Published : 11 Jul 2024, 03:17 PM
বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে দেশব্যাপী আয়োজিত হচ্ছে ১৯তম এপেক্স অ্যাস্ট্রো-অলিম্পিয়াড।
বৃহস্পতিবার খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ বাছাইপর্বে অংশ নেন খুলনার বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা।
কুয়েট প্রাঙ্গণ জুড়ে অলিম্পিয়াডের ব্যানার-পোস্টারই জানান দিচ্ছিল আয়োজকদের প্রচেষ্টা।
জাতীয় সংগীত গাওয়ার মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শুরু হয় সকাল ১০টায়।
এরপরে অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন কুয়েটের প্রো ভাইস চ্যানসেলর অধ্যাপক ড. সোবাহান মিয়া।
উদ্বোধনী বক্তব্যে আয়োজকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “দেশের বিভিন্ন স্কুল-কলেজে ছোট পরিসরে ক্যাম্প আয়োজন করলে বিজ্ঞান ও মহাকাশের ভাবনা আরও বিস্তৃত পরিসরে ছড়িয়ে যাবে। তাই আমি আশা করবো আপনারা এমন উদ্যোগ স্কুল-কলেজ পর্যায়ে অব্যাহত রাখবেন।”
এ ছাড়া, স্কুলে থাকতেই বিভিন্ন অলিম্পিয়াডে অংশ নিয়ে ও এর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির মতো কঠিন পরীক্ষায় ভালো করার উপদেশ দেন তিনি।
এ পর্যায়ে বাছাই পরীক্ষায় অংশ নেন শিক্ষার্থীরা। তাদের স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণে কানায় কানায় পূর্ণ ছিল কুয়েট অডিটোরিয়াম।

পরবর্তীতে রকেট তৈরির কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন শিক্ষার্থীরা। নিজেরাই কাগজ কেটে আঠার সাহায্যে তৈরি করেন কাগজের রকেট। তৈরি করা রকেটটির নাসার নভোখেয়াযানের অংশ বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমি অ্যাসোসিয়েশন-এর সভাপতি মশহুরুল আমিন।
নাসার নভোখেয়াযান সিরিজে রয়েছে আটলান্টিস, চ্যালেঞ্জার, ডিসকভারি, কলম্বিয়া নামের চারটি রকেট, যেগুলো প্রায় একইরকম দেখতে। এ ছাড়া, রাশিয়ান মহাকাশযান 'বুরান'-ও শিক্ষার্থীদের তৈরি রকেটের মডেলটির মতো দেখতে।
অংশগ্রহনকারী দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সুবায়েত হোসেন রাতুল বলেন, "আজকের আয়োজন খুবই সুন্দর হয়েছে, বিভিন্ন স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা আসছে, তাদের একসঙ্গে হওয়াটা ভালো লাগছে।"
“এই রাউন্ডে যদি জিতে যাই, ন্যাশনাল রাউন্ডে গিয়ে ভালো কিছু করার প্রত্যাশা রয়েছে।”
নুসরাত জাহান ও ইসরাত জাহান নামের দুই যমজ বোন সুদূর কুষ্টিয়া থেকে অংশ নেন খুলনা বিভাগের বাছাইপর্বে।
তাদের আগ্রহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে ইসরাত জাহান বলেন, "আমি বড় হয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানী হতে চাই। এ অলিম্পিয়াড সম্পর্কে জানার পরই আব্বু আম্মুকে বলি, তারাও উৎসাহ দিয়েছে।"
কুষ্টিয়া থেকে খুলনা আসার চ্যালেঞ্জ নিয়ে তারা বলেন, “আসার সময় ট্রেনে কিছুটা সমস্যা হয়েছিল, অবরোধের কারণে ট্রেন তিন ঘণ্টা দেরি হয়। আমাদের মাঝরাতে তিন ঘণ্টা স্টেশনে বসে থাকতে হয়েছে। তারপর আমাদের স্কুলেও পরীক্ষা চলছে। এরপরেও জ্যোতির্বিজ্ঞান নিয়ে আগ্রহের জন্যই এত কষ্ট করে আসা।”
তারা দুজনই কুষ্টিয়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

এ পর্যায়ে পুরষ্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে মশহুরুল আমিন বলেন, খুলনায় সিনিয়-জুনিয়র উভয় গ্রুপেই পরীক্ষার্থীরা অনেক ভালো নম্বর পাওয়ায় ৪০ জনের অনেক বেশি শিক্ষার্থীকে বেছে নিতে হয়েছে।
এ অলিম্পিয়াড থেকে বাছাই করা শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বিশেষ ঘোষণাও দেন মশহুরুল আমিন। শিক্ষার্থীরা অ্যাস্ট্রোনমি অথবা অ্যাস্ট্রো-ফিজিক্স বিষয়ে অনার্স-মাস্টার্স করতে আগ্রহী হলে এবং আলাদাভাবে প্রস্তুতি নিয়ে ও অলিম্পিয়াডে ভালো করার মাধ্যমে তারা রাশিয়ান সরকারের দেওয়া বিশেষ বৃত্তি পেতে পারেন।
খুলনা বিভাগের পরে, বরিশাল, মুন্সিগঞ্জ ও ঢাকায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে প্রাথমিক বাছাইপর্ব।
প্রাথমিক বাছাইপর্বে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে ৩ অগাস্ট ঢাকায় জাতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হবে।
জাতীয় পর্বে সিনিয়র গ্রুপের ১৫ জন এবং জুনিয়র গ্রুপের ১৫ জনসহ ৩০ জনকে নিয়ে ২১ অগাস্ট থেকে ২৮ অগাস্ট পর্যন্ত আবাসিক ক্যাম্প ও চূড়ান্ত বাছাই পর্ব অনুষ্ঠিত হবে।
আবাসিক ক্যাম্প থেকে নির্বাচিত পাঁচজন শিক্ষার্থী, আসন্ন ২৮তম আন্তর্জাতিক অ্যাস্ট্রো-অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। এবারই প্রথমবার বাংলাদেশে আয়োজিত হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক অ্যাস্ট্রো-অলিম্পিয়াড।