১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সমুদ্রের এক কিলোমিটার গভীরে স্পর্শের অনুভূতি দেবে এই রোবট

সাধারণ ডুবুরিরা সর্বোচ্চ ৬০ মিটার গভীর পর্যন্ত যেতে পারেন। কিন্তু এই রোবট পৌঁছে যেতে পারে এক কিলোমিটার গভীরে।

সমুদ্রের এক কিলোমিটার গভীরে স্পর্শের অনুভূতি দেবে এই রোবট
সমুদ্রের তলদেশে কাজ করছে ওশনওয়ান। ছবি: স্ট্যানফোর্ড ইউনিভারর্সিটি

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 18 Aug 2025, 02:04 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:36 PM

যুক্তরাষ্ট্রের এক প্রযুক্তি মেলায় এমন এক রোবটের দেখা মিলেছে, যা পানির নিচে চলাফেরা করবে বলে দাবি নির্মাতাদের।

‘ওশানওয়ান’ নামের এ বোরটটি তৈরি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্ট্যানফোর্ড রোবোটিক্স সেন্টার’-এর বিজ্ঞানীরা।

স্ট্যানফোর্ড রোবোটিক্স সেন্টারের পরিচালক উসামা খাতিব বললেন, সাধারণ ডুবুরিরা সর্বোচ্চ ৬০ মিটার গভীর পর্যন্ত যেতে পারেন। কিন্তু এই রোবট পৌঁছে যেতে পারে এক কিলোমিটার গভীরে। জাহাজের ওপরে বসে যিনি এই রোবটকে নিয়ন্ত্রণ করবেন তিনি পানির তলদেশ স্পর্শেরও অনুভূতি পাবেন, কারণ এতে রয়েছে একটি হ্যাপটিক ডিভাইস।

খাতিব আরও বলেছেন, রোবটটির সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব এর কোমল ও নিখুঁত হাত। 

নির্মাতাদের দাবি, তারা দুই হাজার বছর আগে ডুবে যাওয়া জাহাজের ধ্বংসাবশেষ থেকে একেবারে অক্ষত অবস্থায় জিনিসপত্র উদ্ধার করেছেন এই রোবট দিয়ে। সুন্দর তেলের প্রদীপ থেকে চমৎকার নকশার কাপ, একেবারে অক্ষত অবস্থায় তুলে আনা সম্ভব হয়েছে। 

পাশাপাশি গভীর সমুদ্র থেকে এমন সব সামুদ্রিক প্রাণের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে, যেগুলো অত গভীরে গিয়ে মানুষের পক্ষে তুলে আনা সম্ভব ছিল না। আধুনিক প্রযুক্তির অনেক যন্ত্রপাতিও সেখানে পৌঁছাতে পারে না। কারণ বেশিরভাগ যন্ত্রেরই ওই পরিবেশে গিয়ে সেখানকার বস্তু ধরার ক্ষমতা নেই, এ কাজের উপযোগী বাহু বা হাত নেই। 

উসামা খাতিব বলছেন, ওই ক্ষমতার কারণেই ওশানওয়ান অদ্বিতীয়।

পৃথিবীর প্রায় ৭৫ শতাংশ পৃষ্ঠ সাগর আর মহাসাগর। আর এ পানির গভীরতা এতটাই বেশি যে মানুষের পক্ষে সেখানে পৌঁছানো সম্ভব না। ফলে মহাসাগর সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান এখনো খুব সীমিত। অথচ মহাসাগরই এ গ্রহের প্রাণ। 

উসামা খাতিব বলছেন, সমুদ্রকে বোঝার জন্য যদি কিছু করা যায়, তা পৃথিবীর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হবে। আর এ রোবট সেই কাজে সহায়ক হতে পারে। 

স্ট্যানফোর্ড রোবোটিক্স সেন্টারের বিজ্ঞানীদের লক্ষ্য হচ্ছে, মহাকাশ গবেষণার মত একই ব্যবস্থা তৈরি করা। মহাকাশ পর্যবেক্ষণের জন্য বিজ্ঞানীরা যেমন বিশেষ জায়গায় গিয়ে গবেষণা করতে পারেন, যেগুলোকে বলা হয় ‘স্পেস অবজারভেটরি’; তারাও তৈরি করবেন ‘ওশান অবজারভেটরি’।

সারা বিশ্বের বিজ্ঞানীরা সেখানে সমুদ্রের স্বাস্থ্য রক্ষায় যুক্ত হতে পারবেন, আর এ কাজটি করা যাবে দূর থেকে। গবেষক থাকবেন পৃথিবীর যে কোনো প্রান্ত। আর গবেষণা হবে এমন জায়গায়, যেখানে এই রোবট থাকবে।”

স্ট্যানফোর্ডের গবেষকদের আশা, এই প্রযুক্তি গভীর সমুদ্র অনুসন্ধান ও সংরক্ষণে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।