Published : 08 Feb 2026, 05:35 PM
শীতকালীন অলিম্পিকের জন্য বিশেষ ধরনের পোশাক তৈরি করেছে স্পোর্টসওয়্যার নির্মাতা আডিডাস, যা ভেতর থেকে অ্যাথলেটদের শরীর গরম রাখবে।
ব্রিটিশ পত্রিকা ইন্ডিপেনডেন্ট লিখেছে, বাইরে থেকে দেখতে এ ‘ক্লাইমাওয়ার্ম সিস্টেম’ পোশাকটি সাধারণ ট্র্যাকসুটের মতোই। তবে এর ভেতরের দিকে বেশ কিছু ‘হিটিং প্যাড’ বসানো রয়েছে।
এগুলো মূলত দেহের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পেশির ওপর কাজ করে। যার লক্ষ্য, ‘ওয়ার্ম আপ’ বা শরীরচর্চা শেষ করার পরও অ্যাথলেটদের শরীরের তাপমাত্রা যেন ঠিক পর্যায়ে থাকে তা নিশ্চিত করা।
অনেক বছর ধরে এ ধরনের প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে জার্মান বহুজাতিক কোম্পানিটি।
কোম্পানিটির অ্যাথলেট পারফরম্যান্স ডিরেক্টর মার্গারিটা রাকিউগ্লিয়া বলেছেন, ২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিকেও সাইক্লিস্টদের জন্য এ ধরনের ব্যবস্থা চালু করেছিলেন তারা, যাতে তাদের বিভিন্ন পেশি সর্বোচ্চ শক্তি দেখানোর লক্ষ্যে উপযোগী তাপমাত্রায় থাকে।
তবে এখন বিশেষ করে শীতকালীন অলিম্পিকের জন্য এ পোশাকের নতুন এক সংস্করণ তৈরি করেছে তারা। হিমাঙ্কের নিচের বা শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম তাপমাত্রায় অ্যাথলেটদের সেরা পারফরম্যান্সের চ্যালেঞ্জ ঠেকাতে সাহায্য করবে এই পোশাক।
পোশাকটির বিভিন্ন হিটিং প্যাড নির্দিষ্টভাবে দেহের সেসব পেশির ওপর কাজ করে যেগুলোকে গরম রাখা জরুরি। এ ছাড়া এতে ‘বুস্ট’ মোডের মতো কিছু বাড়তি সুবিধাও রয়েছে, যা অতিরিক্ত ঠান্ডার সময় কাজে লাগে।
রাকিউগ্লিয়া বলেছেন, এ সিস্টেমটি অ্যাথলেটদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার ভিত্তিতে তৈরি করেছে কোম্পানিটি।
“শারীরবৃত্তীয় দিক থেকে আমাদের কতটুকু তাপমাত্রা দেওয়া প্রয়োজন সে তথ্য আমাদের কাছে আছে। তবে তাদের ব্যক্তিগত অনুভূতি বা অভিজ্ঞতার কথা জানা বিষয়টিও আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল।”
পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে প্রায় দেড় বছর সময় লেগেছে।
শীতকালীন অলিম্পিকের পরিবেশ এ ধরনের প্রযুক্তির জন্য বেশ প্রতিকূল। কারণ তীব্র ঠান্ডায় ব্যাটারি ঠিকমতো কাজ করে না ও আর্দ্রতাপূর্ণ বা ভেজা পরিবেশে ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতিতে সমস্যা দেখা দেয়। ফলে পোশাকটি যাতে অতিরিক্ত গরম হয়ে না যায়, সেজন্য আডিডাস এতে কিছু নিরাপত্তা ব্যবস্থা যোগ করেছে। পাশাপাশি সবসময় ব্যবহারের উপযোগী রাখতে এতে বিশেষ এক চার্জিং ব্যাগও রয়েছে।
তবে রাকিউগ্লিয়া বলেছেন, পোশাকটির নিরাপত্তা নিয়ে অ্যাথলেটরা ‘কখনোই চিন্তিত’ ছিলেন না, বরং তাদের মূল দুশ্চিন্তা ছিল পারফরম্যান্স নিয়ে, যেমন খেলা শুরুর আগে তারা কত দ্রুত ও সহজে পোশাকটি শরীর থেকে খুলে ফেলতে পারবেন। বিষয়টি নিশ্চিত করতে সময় নিয়ে অ্যাথলেটদের পোশাক খোলার পরীক্ষা পর্যন্ত করেছেন কোচরা।
বর্তমানে পোশাকটি কেবল শীতকালীন অলিম্পিকে অংশগ্রহণকারী পেশাদার অ্যাথলেটরাই ব্যবহার করতে পারছেন।
রাকিউগ্লিয়া বলেছেন, “ভবিষ্যতে আরও বেশি অ্যাথলেট ও সাধারণ গ্রাহকদের আমরা এ প্রযুক্তি জন্য নিয়ে আসতে চাই। কারণ প্রচণ্ড ঠান্ডায় শরীর গরম রাখার বিষয়টি আমাদের অনেক গ্রাহকের জন্য বেশ জরুরি।”
দেহ ঠান্ডা রাখার জন্যেও একই ধরনের প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করেছে আডিডাস। যেমন এমন এক জ্যাকেট, যেটি অনেকটা যেন জ্যাকেটের ভেতরেই বসানো এয়ার কন্ডিশনিং সিস্টেম। এতে ছোট ফ্যান রয়েছে, যা বাতাস বের করে পরিধানকারীর আশপাশে ঠান্ডা পরিবেশ তৈরি করে। এরইমধ্যে মার্সিডিজ ফর্মুলা ওয়ান দলের অ্যাথলেটসহ আরও অনেকেই পোশাকটি ব্যবহার করেছেন।
রাকিউগ্লিয়া আরও বলেছেন, পারফরম্যান্সের জন্য অন্য এক ‘প্রধান ভিত্তি’ হল নড়াচড়া। কোম্পানিটি এখন এমন নতুন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে, যা অ্যাথলেটদের পেশি সচল রাখতে সাহায্য করবে।
এর মধ্যে এমন সব পোশাক থাকতে পারে, যা দেহের পেশি ও হাড়ের বিভিন্ন জোড়াকে কাজের সময় সাপোর্ট দেবে, বিশেষ করে যখন শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তবে এসব কাজ আপাতত বেশ গোপনেই করছে আডিডাস।