Published : 30 Jan 2026, 01:40 PM
বর্তমানে আমাদের ডিজিটাল জীবনে স্মার্টফোন অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়ালেও এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে স্প্যাম মেসেজের উপদ্রব। অনেক সময় মানুষ না বুঝে অপরিচিত নম্বর থেকে আসা মেসেজের উত্তর দেন। এ রিপ্লাই কারো ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও প্রাইভেসিকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
প্রযুক্তি সাইট স্ল্যাশগিয়ার লিখেছে, বর্তমানে স্প্যামের ভারে নুয়ে পড়ছে স্মার্টফোন, ইমেইলের ইনবক্স ও সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন মেসেজ বক্স। মানুষকে ফাঁদে ফেলার জন্য প্রতিনিয়ত আরও উন্নত ও চতুর কৌশল তৈরি করছে প্রতারকরা। যার মধ্যে টেক্সট মেসেজের মাধ্যমে প্রতারণা অন্যতম।
মার্কিন ‘ফেডারেল ট্রেড কমিশন’ বা এফটিসি বলেছে, ২০২৪ সালের সবচেয়ে সাধারণ কিছু মেসেজ স্ক্যাম ছিল ভুয়া চাকরির অফার ও পার্সেল ডেলিভারি সংক্রান্ত মিথ্যা নোটিশ। এগুলো তাও কিছুটা চেনা যায়। তবে এর চেয়েও ভয়ঙ্কর ও সুক্ষ্ম কৌশল হচ্ছে ‘ভুয়া নম্বর’ সাজিয়ে কথা বলা শুরু করা।
‘ইউনাইটেড স্টেটস সিনেট ফেডারেল ক্রেডিট ইউনিয়ন’ বলেছে, সাধারণ একটি ‘হাই, কেমন আছেন?’ টেক্সট মেসেজের ফলাফল হতে পারে সুদূরপ্রসারী ও দীর্ঘস্থায়ী। বিষয়টি আপাতদৃষ্টিতে নিরীহ আলাপের শুরু মনে হলেও অপরিচিত নম্বর থেকে আসা এ ধরনের মেসেজ অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে।
এসব মেসেজের সবচেয়ে ধূর্ত দিক হচ্ছে এগুলোকে খুব সাধারণ কোনো ‘ভুল নম্বরে আসা মেসেজ’ বলে মনে হয় এবং অনেক সময় এমনটি সত্যিও হতে পারে। তবে কেউ যদি একজন স্প্যামারের কবলে পড়েন তবে উত্তর দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সে বুঝে যাবে যে এ ফোন নম্বরটি সচল বা ব্যবহৃত হচ্ছে।
কারো উত্তরের ধরন দেখে স্প্যামাররা এও বুঝতে পারে, সে অমায়িক বা বন্ধুসুলভ ও কথা বলতে ইচ্ছুক কি না। স্প্যাম মেসেজের মাধ্যমে সাইবার আক্রমণ চালিয়ে যাওয়ার জন্য হ্যাকারদের কাছে এ তথ্যগুলো গুরুত্বপূর্ণ।
স্প্যাম মেসেজের উপদ্রব
শুরুতে বিষয়টি খুব একটা বিপজ্জনক নয়। কারণ, ইমেইলের মাধ্যমে আসা এসব প্রতারণা অনেক সময় দেখেই বোঝা যায়, যেমন এমন কোনো প্রতিযোগিতায় হাজার ডলার জেতার খবর, যেখানে কেউ হয়ত অংশই নেবেন না। তবে স্প্যাম টেক্সট যখন কেবল সাধারণ সম্ভাষণ বা সালাম দিয়ে শুরু হয় তখন অনেকেই তা খুব একটা বিপদ আঁচ করতে পারেন না।
আসলে ভুল নম্বরে কল বা মেসেজ আসাটা খুব অস্বাভাবিক কিছু নয়। ফলে মানুষ সৌজন্যবশত উত্তর দিয়ে থাকেন যে, “আপনি যাকে খুঁজছেন, আমি সেই ব্যক্তি নই।” আর এ সাধারণ সৌজন্যটুকুই প্রতারকদের জন্য বড় সুযোগ হয়ে দাঁড়ায়।
এমনটি সাধারণ কোনো ভুল হলে কথা সেখানেই শেষ হয়ে যায়। তবে তা স্প্যাম হলে এ মেসেজের উত্তর দেওয়ার মানে, কারো ব্যক্তিগত যোগাযোগের তথ্য এখন সেই প্রতারকের হাতের মুঠোয়। সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এমনটি প্রায়ই ঘটে, যেখানে কেবল এক মুহূর্তের অসতর্কতা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
সাইবার নিরাপত্তা সেবাদাতা কোম্পানি ‘নর্টন’ বলেছে, প্রতারকদের জন্য মানুষের এসব তথ্য অত্যন্ত মূল্যবান। এসব তথ্য অন্যান্য স্প্যামার বা অপরাধী চক্রের কাছে বিক্রি করে দিতে পারে তারা। এ ভয়েই এখন অনেকে অপরিচিত নম্বর থেকে আসা কোনো যোগাযোগে সাড়া দিতে চান না। বাস্তবেও এমনটিই ঘটছে।
‘ট্রানজ্যাকশন নেটওয়ার্ক সার্ভিসেস’-এর ২০২২ সালের এক জরিপ বলছে, ৭৫ শতাংশ মানুষ অপরিচিত নম্বর থেকে আসা কল ধরেন না।
তবে এ ফাঁদে পা না দেওয়ার জন্য ‘স্মিশিং’ ও ‘স্প্যাম মেসেজ’ চেনার এবং সেগুলো বন্ধের বেশ কিছু কার্যকর উপায় রয়েছে।