Published : 14 Jun 2026, 11:18 PM
১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রত্যাখান করলে দেশে গৃহযুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা ছিল বলে মনে করেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান।
তিনি বলেছেন, “প্রায় ১৭ বছর পর একটা অর্থবহ নির্বাচন হবে, জাতি আশা করেছিল। আমার ব্যক্তিগত মত হচ্ছে, নির্বাচন খুব সুন্দর হয়েছিল। কিন্তু ফলাফলটা সুন্দর হয়নি। ফলাফলের ক্ষেত্রে অনেক কিছু করা হয়েছে, এটা অনেকে এখন স্বাকীর করছেন। তারপরও আপনাদের প্রশ্ন থাকতেই পারে, আমরা কেন ফলাফল মেনে নিয়েছি? আমরা মেনে নিয়েছি দেশ এবং জাতির বৃহত্তর স্বার্থকে সামনে রেখে।
“সারা দুনিয়ায় কী ঘটছে, এগুলোর দিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হয়। দুনিয়ার যেসব জায়গায় একবার গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছে, এই জায়গা থেকে তারা আর বের হতে পারছেন না। আমরা যদি ১২ ফেব্রুয়ারির এই নির্বাচনকে প্রত্যাখান করতাম, আমাদের আশঙ্কা ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হত। এটা এই জাতিকে কোথায় নিয়ে যেত তা আল্লাহ জানেন। এটা আমাদের আশঙ্কা, এটা নাও হতে পারত। আমরা দেশপ্রেমিক মানুষের দায়িত্ব হল, যেখানে সন্দেহ সেটাকে এড়িয়ে চলা, সন্দেহের এই জায়গা খুবই তীব্র ছিল। হিসাব-নিকাশের এই জায়গাটা স্পষ্ট।”
রোববার রাতে সিলেট সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ে গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির বলেন, “বেনজীরকে আটক দেশের পুলিশের কৃতিত্ব নয়, এটা ইন্টারপোলের কৃতিত্ব। তার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্টও বর্তমান সরকার জারি করেনি। তবে বেনজীর আটক বাংলাদেশের একটা অর্জন। কিন্তু তিনি দুবাইর কারাগারে থাকবেন নাকি দেশে আনা হবে তা সরকারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে।”
সীমান্তে অব্যাহত উত্তেজনা প্রসঙ্গে জামায়াত নেতা বলেন, “ওপার থেকে উসকানি দেওয়া হচ্ছে। আমরা দুই দুইবার স্বাধীন হলাম। কিন্তু প্রকৃত স্বাধীনতা পেলাম কী? জাতির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে আমরা কোনো আপোষ করব না।”
এ সময় গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে রামের বিগ্রহ নির্মাণ কাজ স্থগিত করা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, “উসকানির সৃষ্টি হয় এমন কোনো কাজ আমরা মেনে নেব না। সেটা যদি মুসলমানরা করে, তাও মেনে নেব না। অন্য ধর্মের কেউ করলেও মেনে নেব না। এ দেশ আমাদের সবার। যেটা করলে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা হয় সেটা করতে হবে। সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।”