Published : 23 Jun 2025, 02:36 PM
বিভিন্ন এআই চ্যাটবটকে কোন ধরনের প্রশ্ন করলে পরিবেশে সবচেয়ে বেশি কার্বন নিঃসরণ ঘটে তা উঠে এসেছে নতুন এক গবেষণায়।
নতুন এ গবেষণা বলছে, ওপেনএআইয়ের তৈরি চ্যাটজিপিটি’র মতো বিভিন্ন এআই চ্যাটবটকে যদি যুক্তি দিয়ে চিন্তা করে কোনও প্রশ্নের উত্তর দিতে বলা হয় তবে সেসব প্রশ্নের উত্তরে সাধারণ প্রশ্নের চেয়ে বেশি পরিমাণে কার্বন নিঃসরণ হয়।
জার্মানির ‘হোকশুল মিউনিখ ইউনিভার্সিটি অফ অ্যাপ্লাইড সায়েন্সেস’-এর গবেষকরা বলেছেন, চ্যাটজিপিটি’র মতো লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলে প্রতিটি প্রশ্ন টাইপের জন্য শক্তি খরচ হয় এবং এতে কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ ঘটে। আর এ নিঃসরণের পরিমাণ নির্ভর করে চ্যাটবট, ব্যবহারকারী ও কনটেন্টের ওপর।
গবেষণাটি প্রকাশ পেয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘ফ্রন্টিয়ার্স’-এ। গবেষণায় ১৪টি এআই মডেলের মধ্যে তুলনা করে দেখেছেন গবেষকরা, যেখানে দেখা গিয়েছে, জটিল যুক্তি প্রয়োগ করে দেওয়া এআইয়ের বিভিন্ন উত্তর সরল উত্তরের চেয়ে বেশি কার্বন নিঃসরণ ঘটায়।
স্কুলের ইতিহাসের মতো সহজ, সরল বিষয়ের তুলনায় দীর্ঘসময় ধরে যুক্তি দিয়ে গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করতে হয় এমনসব প্রশ্নের বেলায় যেমন বীজগণিত বা দর্শনের ক্ষেত্রে এআই ছয় গুণ কার্বন নিঃসরণ করে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্ট।
গবেষকরা বলছেন, যারা নিয়মিত এআই চ্যাটবট ব্যবহার করেন তারা যেন এমনভাবে প্রশ্ন করেন যাতে কার্বন নিঃসরণ কম ঘটে। প্রশ্নের ধরন একটু সহজ ও সংক্ষিপ্ত রাখলে পরিবেশের ওপর প্রভাব কম পড়বে।
এ গবেষণায় বিভিন্ন বিষয়ে এক হাজারটি প্রশ্নের ওপর ভিত্তি করে ১৪টি লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল বা এলএলএম-এর পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করেছেন গবেষকরা, যাতে কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ তুলনা করা যায়।
এ গবেষণার লেখক ম্যাক্সিমিলিয়ান ডাউনার বলেছেন, “প্রশিক্ষিত লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলকে প্রশ্ন করার ফলে পরিবেশের ওপর যে প্রভাব পড়ে তা মূলত নির্ভর করে এরা কীভাবে যুক্তি ব্যবহার করে তার ওপর। বিশেষ করে, স্পষ্টভাবে যুক্তি বিশ্লেষণ করে উত্তর দেওয়ার বেলায় অনেক বেশি শক্তি ব্যবহার করে এআই। ফলে কার্বন নিঃসরণও ব্যাপকহারে বেড়ে যায়।
“আমরা দেখেছি, যুক্তিভিত্তিক বিভিন্ন মডেল সংক্ষিপ্ত উত্তর দেওয়া মডেলের তুলনায় প্রায় ৫০ গুণ বেশি কার্বন ডাইঅক্সাইড নির্গত করে পরিবেশে।”
ব্যবহারকারী যখন এআই চ্যাটবটকে কোনও প্রশ্ন করেন তখন সেই প্রশ্নের শব্দ বা শব্দের অংশগুলোকে সংখ্যার একটি সারিতে রূপান্তর করে এআই। তারপর মডেল তা প্রক্রিয়া করে। এই রূপান্তর ও অন্যান্য কম্পিউটার প্রক্রিয়ার কাজ করতে গিয়ে কার্বন বাতাসে ছাড়ে এআই, যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।
গবেষণায় বলা হয়েছে, যুক্তিভিত্তিক মডেল গড়ে একটি প্রশ্নের উত্তরে ৫৪৩.৫টি টোকেন তৈরি করে, যেখানে সংক্ষিপ্তভাবে উত্তর দেওয়া বিভিন্ন মডেলের বেলায় প্রয়োজন হয় কেবল ৪০টি টোকেন।
এখানে ‘টোকেন’ বলতে বোঝানো হয়েছে শব্দ বা শব্দের অংশ, যা এআই বুঝতে ও প্রক্রিয়া করতে ব্যবহার করে।
গবেষণা বলছে, “যত বেশি সংখ্যক টোকেন ব্যবহার হয় তত বেশি পরিমাণে পরিবেশে কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসরণ করে এআই।”
যেমন– সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বিভিন্ন মডেলের একটি হচ্ছে ‘কোজিটো’, যেটি ৮৫ শতাংশ সঠিক উত্তর দেয়। তবে এটি একই রকমের অন্যান্য মডেলের চেয়ে তিন গুণ বেশি কার্বন গ্যাস পরিবেশে ছাড়ে। কারণ, জটিল প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে বড় আকারে উত্তর দেয় এরা।”
ড. ডাউনার বলেছেন, “বর্তমানে আমরা স্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছি, এখনকার বিভিন্ন লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের সঠিক উত্তর দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ালে পরিবেশের ক্ষতি বাড়বে, অর্থাৎ নির্ভূলতা ও পরিবেশ রক্ষার মধ্যে বোঝাপড়ার বিষয় রয়েছে।
“যেসব মডেল ৫০০ গ্রাম পরিমাণ কার্বন ডাইঅক্সাইড পরিবেশে নিঃসরণ করে এদের কোনোটিই এক হাজারটি প্রশ্নের মধ্যে ৮০ শতাংশের বেশি সঠিক উত্তর দিতে পারেনি।”
গবেষকরা বলছেন, মানুষকে নিজেদের এআই ব্যবহারের বিষয়ে আরও সচেতন এবং ভালো সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে এসব নতুন তথ্য।
গবেষকরা আরও বলেছেন, ডিপসিক আর ওয়ান চ্যাটবটকে ৬ লাখ প্রশ্ন করলে তা থেকে যে পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ হবে তা লন্ডন থেকে নিউ ইয়র্ক পর্যন্ত গিয়ে আবার ফিরে আসার একটি বিমানের যাত্রার সমান হতে পারে।
সেই তুলনায় চীনের আলিবাবা ক্লাউডের ‘কুয়েন ২.৫’ এআই মডেল একই নির্ভূলতার হার বজায় রেখে তিন গুণের বেশি প্রশ্নের উত্তর দিলেও পরিবেশে এর কার্বন নিঃসরণের হার একই।