Published : 22 Mar 2026, 05:07 PM
গেইমিংয়ের জগতে এখন পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ব্যাটারি লাইফও বড় আলোচনার বিষয়। ব্যবহারকারীরা একদিকে শক্তিশালী হার্ডওয়্যার চান, অন্যদিকে চান দীর্ঘ সময় চার্জ ছাড়াই গেইম খেলার সুবিধা। এই দুইয়ের ভারসাম্য খুঁজতেই বাজারে একসঙ্গে বাড়ছে পোর্টেবল ডিভাইস ও উচ্চক্ষমতার গেইমিং ল্যাপটপের চাহিদা।
এসব নিয়েই এক বিভিন্ন ল্যাপটপ মডেলের এক তুলনামূলক বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে প্রযুক্তি সাইট স্ল্যাশগিয়ার।
পোর্টেবল গেইমিং ডিভাইস যেমন স্টিম ডেক ওএলইডি বা লেনোভো লিজিয়ন গো কম খরচে চলতে-ফিরতে গেইম খেলার সুযোগ এনে দিয়েছে। তবে এগুলোর পারফরম্যান্স ও ডিসপ্লে রেজুলিউশন এখনও বড় গেইমিং সেটআপের তুলনায় সীমিত। দীর্ঘ সময় ব্যাটারিতে চালানোর সুবিধা দিতে গিয়ে এসব ডিভাইসে ইচ্ছাকৃতভাবে এমন ভারসাম্য রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, যারা পারফরম্যান্সে ছাড় দিতে চান না, তারা ঝুঁকছেন গেইমিং ল্যাপটপের দিকে। বিশেষ করে রেজার ব্লেড ১৬-এর মতো নতুন প্রজন্মের ডিভাইসগুলোতে এখন পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ব্যাটারি দক্ষতাও বাড়ানোর চেষ্টা দেখা যাচ্ছে।
বেঞ্চমার্ক ফলাফলও সেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। পিসি গেইমার ম্যাগাজিনের ‘পিসি মার্ক ১০’ লোড টেস্টে দেখা গেছে, এই ল্যাপটপটি টানা ১৩৫ মিনিট পর্যন্ত চালু থাকতে পারে। তুলনায় অরাস মাস্টার ১৬ চলে ১০২ মিনিট, আর আরটিএক্স ৪০৯০ গ্রাফিক্সযুক্ত লেনোভো লিজিয়ন ৯ টিকে থাকে মাত্র ৪১ মিনিট।
তবে এই পারফরম্যান্সের জন্য খরচও কম নয়। রেজার ব্লেড ১৬-এর বেস মডেলের দাম শুরু হয়েছে ২ হাজার ৩৯৯ ডলার থেকে। এতে রয়েছে রাইজেন এআই ৯ ৩৬৫ প্রসেসর, জিফোর্স আরটিএক্স ৫০৬০ ৮ জিবি গ্রাফিক্স, ১৬ জিবি র্যাম এবং ১ টেরাবাইট স্টোরেজ।
তবে ভারী গেইমের জন্য ৮ জিবি গ্রাফিক্স মেমোরি সব সময় যথেষ্ট নাও হতে পারে। ১৬ জিবি’র আরটিএক্স ৫০৮০ সংস্করণে যেতে চাইলে অতিরিক্ত প্রায় ১ হাজার ১০০ ডলার খরচ করতে হবে।
ব্যাটারি লাইফ বাড়াতে রেজার হার্ডওয়্যারের আকার বা ওজন বাড়ানোর পথে যায়নি। ২০২৫ সালের মডেলটি আগের বছরের তুলনায় ৭ মিলিমিটার পাতলা, এমনকি ব্যাটারির ক্ষমতাও কমিয়ে ৯০ ওয়াট আওয়ার করা হয়েছে।
তাহলে উন্নতি এলো কীভাবে?
মূল পরিবর্তন এসেছে গ্রাফিক্স প্রসেসিং ও পাওয়ার ম্যানেজমেন্টে। নতুন আরটিএক্স ৫০ সিরিজের জিপিইউ কম ক্লক স্পিডেও আগের মতো পারফরম্যান্স দিতে পারে, ফলে শক্তি কম খরচ হয় এবং তাপ হিসেবে অপচয়ও কমে।
এ ছাড়া আধুনিক জিপিইউ কাজের চাপ কম থাকলে কিছু অংশ ‘স্লিপ মোডে’ রাখতে পারে। ভোল্টেজ অপ্টিমাইজড জিডিডিআর৭ মেমোরিও শক্তি সাশ্রয়ে ভূমিকা রাখছে।
ল্যাপটপটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিফ্রেশ রেট ৬০ থেকে কমিয়ে ৩০ ফ্রেম প্রতি সেকেন্ডে নামিয়ে আনে, যখন উচ্চমানের গ্রাফিক্স প্রসেসিং প্রয়োজন হয় না। এতে ব্যাটারির ব্যবহার আরও কমে।
ব্যবহারকারীরা চাইলে পারফরম্যান্স ও ব্যাটারির মধ্যে নিজের মতো ভারসাম্যও ঠিক করতে পারেন। গেইম ছাড়া সাধারণ কাজের ক্ষেত্রে এই ল্যাপটপ প্রায় সাত ঘণ্টা পর্যন্ত চলতে পারে, যা অনেকের জন্য একটি পূর্ণ কর্মদিবসের কাছাকাছি।
স্ল্যাশগিয়ারের বিশ্লেষণে বিভিন্ন উচ্চক্ষমতার গেইমিং ল্যাপটপের রিভিউ ও বেঞ্চমার্ক তুলনা করে ব্যাটারি পাওয়ারে গেইম খেলার ক্ষেত্রে রেজার ব্লেড ১৬-কে এগিয়ে রাখা হয়েছে।