Published : 29 May 2026, 01:39 PM
অতিরিক্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার শিশুদের জন্য ধূমপানের মতোই বিপজ্জনক বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাজ্যের শীর্ষ চিকিৎসকদের একটি দল।
প্রযুক্তির এই অবাধ আসক্তি তরুণ প্রজন্মের স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি করছে উল্লেখ করে তা প্রতিরোধে আইনপ্রণেতাদের দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকরা।
রয়টার্স লিখেছে, অনলাইনে শিশুদের সুরক্ষার বিষয়ে সরকারের এক পরামর্শমূলক সভা মঙ্গলবার শেষ হতে যাচ্ছে, যেখানে শিশুদের ওপর সামাজিক মাধ্যমের প্রভাবের বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছে ‘অ্যাকাডেমি অফ মেডিকেল রয়াল কলেজেস’।
সংগঠনটি বলেছে, “চিকিৎসা পেশার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সবাইকে এক সুতায় বাঁধার ক্ষেত্রে সামাজিক মাধ্যমের ক্ষতিকর প্রভাব ধূমপান বা গাড়িতে সিটবেল্ট বাঁধার নিয়মের মতোই বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডের ২৩টি রয়াল মেডিকেল কলেজ ও ফ্যাকাল্টিদের প্রতিনিধিত্বকারী এ সংগঠনটি আরও বলেছে, “প্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক ডিভাইসের প্রতি অবাধ আসক্তি শিশু ও তরুণদের স্বাস্থ্যের ওপর যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে তা নিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চিকিৎসকরা যেভাবে ঐক্যবদ্ধ করেছে তা খুব কম ইস্যুতেই দেখা গিয়েছে।”
জরিপে অংশ নেওয়া ১৩২ জন চিকিৎসকের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি বলেছেন, তারা প্রতি সপ্তাহে অন্তত এমন এক ঘটনা পান, যা প্রযুক্তি ও ডিভাইসের কারণে হওয়া স্বাস্থ্যগত ক্ষতির সঙ্গে সম্পর্কিত। আর এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি চিকিৎসক সপ্তাহে একাধিকবার এ ধরনের ক্ষতির প্রমাণ পাচ্ছেন।
এসব ক্ষতির পরিধি অনেক বিস্তৃত। যেমন, অনলাইনে চরম মাত্রার পর্নোগ্রাফি দেখে তা অনুকরণ করতে গিয়ে শারীরিক আঘাত পাওয়া থেকে শুরু করে, ইন্টারনেটে সহিংসতা দেখে ট্রমা বা মানসিক আঘাত পাওয়ার মতো গুরুতর মানসিক সমস্যাও এর মধ্যে রয়েছে।
যুক্তরাজ্য শিশুদের জন্য সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের সুযোগ সীমিত করার বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছে। যার মধ্যে রয়েছে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মধ্যম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা, নির্দিষ্ট সময়ের পর ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা, অ্যাপ ব্যবহারের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া ও ব্যবহারকারীদের আসক্ত করে ফেলে এমন সব ডিজাইন বা ফিচার নিয়ন্ত্রণ করা।
গেল বছর বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে অস্ট্রেলিয়া। ইউরোপের অন্যান্য দেশও এখন একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে।
যুক্তরাজ্যের অনলাইন নিরাপত্তা আইন অনুসারে, বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম কোম্পানির জন্য অবৈধ ও ক্ষতিকর কনটেন্ট থেকে শিশুদের রক্ষার পদক্ষেপ নেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে দেশটির সরকার এ সুরক্ষাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
প্রযুক্তি মন্ত্রী লিজ কেন্ডাল বলেছেন, “আমরা পদক্ষেপ নেব কি নেব না এটা কোনো প্রশ্নই নয়; আমরা অবশ্যই পদক্ষেপ নেব। সেটা ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম পুরোপুরি নিষিদ্ধ করাই হোক বা এর মূল ফিচার ও কার্যকলাপে বিধিনিষেধ আরোপ করাই হোক।”
বর্তমানে যুক্তরাজ্যের শত শত পরিবার সামাজিক মাধ্যম নিষেধাজ্ঞা, নির্দিষ্ট সময়ের পর তা ব্যবহারে বিধি ও অ্যাপ ব্যবহারের সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখছে।
তারা বোঝার চেষ্টা করছে, এগুলো শিশুদের ঘুম, পারিবারিক জীবন ও পড়াশোনার ওপর কেমন প্রভাব ফেলে। তবে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা দ্বিধাবিভক্ত।
অন্যদিকে, লন্ডনের একদল তরুণ সম্প্রতি রয়টার্সকে বলেছে, তারা এ ধরনের বিধিনিষেধের ঘোর বিরোধী।