Published : 18 Jul 2025, 09:29 PM
জাতীয় ক্রিপ্টোকারেন্সি বিল পাস করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতারা।
এক সময়ের এই শিশু শিল্পের জন্য এটি এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। কারণ, বছরের পর বছর ধরে ক্রিপ্টো বা ডিজিটাল মুদ্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য কংগ্রেসে লবিং করে আসছেন অনেকেই। একইসঙ্গে গত বছরের নির্বাচনে ক্রিপ্টোর পক্ষে রয়েছেন এমন কিছু প্রার্থীর জন্যও প্রচারণা চালাতে কোটি কোটি ডলার খরচ করেছেন তারা, যাদের মধ্যে ডনাল্ড ট্রাম্পও ছিলেন বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বিবিসি।
‘স্টেবলকয়েন’ নামে পরিচিত এক ধরনের ক্রিপ্টোকারেন্সির জন্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে বিলটিতে।
স্টেবলকয়েন এক ধরনের ডিজিটাল মুদ্রা, যেটি সাধারণত নগদ অর্থ জমা রাখার জন্য বা অন্য ক্রিপ্টোকারেন্সি কেনার কাজে ব্যবহৃত হয়। এসব কয়েনের পেছনে সরকারি বন্ড, যেমন– ইউএস ট্রেজারি দিয়ে মূল্য নিশ্চিত করা থাকে। যেমন– প্রতি ১টি স্টেবলকয়েনের পেছনে ১ ডলার বা সমপরিমাণ সরকারি মুদ্রা রাখা থাকে। ফলে এর মান সবসময় স্থির থাকে।
ধারণা করা হচ্ছে, শুক্রবার এ বিলটিতে স্বাক্ষর করবেন ট্রাম্প। কারণ বৃহস্পতিবার বিলটি পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিম্নকক্ষ, যেটি গত মাসে অনুমোদন করেছিল সিনেট।
‘জিনিয়াস অ্যাক্ট’ নামে পরিচিত এ বিলটি ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সমর্থিত তিনটি ক্রিপ্টোকারেন্সি আইনের মধ্যে একটি বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বিবিসি।
প্রেসিডেন্ট এক সময় ক্রিপ্টোকে ঠাট্টার ছলে কেলেঙ্কারী বা স্ক্যাম বলেছিলেন। তবে এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ক্রিপ্টো শিল্প থেকে সমর্থন পাওয়ার পর এ সম্পর্কে তার মত বদলে যায় এবং ব্যবসায়ী হিসেবে শিল্পে নাম লেখান তিনি, বিশেষ করে ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়াল’-এর মতো কোম্পানির সঙ্গেও সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন ট্রাম্প।
বিলটির সমর্থকরা বলেছেন, দ্রুত বাড়তে থাকা ক্রিপ্টো শিল্পের জন্য স্পষ্ট নিয়ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে তৈরি হয়েছে এটি। যাতে আধুনিক পেমেন্ট সিস্টেমের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।
আগে থেকেই এমন নিয়ম করার জোর দাবি জানিয়ে আসছিল ক্রিপ্টো শিল্প। কারণ, তাদের আশা, এতে আরও বেশি মানুষ ডিজিটাল মুদ্রা ব্যবহার করবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনে আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠবে এটি।
বিলটিতে বলা হয়েছে, স্টেবলকয়েনের প্রতিটি ইউনিটের মূল্য ঠিক এক মার্কিন ডলার বা অন্য কোনো নিরাপদ সম্পদের সমান হতে হবে, অর্থাৎ যেটি ক্রিপ্টোমুদ্রা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে সেটির পেছনে অবশ্যই ডলার বা অন্য নিরাপদ সম্পদ থাকবে। স্টেবলকয়েন ব্যবহার করে ট্রেডাররা এক ক্রিপ্টো টোকেন থেকে অন্য টোকেনে অর্থ পাঠাতে পারেন।
এসব কয়েন বিশেষ করে যেগুলোর দাম কম ওঠানামা করে বলে ধরা হয় সেগুলোর ব্যবহার গত কয়েক বছরে দ্রুত বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বিবিসি।
এদিকে, সমালোচকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় নতুন ঝুঁকি তৈরি করবে আইনটি। এটি স্টেবলকয়েনকে বৈধ করে দিলেও ব্যবহারকারীদের জন্য যথেষ্ট সুরক্ষা ব্যবস্থা নেই।
তারা বলেছেন, ব্যাংকের মতো নানা কাজে বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানির অংশগ্রহণ আরও বাড়িয়ে দেবে এই আইন। অথচ এসব প্রযুক্তি কোম্পানির ওপর ব্যাংকের মতো নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেই। এ ছাড়া, কোনো স্টেবলকয়েন কোম্পানি যদি টিকে থাকতে না পেরে ব্যর্থ হয় তবে এক জটিল দেউলিয়া প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গ্রাহকদের ঝুলিয়ে রাখবে তারা।
বিলটির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তোলার চেষ্টাও করেছিলেন ক্রিপ্টো সমালোচকরা। তারা বলেছিলেন, এ বিলের পক্ষে ভোট দেওয়ার মানে আসলে ট্রাম্পের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড যার মধ্যে তার পরিবার ও ক্রিপ্টোমুদ্রা প্রচারের বিষয়টি রয়েছে সেটিকেও সমর্থন করা।
এরপরও ডেমোক্র্যাটদের কাছ থেকে সমর্থন পেয়েছে বিলটি, যাদের প্রায় অর্ধেক এর পক্ষে ছিলেন। একইসঙ্গে এতে সমর্থন দিয়েছে রিপাবলিকানরাও।
এদিকে, এ সপ্তাহে প্রথমবারের মতো এক লাখ ২১ হাজার ডলারে পৌঁছে নতুন রেকর্ড গড়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ডিজিটাল মুদ্রা বিটকয়েন, যা ক্রিপ্টোমুদ্রার ইতিহাসে এ যাবতকালে সর্বোচ্চ দাম।