Published : 05 Mar 2026, 03:11 PM
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে মার্কিন আর্থিক সেবা খাতে বড় ধরনের সাইবার হামলার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে মার্কিন আর্থিক সেবা খাত।
গোয়েন্দা সংস্থা ও প্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী ও বিশ্লেষকরা বলছেন, ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের সময়ে এ ধরনের হুমকি বেড়ে পাওয়ার প্রবণতা থাকে। ফলে তারা নজরদারি আরও জোরদার করেছেন।
রয়টার্স লিখেছে, গত সপ্তাহে বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির মৃত্যুর ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে চরম অস্থিরতা তৈরি করেছে। সেই ধাক্কা লেগেছে বিশ্ববাজারে এবং মার্কিন বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর ইরান-সংশ্লিষ্ট সাইবার হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আর্থিক সেবা খাতের জন্য সাইবার নিরাপত্তা দীর্ঘকাল ধরেই শীর্ষ অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে। এ খাতটি পেমেন্ট, ক্লিয়ারিং ও সেটেলমেন্ট সিস্টেমের পাশাপাশি ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম এবং ট্রেজারি মার্কেটের মতো যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর সঙ্গে ঘনিষ্টভাবে জড়িত। শিল্প খাতের তথ্য বলছে, সবকিছু মিলিয়ে সাইবার হামলার প্রধান লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে আর্থিক খাত।
শিল্প গোষ্ঠী ‘সিফমা’র আর্থিক সেবা সাইবার ও প্রযুক্তি বিভাগের ব্যবস্থাপনা পরিচালক টড ক্লেসম্যান বলেছেন, “এ শিল্প খাত সবসময়ই সাইবার হুমকির বিষয়ে সতর্ক এবং তা ঠেকাতে প্রস্তুত, বিশেষ করে বিশ্বজুড়ে সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকি যখন বেড়ে যায়।”
সিফমা প্রতিবছর এক বিশেষ মহড়া পরিচালনা করে, যাতে বড় ধরনের সাইবার জরুরি অবস্থার মধ্যেও আর্থিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিজেদের কার্যক্রম সচল রাখতে পারে।
ক্লেসম্যান বলেছেন, “আমরা বর্তমান পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি এবং আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে, কার্যক্রমের গতিশীলতা বজায় রাখা, যা মার্কিন পুঁজিবাজারের অখণ্ডতা ও স্থায়িত্বের জন্য অপরিহার্য।”
ব্যাংকিং খাতের অন্য একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেছেন, মার্কিন ব্যাংকগুলো সাইবার হামলার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বিগ্ন ও তাদের ধারণা, এ ধরনের হামলার ঝুঁকি প্রবল।
নিম্ন-পর্যায়ের সাইবার হামলার ঝুঁকি
মার্কিন বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়ন বলছে, ইরানপন্থী ‘হ্যাকটিভিস্টরা’ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন নেটওয়ার্কে নিম্ন-পর্যায়ের সাইবার হামলা চালাতে পারে। যার মধ্যে রয়েছে ‘ডিস্ট্রিবিউটেড ডিনায়েল অফ সার্ভিসেস’ আক্রমণ। এ সাইবার হামলার মাধ্যমে হামলাকারীরা ইন্টারনেটে অতিরিক্ত ট্রাফিক বা চাপ তৈরি করে নির্দিষ্ট সার্ভারকে অচল করে দেয়।
মঙ্গলবার ক্রেডিট রেটিং সংস্থা ‘মর্নিংস্টার ডিবিআরএস’ বলেছে, বিশ্বজুড়ে ব্যাংক ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির জন্য ঝুঁকি হতে পারে, যেমন তেলের দাম দীর্ঘ সময় চড়া থাকা ও ঋণগ্রহীতাদের ওপর এর প্রভাব।
তবে তারা সতর্ক করে বলেছে, সাইবার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
“ব্যাংকসহ পশ্চিমা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর নিজেদের সাইবার হামলার পরিমাণ বাড়াতে পারে ইরান।”
মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক ‘ল্যাজার্ড’-এর ভূ-রাজনৈতিক উপদেষ্টা দলও এ সপ্তাহে সাইবার ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করে বলেছে, এর আগেও আর্থিক ব্যবস্থা’সহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক লক্ষ্যবস্তুতে নিজেদের সাইবার সক্ষমতা ব্যবহারের প্রমাণ দিয়েছে ইরান।
শিল্প কনসোর্টিয়াম ‘এফএস আইএসএসি’-এর ২০২৫ সালের প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৪ সালে আর্থিক সেবা খাত ছিল ডিডিওএস আক্রমণের প্রধান লক্ষ্যবস্তু। হামাস-ইসরায়েল ও রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধের প্রভাবেই এ হ্যাকিং তৎপরতা বহুগুণ বেড়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে শত্রুভাবাপন্ন কোনো বড় হামলার কারণে এ শিল্পে বড় কোনো বিপর্যয় না ঘটলেও ছোট আকারের ডিডিওএস ও র্যানসামওয়্যার আক্রমণ বাজারের বিভিন্ন অংশকে বাধাগ্রস্ত করেছে।
২০২৩ সালে চীনের ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড কমার্শিয়াল ব্যাংক’-এর মার্কিন ব্রোকার-ডিলার ইউনিটে এক র্যানসামওয়্যার হামলার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বাজারে লেনদেন ব্যাহত হয়েছিল।
এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি এফএস আইএসএসি’র কোনো মুখপাত্র।