Published : 30 Apr 2026, 05:13 PM
তীব্র শ্রমিক সংকট ঠেকাতে অভিনব পরীক্ষা শুরু করছে জাপান। বিমানবন্দরে মালপত্র টানা ও কেবিন পরিষ্কারের মতো কঠিন কাজগুলোতে চীনা প্রযুক্তির হিউম্যানয়েড রোবট নিয়োগ দিচ্ছে দেশটি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান লিখেছে, জাপানের টোকিও’র হানেদা বিমানবন্দরে পর্যটকদের রেকর্ড ভিড় সামলাতে মানুষের পাশাপাশি এ রোবট কর্মীরা জাপানের ভবিষ্যৎ ভরসা হতে পারে। তবে এ নতুন কর্মীদের মাঝেমধ্যেই ‘চার্জিং ব্রেক’ এর প্রয়োজন হবে।
মে মাসের শুরু থেকেই জাপান এয়ারলাইন্স বা জেএএল পরীক্ষামূলকভাবে হিউম্যানয়েড রোবট চালু করতে যাচ্ছে। দেশটির তীব্র শ্রমিক সংকট মেটাতে স্থায়ী সমাধান হিসেবে এসব রোবট ব্যবহারের পরিকল্পনা হয়েছে।
চীনের তৈরি এসব রোবট হানেদা বিমানবন্দরের টারমাক বা রানওয়ে এলাকায় যাত্রীদের মালপত্র এবং কার্গো স্থানান্তরের কাজ করবে। এ বিমানবন্দরটি দিয়ে বছরে ৬ কোটিও বেশি যাত্রী যাতায়াত করে।
জাপান এয়ারলাইন্স ও তাদের সহযোগী কোম্পানি ‘জিএমও ইন্টারনেট গ্রুপ’ আশা করছে, ২০২৮ সাল পর্যন্ত চলা এ পরীক্ষার মাধ্যমে কর্মীদের কাজের বোঝা অনেকটাই কমবে, বিশেষ করে পর্যটকদের সংখ্যা বেড়ে গেলে এবং ভবিষ্যতে শ্রমিক সংকটের আশঙ্কার মুখে এ উদ্যোগটি বড় ভূমিকা রাখবে।
এ সপ্তাহে সংবাদমাধ্যমের জন্য আয়োজিত এক প্রদর্শনীতে দেখা গিয়েছে, চীনের হ্যাংজুভিত্তিক কোম্পানি ‘ইউনিট্রি’র তৈরি ১৩০ সেন্টিমিটার উচ্চতার এক রোবট বেশ সতর্কতার সঙ্গে যাত্রীবাহী প্লেনের পাশে কনভেয়ার বেল্টে কার্গো বা মালপত্র ঠেলছে এবং একজন সহকর্মীর উদ্দেশ্যে হাত নাড়ছে।
‘কিয়োদো নিউজ এজেন্সি’র তথ্য অনুসারে, জেএএল গ্রাউন্ড সার্ভিসের প্রেসিডেন্ট ইয়োশিতারু সুজুকি বলেছেন, শারীরিকভাবে কষ্টকর বিভিন্ন কাজে রোবট ব্যবহার করলে ‘অবশ্যই কর্মীদের ওপর থেকে চাপের বোঝা কমবে, যা তাদের জন্য বড় ধরনের সুবিধা বয়ে আনবে।”
তবে সুজুকি স্পষ্ট করেছেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার মতো কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ মানুষই চালিয়ে যাবে।
জাপান বর্তমানে একদিকে বিদেশি পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়, অন্যদিকে বয়স্ক জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমে যাওয়ার মতো উভয় সংকটের মুখে পড়েছে।
জাপানের জাতীয় পর্যটন সংস্থার তথ্য অনুসারে, গত বছর রেকর্ড ৪ কোটি ২৭ লাখ পর্যটক জাপানে এসেছিলেন। টোকিও ও বেইজিংয়ের মধ্যে কূটনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে চীন থেকে আসা পর্যটকের সংখ্যা কিছুটা কমলেও ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসেই ৭০ লাখেরও বেশি মানুষ দেশটি ভ্রমণ করেছেন।
জাপানের নিজস্ব কর্মক্ষম জনসংখ্যা ক্রমাগত কমতে থাকায় ২০৪০ সালের মধ্যে নির্ধারিত প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা পেতে দেশটিতে ৬৫ লাখেরও বেশি বিদেশি শ্রমিকের প্রয়োজন হবে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাপানে বিদেশি জনসংখ্যার হার নাটকীয়ভাবে বেড়েছে, তবে, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে রাখতে বর্তমানে দেশটির সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে।
‘জিএমও এআই অ্যান্ড রোবটিক্স’ এর প্রেসিডেন্ট তোমোহিরো উচিদা বলেছেন, “বাইরে থেকে বিভিন্ন বিমানবন্দরকে বেশি স্বয়ংক্রিয় এবং আধুনিক মনে হলেও এর পেছনের কাজগুলো এখনও কায়িক শ্রমের ওপর নির্ভরশীল। আর ঠিক এখানেই আমরা মারাত্মক শ্রমিক সংকটের মুখে পড়ছি।”
এসব রোবট টানা দুই থেকে তিন ঘণ্টা কাজ করতে পারে। বিভিন্ন কোম্পানি পরিকল্পনা করছে, ভবিষ্যতে মালপত্র টানার পাশাপাশি এগুলোকে প্লেনের কেবিন পরিষ্কারের মতো অন্যান্য কাজেও ব্যবহার করা হবে।