Published : 19 Jul 2026, 01:36 PM
অ্যানথ্রপিকের জনপ্রিয় এআই চ্যাটবট ক্লড এখন থেকে অনলাইন দুনিয়ায় ব্যবহারকারীর হয়ে কাজ করার জন্য তাদের পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতে পারবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই কোম্পানি অ্যানথ্রপিক ও ‘আইডেন্টিটি সিকিউরিটি’ কোম্পানি ‘১পাসওয়ার্ড’-এর মধ্যে হওয়া এক নতুন পার্টনারশিপের ফলে ক্লড ব্যবহারকারীর কোনো সংবেদনশীল ডেটা বা পাসওয়ার্ড সরাসরি না দেখেই প্রয়োজনীয় লগইন তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট।
‘১পাসওয়ার্ড’ বলেছে, ব্যবহারকারীরা এখন তাদের হয়ে অনলাইনে ভ্রমণ টিকিট বুকিং, অ্যাকাউন্ট পরিচালনা ও কেনাকাটার মতো বাস্তব জগতের বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করার জন্য ক্লড’কে অনুমতি দিতে পারবেন।
“লগইন ও ওয়ান-টাইম পাসকোড প্রয়োজন হয়– ব্রাউজারের এমন সব কাজ ক্লড অনায়াসেই করতে পারবে। তবে এসব পাসওয়ার্ড কখনোই এআই মডেল বা এর মেমরিতে প্রবেশ করবে না।
“এ অনুমতির মেয়াদ কেবল চলতি কাজটি যতক্ষণ চলবে, সে সময়ের জন্যই সীমিত থাকবে এবং কাজ শেষ হওয়া মাত্রই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। অটোফিল হওয়ার পর আমরা পুনরায় পরীক্ষা করে দেখব যে, ওয়েবসাইটের পাতায় কোনো গোপন তথ্য ফাঁস হয়েছে কি না।”
‘১পাসওয়ার্ড’-এর প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ন্যান্সি ওয়াং বলেছেন, এআই এজেন্টদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি নতুন এক নিরাপত্তা মডেল নিশ্চিত করবে, ব্যবহারকারীদের পাসওয়ার্ড ও গোপন তথ্য সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকবে।
তবে ‘১পাসওয়ার্ড ফর ক্লড’ ফিচারটি ব্যবহারের সময় ব্যবহারকারীদের যে কোনো অনুরোধ বা কমান্ড নিশ্চিত করতে তাদের ফোন থেকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা অন্য কোনো বায়োমেট্রিক ইনপুট দিয়ে অনুমতি দিতে হবে।
নতুন যুগের সূচনা
নতুন আপডেটটি প্রচলিত ‘এআই এজেন্ট’-এর ক্রমাগত ট্রেন্ড বা প্রবণতারই অংশ। যার মাধ্যমে এআই প্রযুক্তিগুলো কেবল মানুষের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার গণ্ডি পেরিয়ে, ব্যবহারকারীদের হয়ে ব্রাউজার ও অ্যাপে প্রবেশ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিভিন্ন ডিজিটাল কাজ করছে।
অবশ্য, এজেন্টিক এআইয়ের এ উত্থান সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বড় ধরনের উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। তারা সতর্ক করে বলেছেন, মানুষের হস্তক্ষেপ বা সরাসরি তত্ত্বাবধান ছাড়া এআইয়ের এমন স্বয়ংক্রিয় কর্মকাণ্ড ক্ষতিকর পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
এর একটি বড় প্রমাণ মিলেছে এপ্রিলের এক ঘটনায়, যেখানে একটি ক্লড এজেন্ট কেবল ৯ সেকেন্ডের মধ্যে একটি কোম্পানির সম্পূর্ণ প্রোডাকশন ডেটাবেইস মুছে দিয়েছিল।
বিশ্বের নয়টি দেশের আটশরও বেশি ব্যবসা কোম্পানির ওপর চালানো সাম্প্রতিক জরিপে উঠে এসেছে, জরিপভুক্ত ৯৮ শতাংশ কোম্পানিই এআইয়ের কারণে কোনো না কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার মুখে পড়েছে।
‘ইকোনমিস্ট এন্টারপ্রাইজ’-এর গেল মাসে প্রকাশিত এ গবেষণায় বলা হয়েছে, বেশিরভাগ কোম্পানিরই তাদের নিজস্ব এআই এজেন্টগুলোর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বা নজরদারি নেই।
এ গবেষণার নেতৃত্ব দেওয়া ইকোনমিস্ট এন্টারপ্রাইজের টেকনোলজি প্রিন্সিপাল বৈভব সেহগাল বলেছেন, “কয়েক দশক ধরে সাইবার নিরাপত্তা বাইরের হুমকি ঠেকানোর ওপর নজর দিয়েছে। তবে এজেনটিক এআই সেই চেনা ধারণাকে পুরোপুরি বদলে দিচ্ছে।
“যেহেতু এখন ঝুঁকি কোম্পানির ভেতরেই তৈরি হচ্ছে ফলে কেবল বাইরের দেয়াল শক্ত করে কোনো লাভ নেই, যদি না ভেতরের ভিত্তি ঠিক করা যায়।
“এখন যে কোনো বিপর্যয়কে স্বাভাবিক ধরে নিতে হবে। নেতৃস্থানীয়দের এখন এমনটা ঠেকানোর চেয়ে বরং বিপর্যয় ঘটলে তার প্রভাব কীভাবে সীমিত রাখা যায় এবং কত দ্রুত ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা যায় তা নিয়ে ভাবা উচিত।”
অন্যদিকে, সাইবার অপরাধীরাও ভুক্তভোগীদের লক্ষ্যবস্তু বানাতে এসব উন্নত এআই এজেন্টের ব্যবহার শুরু করেছে।
গবেষকরা এ মাসের শুরুতে প্রথমবার এমন এক ঘটনা পর্যবেক্ষণ করেছেন, যেখানে একটি এআই এজেন্ট সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি র্যানসমওয়্যার আক্রমণ পরিচালনা করেছে।
এ ধরনের টুলের ব্যবহার হ্যাকারদের কাজকে সহজ করে দিচ্ছে, যারা এখন কেবল সাধারণ প্রম্পট বা নির্দেশ টাইপ করেই বড় বড় সাইবার হামলা চালিয়ে দিতে পারে।