Published : 02 Sep 2025, 03:51 PM
ইন্টারনেটের এই যুগে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে পড়াই যেন স্বাভাবিক। এত তথ্যের ছড়াছড়িতে কোনটা আসল আর কোনটা ভুয়া এ নিয়ে ব্যবহারকারীদের যখন হাসফাঁস অবস্থা তখন প্রচলিত কিছু অতি সাধারণ প্রযুক্তিগত ভুল ধারণার কথা মনে করিয়ে দিয়েছে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার রিভিউ সাইট।
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সাড়ে তিনশ জনের ওপর চালানো এক জরিপে উঠে এসেছে কিছু তথ্য। যেখান থেকে উঠে এসেছে কোন কোন প্রযুক্তিগত ভুয়া ধারণায় মানুষ সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করে।
জরিপ চালানো হাইস্পিডইন্টারনেট ডটকমের গবেষক ভিক্টোরিয়া মেরিন্ডা বলেন, “আমাদের তালিকার কিছু মিথ সত্যিই হাস্যকর, তবে অনেক মিথ আছে যেগুলো ইন্টারনেটে ঘোরাফেরা করে যেখানে কিছুটা সত্যি আর কিছুটা ভুল তথ্য মিশে থাকে। জরিপে অংশ নেওয়া ১২ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন যে কোনো কিছু একবার ডিভাইস থেকে ডিলিট হলে তা চিরতরে হারিয়ে যায়। বিষয়টি আমাকে সত্যিই বিস্মিত করেছে। অথচ বাস্তবে হার্ডড্রাইভ থেকে কিছুই পুরোপুরি মুছে যায় না। এটি ছিল সেই বহু ভুল ধারণার মধ্যে একটি।”
১. সারারাত ফোন চার্জে রাখলে ব্যাটারি নষ্ট হয়
প্রচরিত একটি ধারণা রয়েছে যে স্মার্টফোন সারারাত চার্জে দিলে এর ব্যাটারির কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। তবে বাস্তবতা তা নয়। আধুনিক স্মার্টফোন এতটাই উন্নত যে এগুলো নিজেরাই ওভারচার্জিং ঠেকাতে পারে।
স্মার্টফোন ব্যাটারি যতো যত্ন করেই চার্জ করা হোক না কেন, এগুলো আয়ু সীমিত। বর্তমানে ব্যবহৃত ব্যাটারিগুলো সাধারণত চারশ থেকে পাঁচশ চার্জ সাইকেল পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এরপর থেকেই ধীরে ধীরে দিনের বেলায় ব্যাটারির স্থায়িত্ব কমতে শুরু করে।
আজকের লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারিতে এ সম্পর্কিত সমস্যা নেই। তবে ব্যাটারির সর্বোচ্চ স্থায়িত্ব পেতে চাইলে সেটি ৪০ থেকে ৮০ শতাংশ চার্জের মধ্যে রাখাই ভালো বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সাইট হাও স্টাফ ওয়ার্কস।
২. এয়ারপোর্টের এক্স-রে মেশিন ডিভাইসের ফাইল মুছে দিতে পারে
এক্স-রে আমাদের শরীর ভেদ করে হাড়ের ছবি তুলতে পারে এজন্য অনেকেই মনে করেন এয়ারপোর্টের নিরাপত্তা এক্স-রে মেশিন ল্যাপটপ বা স্মার্টফোনের ফাইল বিকিরণের কারণে চিরতরে নষ্ট করে দিতে পারে। কিন্তু আসলে তা একেবারেই সত্য নয়।
এক্স-রে যদিও এক ধরনের ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক শক্তি আর আমাদের ডিভাইসগুলোও জটিল ইলেকট্রনিক্স, তবু হার্ডড্রাইভ বা ফ্ল্যাশ মেমোরি কার্ড এক্স-রের মাধ্যমে প্রভাবিত হয় না। কারণ এক্স-রে-তে কোনো চৌম্বকীয় চার্জ নেই, আর কম্পিউটার বা স্মার্টফোনে এমন কোনো উপাদান নেই যা আলো বা এক্স-রের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তবে, ফটোগ্রাফারদের জন্য ঝুঁকি থেকেই যায়। ফটোগ্রাফির রোল ফিল্ম বিশেষত আইএসও ৮০০ বা তার বেশি গতির ফিল্ম এক্স-রের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যদিও বর্তমানে ফিল্মে ছবি তোলেন এমন মানুষের সংখ্যা অনেক কম।
৩. বেশি মেগাপিক্সেল মানেই ভালো ছবি
ডিজিটাল ক্যামেরা বাজারে আসার শুরুর দিকে প্রস্তুতকারকরা প্রতিযোগিতায় নেমেছিল কে কত বেশি মেগাপিক্সেল দিতে পারে। এক মেগাপিক্সেল মানে হলো এক মিলিয়ন ছোট ছোট পিক্সেল যা ডিজিটাল ছবির একএকটি বিন্দু।
তবে সত্য হলো শুধু বেশি মেগাপিক্সেল থাকা মানেই যে ছবি ভালো আসবে তা নয় বরং প্রতিটি পিক্সেলের গুণগত মান বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বড় আকারের পিক্সেল আলো ধরতে সহজ করে ফলে ডাইনামিক রেঞ্জ, রঙের নিখুঁততা এবং অল্প আলোতে ছবি তোলার সক্ষমতা বাড়ে। তবে ছোট সেন্সরে বেশি সংখ্যক পিক্সেল গুঁজে দিলে ছবির মান উল্টো কমে যেতে পারে।
৪. প্রতিদিন রাতে কম্পিউটার বন্ধ করলে সক্ষমতা বাড়ে
শুরুর দিকের কম্পিউটারগুলো খুব নির্ভরযোগ্য ছিল না। হার্ডড্রাইভ হঠাৎ করে নষ্ট হয়ে ডেটা হারানোর ঘটনাও ঘটত। তাই ব্যবহারকারীরা রাতের বেলা কম্পিউটার বন্ধ রাখার অভ্যাস গড়ে তুলেছিলেন যেন ডিভাইস দীর্ঘদিন টেকে।
কিন্তু আজকের কম্পিউটার তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য। দিনে একাধিকবার ব্যবহার করলে বা সকাল-রাতে প্রয়োজন হলে কম্পিউটার সারাক্ষণ চালু রেখে শুধু স্লিপ মোডে পাঠানোই ভালো।
রাতে বন্ধ করলে খুব একটা বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয় না, বরং প্রতিদিন বন্ধ-চালু করার ঝামেলাই বেশি। তবে মাঝে মাঝে যেমন সপ্তাহে একবার কম্পিউটার রিবুট করলে তা মেমোরি ফ্রেশ করে এবং অপ্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেয়।
৫. অ্যাপল কম্পিউটার ভাইরাসে আক্রান্ত হয় না
কম্পিউটারের বাজারে শুরুর দিকে এ ধারণায় কিছুটা সত্যতা ছিল যে ম্যাক কম্পিউটার সহজে ভাইরাস বা ম্যালওয়্যারে আক্রান্ত হয় না। কারণ তখন বাজারের ৯০ শতাংশেরও বেশি ছিল উইন্ডোজ-ভিত্তিক পিসি আর হ্যাকাররা মূলত সেখানেই আক্রমণ চালাত।
বর্তমানে উইন্ডোজ এখনো বিশ্বব্যাপী প্রায় ৭৬ শতাংশ বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে তবে অ্যাপলের ব্যবহারও বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩ শতাংশে। অর্থাৎ এখন ম্যালওয়্যার ডেভেলপাররা ম্যাক ব্যবহারকারীদের আক্রমণ করতে পারে।
ম্যাক কম্পিউটার আসলেই কিছু বিশেষ নিরাপত্তা ফিচার নিয়ে আসে যা অন্যান্য পিসিতে থাকে না। কিন্তু এর মানে এই নয় যে হ্যাকাররা ম্যাকের জন্য ম্যালওয়্যার তৈরি করতে পারবে না। তাই ম্যাক বা উইন্ডোজ যেটাই ব্যবহার করুন না কেন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবশ্যই অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার করা এবং নিয়মিত আপডেট করা জরুরি।