Published : 14 Jun 2026, 11:03 PM
প্রতিপক্ষের কাউকে দেখে অস্ট্রেলিয়ার ভড়কে যাওয়ার নজির খুব একটা নেই। তবে শেষ ম্যাচের একাদশে নাহিদ রানার নামটি দেখে একটু স্বস্তি অন্তত পাওয়ার কথা। প্রথম ম্যাচে তরুণ এই ফাস্ট বোলারের সামনে ভোগান্তি তো কম হয়নি তাদের। কিন্তু তার জায়গায় যে পেসার খেললেন, সেই শরিফুল ইসলাম আরও বেশি ভোগালেন অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানদের।
কুপার কনোলির ১৪৯ রানের অসাধারণ ইনিংসের পরও বাংলাদেশ যে ম্যাচটি জমিয়ে তুলতে পেরেছিল, তা ওই শরিফুলের সৌজন্যেই। বাঁহাতি পেসার ৪৮ রানে নিয়েছেন ৬ উইকেট।
বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডেতে ৬ উইকেট নিয়েছেন আগেও চার জন। কিন্তু হারের অনাকাঙ্ক্ষিত অভিজ্ঞতা হলো কেবল শরিফুলের।
কিন্তু এমন লড়াইয়ের পর দল যেমন মাথা উঁচু করে মাঠ ছাড়তে পারে, শরিফুলও তেমনি নিজের পারফরম্যান্সে গর্ব খুঁজে নিতে পারেন।
তাকে নিয়ে সেই গর্ব ঠিকই করছেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। দারুণ পারফর্ম করলেও একাদশে নিয়মিত জায়গা পান না তিনি। পেস বোলিংয়ে এখন প্রতিযোগিতা এতটাই তীব্র। গত সিরিজে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের শুরুতে তার খেলার কথা ছিল না। মুস্তাফিজুর রহমান শেষ মুহূর্তে চোট পাওয়ায় তিনি একাদশে ঢুকে যান। দুর্দান্ত বোলিংরে তিন ম্যাচে উইকেট নেন পাঁচটি। তবু এই সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে তিনি ছিলেন দর্শক। শেষ ম্যাচে সুযোগ পেয়ে আরেক দফায় চেনালেন নিজের জাত।
নিয়মিত না খেলেও ভালো করা কতটা কঠিন, তা বোঝেন বলেই শরিফুলের প্রশংসা করলেন মিরাজ।
“শরিফুল অবশ্যই অনেক ভালো বোলিং করেছে। একজন খেলোয়াড়ের জন্য এ রকম ‘অন অ্যান্ড অফ’ খেলাটা অনেক কঠিন। ও (শরিফুল) পারফর্ম করছে। সবশেষ সিরিজে (নিউ জিল্যান্ড সিরিজ) ভালো বোলিং করেছে এবং আজকেও (রোববার) ভালো বোলিং করেছে।”
“রানা প্রথম দিকে (প্রথম দুই ওয়ানডে) খেলেছে, ভালো বোলিং করেছে। শরিফুল সুযোগ পাচ্ছিল না। সে নিজেকে প্রমাণ করেছে ভালো জায়গায়, ভালো উইকেট নিতে পারি।”
সাম্প্রতিক সময়ের নিয়মিত চিত্রই অবশ্য এটি। পেস আক্রমণের নামগুলোর মধ্যে কেউ বদলে গেলেও আক্রমরণের ধার কমে না। পেসারদের মধ্যে এই তাড়না তৃপ্তি দিচ্ছে অধিনায়কে।
“আমার কাছে মনে বোলিং ইউনিটের সবার মধ্যে ক্ষুধা আছে। যে যখনই সুযোগ পাচ্ছে, কামব্যাক করার চেষ্টা করছে। দলের জন্য অবদান রাখার চেষ্টা করছে। এটা দলের জন্য ইতিবাচক দিক এবং দলের জয়ে সাহায্য করে। এ রকম বোলিং ইউনিট থাকলে দলের জন্য বেশিরভাগ ম্যাচ জয়ের জন্য অনেক বেশি সুযোগ থাকে। যেটা আমাদের হয়েছে।”
পেসারদের মতো মধুর এই প্রতিযোগিতা দলের সব বিভাগের সবার মধ্যেই দেখতে পাচ্ছেন মিরাজ। সামনে তাকিয়ে তাই আশার রসদও পাচ্ছেন অধিনায়ক।
“প্রত্যেকটা পজিশনেই এই (পেস বোলিং ইউনিটের মতো) প্রতিযোগিতা আছে। প্রত্যেকটা পজিশনে যদি প্রত্যেক খেলোয়াড়ের সঙ্গে পারফর্ম করা নিয়ে প্রতিযোগিতা থাকে, তাহলে এটা দলের জন্য ভালো। সবার মধ্যে ভালো করার ক্ষুধা থাকবে পারফর্ম করার জন্য।”
“আপনি যদি নিয়মিত পারফর্মার হতে চান, তাহলে ওই ক্ষুধাটা থাকতে হবে। আমার মনে হয় প্রত্যেকটা খেলোয়াড়ের সেই ক্ষুধাটা আছে এবং ওভাবেই নিজেকে প্রস্তুত করছে।”