২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ
Published : 04 Jun 2026, 09:11 AM
কেউ পায়ের কারিকুরিতে, কেউ বা গতিতে, কেউ আবার এই দুইয়ের মিশেলে কিংবা কেউ রক্ষণে দুর্দান্ত কার্যকারিতায় তারুণ্যেই ঝলক দেখিয়ে চলেছেন। ক্যারিয়ারের শুরুতেই উঠে এসেছেন পাদপ্রদীপের আলোয়। ক্লাব ফুটবলে ইতোমধ্যে তারা প্রতিপক্ষের বুকে কাঁপন ধরাতে পেরেছেন, জাতীয় দলেও দিয়েছেন দুর্দান্ত কিছু করে দেখানোর আভাস। সেই সম্ভাবনাকেই এবার পূর্ণতা দেওয়ার পালা, ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চ- বিশ্বকাপে।
উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপ সামনে রেখে প্রতিভাধর তরুণ তারকাদের নিয়ে ফিফার বিশেষ আয়োজন বিশ্বকাপের বিস্ময়বালক। এই পর্বে আছেন জার্মানির অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার লেনার্ট কার্ল।
জন্ম তারিখ: ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০০৮
দল: জার্মানি ও বায়ার্ন মিউনিখ
আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক: ২৭ মার্চ ২০২৬, সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে (১৮ বছর বয়সে)
পজিশন: অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার
বিশেষ দক্ষতা: সৃজনশীলতা, দারুণ ড্রিবলিং করার সক্ষমতা এবং ফিনিশিং করার দুর্দান্ত সামর্থ্য
কেন বিশ্বকাপের সেনসেশন হয়ে উঠতে পারেন কার্ল?
অনেক দিন ধরেই কার্লকে ভবিষ্যতের বড় তারকা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অসাধারণ স্কিল আর নিখুঁত ফুটবল বুদ্ধিমত্তার এই তরুণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে এরই মধ্যে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। দুর্দান্ত সব পারফরম্যান্সে দিয়েছেন আগমনী বার্তা।
গত মার্চে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেকের পর জার্মানির জার্সিতে স্রেফ দুটি ম্যাচ খেলেছেন কার্ল। আন্তর্জাতিক আঙিনায় খেলার অভিজ্ঞতা খুব বেশি না থাকলেও, তার ওপর ঠিকই ভরসা রেখেছেন জার্মান কোচ ইউলিয়ান নাগেলসমান।
মূলত, ক্লাব ফুটবলে নিজেকে মেলে ধরে বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নিয়েছেন কার্ল। মাত্র এক মৌসুমের মধ্যেই যুব দল থেকে বায়ার্ন মিউনিখের মূল দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে উঠেছেন তিনি। ভেঁসো কম্পানির কোচিংয়ে নিজেকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন কার্ল। গত ১৯ এপ্রিল বুন্ডেসলিগা জিতে ক্যারিয়ারের প্রথম বড় শিরোপা জয়ের স্বাদও পেয়ে গেছেন তিনি।
কার্লের পরিসংখ্যানই তার সামর্থ্যের প্রমাণ। এবার বুন্ডেসলিগায় অভিষেক মৌসুমে ২৬ ম্যাচে খেলে পাঁচটি গোল করার পাশাপাশি ছয়টি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪০ ম্যাচে তার গোল ৯টি, অ্যাসিস্ট আটটি।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আট ম্যাচ খেলে চারটি গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করেছেন কার্ল। ইউরোপ সেরার মঞ্চে তার প্রথম গোলটি আসে গত ২৩ অক্টোবর ক্লাব ব্রুজের বিপক্ষে ৪-০ গোলে জেতা ম্যাচে। মাত্র ১৭ বছর ২৪২ দিন বয়সে গোলটি করে রেকর্ডের একটি পাতায় নাম লেখান তিনি। বায়ার্ন মিউনিখের ইতিহাসে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সর্বকনিষ্ঠ জার্মান গোলদাতা এই মিডফিল্ডার।
কিশোর এই প্রতিভা প্রতিনিয়ত নিজেকে উন্নত করে চলেছেন। বহুমুখী দক্ষতার অধিকারী হতে ঘাম ঝরিয়েও যাচ্ছেন তিনি। বিশেষ করে, কম্পানির কোচিংয়ে রক্ষণভাগে খেলায়ও উন্নতি করছেন কার্ল। ভবিষ্যতে একজন সত্যিকারের বিশ্বমানের খেলোয়াড় হয়ে উঠতে কঠোর পরিশ্রম করছেন তিনি।
দুই মাস আগে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে বদলি নেমে আন্তর্জাতিক ফুটবলে পা রাখেন কার্ল। ওই ম্যাচে ২৭ মিনিট খেলেন তিনি। পরে ঘানার বিপক্ষে তাকে দ্বিতীয়ার্ধের পুরোটা খেলান নাগেলসমান।
চোটের কারণে জার্মানির বিশ্বকাপ দলে জায়গা হয়নি অভিজ্ঞ সের্গে জিনাব্রির। তার অনুপস্থিতি কার্লের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করে দিতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। আর চলতি মৌসুমে তিনি যে পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন, তাতে বিশ্ব মঞ্চেও তার থেকে ভালো কিছুর প্রত্যাশায় থাকবেন জার্মান সমর্থকরা।
কোচ ও সাবেকদের চোখে কার্ল
“দলে সে চমৎকার একটা ছাপ ফেলেছে। একটু আগ্রাসী স্বভাবের হলেও, বেশ নম্র। মাঠে ঠিক সময়ে ঠিক জায়গায় থাকার এবং ফাঁকা জায়গা খুঁজে নেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা তার আছে।”
- ইউলিয়ান নাগেলসমান, জার্মানির কোচ
“সে শীর্ষমানের একজন ফুটবলার এবং তার সঙ্গে খেলাটা দারুণ ব্যাপার। নিকট ভবিষ্যতে সে আমাদের অনেক আনন্দের উপলক্ষ এনে দেবে।”
- ফ্লোহিয়ান ভিয়েৎস, জার্মানির মিডফিল্ডার
“সে প্রচুর পরিশ্রম করে এবং সবসময় মনোযোগী থাকে- ম্যাচের মতো অনুশীলন ও টিম মিটিংয়েও। দিনের পর দিন শীর্ষমানের পারফরম্যান্স উপহার দিচ্ছে। সে একদম সঠিক পথে রয়েছে।”
- ভেঁসো কম্পানি, বায়ার্ন মিউনিখ কোচ
“লেনি আমাদের দলে দারুণ ভূমিকা রাখছে। আমার মনে হয়, মাঠে ওর মান সবাই দেখতে পাচ্ছে…সে দলে আসার পর থেকে আমাদের সাহায্য করছে। আমাদের প্রায়ই রক্ষণাত্মক দল অথবা ৫-৪-১ ফরমেশনে খেলা দলগুলোর বিপক্ষে খেলতে হয়; যারা নিচে নেমে আমাদের জন্য ভেতরে ঢোকা কঠিন করে তোলে। লেনি সেখানে ফাঁকা জায়গা তৈরি করতে সাহায্য করে, কারণ সে বল পায়ে যেমন গতিময়, তেমনই দারুণ দক্ষ এবং সহজেই যেকোনো ডিফেন্ডারকে পরাস্ত করতে পারে।”
- হ্যারি কেইন, বায়ার্ন মিউনিখ স্ট্রাইকার
কার্লের সম্ভাব্য বিশ্বকাপ অভিযান
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠেয় ৪৮ দলের বিশ্বকাপে ‘ই’ গ্রুপে পড়েছে জার্মানি। প্রতিপক্ষ হিসেবে কুরাসাও, কোত দি ভোয়া ও একুয়েডরকে পেয়েছে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
হিউস্টনে আগামী ১৪ জুন কুরাসাওয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ ধরে রাখার অভিযান শুরু করবে জার্মানি। টরন্টোতে তাদের পরের ম্যাচ ২০ জুন, প্রতিপক্ষ কোত দি ভোয়া। নিউ ইয়র্কে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে একুয়েডরের মুখোমুখি হবে তারা, আগামী ২৫ জুন।