Published : 19 Dec 2025, 05:33 PM
গত অক্টোবরে ব্রিটিশ সরকারের তথ্য ভাণ্ডারে সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা প্রকাশ্যে এনেছেন ব্রিটিশ বাণিজ্যমন্ত্রী ক্রিস ব্রায়ান্ট।
ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড ‘সান’ সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে দাবি করে, এই হ্যাকিংয়ের পেছনে রয়েছে এক চীনা হ্যাকার দল।
ক্রিস ব্রায়ান্ট সরাসরি চীনের নাম না নিলেও সাইবার হামলার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে রয়টার্স।
সানের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গোপন নথিপত্র বা তথ্য হাতিয়ে নিতে সরকারের সিস্টেমে ঢুকে পড়েছিল চীনা হ্যাকার দলটি।
শুক্রবার টাইমস রেডিওর সঙ্গে আলাপকালে ব্রায়ান্ট বলেছেন, “সরকারের সিস্টেমে নিশ্চিতভাবেই হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটেছে।
“সাইবার হামলার ঘটনাটি সরাসরি চীনা সরকারের সঙ্গে জড়িত কি না তা এই মুহূর্তে আমার পক্ষে বলা সম্ভব নয়।”
এ সাইবার হামলার জন্য ‘স্টর্ম ১৮৪৯’ নামের এক চীনা সাইবার দলকে দায়ী করেছে সান। পত্রিকাটির দাবি, এই হ্যাকিংয়ের ফলে প্রায় কয়েক হাজার মানুষের ভিসার তথ্য ফাঁস হয়ে থাকতে পারে।
পত্রিকাটির ভাষ্য অনুসারে, হ্যাকার দলটির বিরুদ্ধে এমন সব রাজনীতিবিদ এবং সংগঠনকে টার্গেট করার অভিযোগ রয়েছে, যারা চীনের সরকারি নীতির বিরোধিতা বা সমালোচনা করেন।
ব্রায়ান্ট বলেছেন, সানের প্রতিবেদনের কিছু তথ্য ‘অনুমাননির্ভর’ এবং পুরো বিষয়টি সামাল দেওয়ার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা যুক্তরাজ্য সরকার নিয়েছে।
“আমরা আত্মবিশ্বাসী, সাইবার হামলা হলেও সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্যের ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি খুবই কম।”
সরকারের একজন মুখপাত্র বলেছেন, সাইবার হামলার ঘটনা তদন্তে কাজ করে যাচ্ছেন তারা।
“আমাদের সিস্টেম ও তথ্যের নিরাপত্তার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করি আমরা।”
ডিসেম্বরের শুরুতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছিলেন, ব্রিটেনের জন্য ‘জাতীয় নিরাপত্তা হুমকি’ চীন।
তবে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক বা যোগাযোগ বাড়ানোর যে সিদ্ধান্ত যুক্তরাজ্য সরকার নিয়েছে সেটাও দেশের জন্য জরুরি বলে মনে করেন তিনি।
রয়টার্স লিখেছে, আগামী জানুয়ারির শেষ দিকে বেইজিং সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর।
এ বছর ব্রিটেনের দুটি বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে বড় ধরনের হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটেছে। এখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাইবার হামলার খবর সামনে এল।
সাইবার হামলার ঘটনায় টানা পাঁচ সপ্তাহ উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছিল যুক্তরাজ্যের অন্যতম বড় গাড়ি নির্মাতা কোম্পানি ‘জাগুয়ার ল্যান্ড রোভার’।
আর যুক্তরাজ্যের রিটেইল জায়ান্ট ‘মার্কস অ্যান্ড স্পেন্সার’ ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত অনলাইনে অর্ডার নেওয়া স্থগিত রেখেছিল।