশ্বের প্রায় সব বিজ্ঞানীই ল্যাটেক্স ব্যবহার করেন। তবে এতে কিছু কাজ, যেমন ‘টিকজেড’ কমান্ড ব্যবহার করে ডায়াগ্রাম বা চিত্র আঁকা বেশ সময়সাপেক্ষ। এ ছাড়া, গবেষণাপত্র প্রকাশের প্রস্তুতির সময় বিজ্ঞানীর প্রয়োজন হয় এমন টুলের মধ্যে ল্যাটেক্স অন্যতম।

এখানেই প্রিজম-এর বিশেষত্ব। আগের ক্রিক্সেট প্ল্যাটফর্মের মতোই এ অ্যাপটিতে শক্তিশালী ল্যাটেক্স এডিটিং সুবিধা ও ইন-বিল্ট এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট রয়েছে। আগে যেখানে ক্রিক্সেট-এর নিজস্ব ‘ক্রিপ এজেন্ট’ ব্যবহৃত হত এখন সেখানে জায়গা করে নিয়েছে ‘জিপিটি-৫.২ থিংকিং’।

ওপেনএআইয়ের একটি প্রেস ডেমোতে দেখা গেছে, এ মডেলটি কেবল গবেষণাপত্রের ফরম্যাট করতেই সাহায্য করে না, বরং কোম্পানিটির একজন কর্মী মডেলটি ব্যবহার করে নিজে গবেষণাপত্রের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক বৈজ্ঞানিক তথ্য বা নিবন্ধ খুঁজে বের করার পাশাপাশি সেগুলো গবেষণাপত্রের সঙ্গে যোগ করছেন। শেষে যেসব তথ্যসূত্র থাকে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিখে দিচ্ছে জিপিটি-৫.২।

ডেমো চলাকালীন চ্যাটজিপিটি ভুল বা ভুয়া তথ্যসূত্র দিতে পারে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ওপেনএআইয়ের বিজ্ঞান বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট কেভিন ওয়েইল বলেছেন, “এআই সব কাজ করে দিলেও সেসব তথ্য ঠিক আছে কি না তা পরীক্ষার মূল দায়িত্ব বিজ্ঞানীদেরই। তবে এআই নিশ্চিতভাবেই গবেষণার পুরো প্রক্রিয়াটি কাজের গতি বাড়িয়ে দিতে পারে।”

একই ডেমোর পরবর্তী অংশে দেখা যায় ওপেনএআইয়ের ওই কর্মী প্রিজম ব্যবহার করে ‘জেনারেল রিয়ালিটিভিটি’ বা সাধারণ আপেক্ষিকতা বিষয়ক একটি গ্র্যাজুয়েট কোর্সের ‘লেসন প্ল্যান’ বা পাঠ পরিকল্পনা তৈরি করছেন। সেইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের সমাধানের জন্য একগুচ্ছ গাণিতিক সমস্যাও তৈরি করে দেখান তিনি।

কোম্পানিটির লক্ষ্য এসব ফিচারের মাধ্যমে বিজ্ঞানী ও অধ্যাপকদের পেশাগত জীবনের একঘেয়ে বা ক্লান্তিকর বিভিন্ন কাজ কমিয়ে আনা, যাতে গবেষণায় বেশি সময় দিতে পারেন তারা।

যাদের ব্যক্তিগত চ্যাটজিপিটি অ্যাকাউন্ট আছে তারা সবাই প্রিজম ব্যবহার করতে পারবেন। এতে আনলিমিটেড প্রজেক্ট তৈরির ও অন্যদের সঙ্গে মিলে কাজের সুবিধা রয়েছে।

শিগগিরই চ্যাটজিপিটির বিজনেস, টিম, এন্টারপ্রাইজ ও এডুকেশন প্ল্যান ব্যবহারকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্যও এ সফটওয়্যারটি চালুর পরিকল্পনা করছে ওপেনএআই। এ ছাড়া, ক্রিক্সেট আলাদাভাবে পাওয়া যাবে না। এখন প্রিজম-এর সঙ্গেই থাকবে।