Published : 13 Jun 2026, 04:24 PM
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে গর্ভবতী নারীসহ উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার পাটগাতী ইউনিয়নের পাটগাতী মধ্যপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান টুঙ্গিপাড়া থানার ওসি আইয়ুব আলী।
আহতেরা হলেন- গর্ভবতী আমেনা বেগম (২৫), রাজিয়া বেগম (৫৫), হুসাইন লস্কর (৩২), সাইদ হাসান (২২), ফাতেমা বেগম (৫০), সারমিন আক্তার (২৫), রাসিদা বেগম (৪০), বাক প্রতিবন্ধী ফজর ওস্তা (১৩), রূপপবান বেগম (৫০)। আহতরা গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বদরুল ওস্তার পরিবারের সঙ্গে মহিবুল্লাহ ওস্তার পরিবারের বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় হটাৎ দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে সংঘর্ষ বন্ধ হয়।
মহিবুল্লাহ ওস্তার চাচাতো ভাই হুসাইন লস্কর বলেন, “জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ১ ফেব্রুয়ারি আমার চাচি নাহিদা বেগমকে হাতুড়ি পেটা করে হত্যা করে প্রতিপক্ষের লোকজন। সেই মামলায় বদরুল ওস্তা ২ নম্বর আসামি।
“সম্প্রতি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর আমাদের দোকানের সামনে দিয়ে যাওয়া-আসার পথে নানা রকম হুমকি দেন বদরুল। ঘটনার দিন বদরুলের মেয়ে নানা রকম বকাঝকা শুরু করেন। প্রতিবাদ করায় বদরুল ওস্তা বাড়িতে এসে আমার গর্ভবতী স্ত্রীর পেটে লাথি মারেন। চিৎকার শুনে এগিয়ে গেলে আমাদেরও মারধর করা হয়। পরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।”
পাল্টা অভিযোগ করে বদরুল ওস্তা বলেন, “মহিবুল্লাহদের জমি নিয়ে বিরোধ কাদের ওস্তার সঙ্গে। কিন্তু হত্যা মামলায় আমার নামও জুড়ে দিয়েছে। দীর্ঘদিন পালিয়ে থেকে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে আসার পর আমাকে আটকানোর জন্য এ নাটক সাজিয়েছে।
“মূলত আমার মেয়েকে তারা মারধর করছিল। খবর পেয়ে বাড়িতে আসার পর দেখি ওরা আমার স্ত্রীর চুল ধরে টেনে নিয়ে মারধর করছে। পরে তারা আমাকে দেখার পর যার যার মত চলে যায়। এতে আমার স্ত্রী, মেয়েসহ পাঁচজন আহত হয়েছে।”
ওসি আইয়ুব আলী বলেন, এ ঘটনায় দুই পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।