Published : 26 Jun 2026, 04:10 PM
শিশুদের ওপর সামাজিক যোগাযোগ মধ্যমের ক্ষতিকর ও আসক্তিকর প্রভাব নিয়ে করা বড় এক মামলায় আদালতের বাইরে সমঝোতা করেছে ইউটিউবের মূল কোম্পানি মার্কিন টেক জায়ান্ট গুগল।
ক্যালিফোর্নিয়াসহ আমেরিকার বিভিন্ন আদালতে সামাজিক মাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে চলমান হাজার হাজার মামলার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে এ সমঝোতাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুসারে, এ বছরের শুরুতে হওয়া একই ধরনের এক মামলার পর এবার ‘আর কে সি’ নামে এক অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরের দায়ের করা মামলাটি আদালতের বাইরে মীমাংসা করেছে গুগল।
ওই কিশোরের দাবি ছিল, বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম তার মানসিক বা শারীরিক ক্ষতি করেছে।
মঙ্গলবার আইনজীবীরা বলেছেন, এ সমঝোতার শর্ত ও আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছে।
একই বাদী মেটা, স্ন্যাপচ্যাট ও টিকটকের বিরুদ্ধেও মামলা করেছে, যেগুলোর বিচার আগামী মাসে শুরুর কথা রয়েছে।
ইউটিউবের বিরুদ্ধে এমন আরও হাজার হাজার মামলা ঝুলে থাকায় এ দ্বিতীয় মামলাটিকে পরবর্তী বিভিন্ন মামলার জন্য পরীক্ষামূলক ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গুগলের একজন মুখপাত্র বলেছেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য বয়স-উপযোগী পণ্য তৈরি এবং অভিভাবকদের নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতা জোরদার করা। এ মামলাটি সৌহার্দ্যপূর্ণভাবেই সমাধান করা হয়েছে।”
এর আগে, প্রথম মামলাটি করেছিলেন ‘কে জি এম’ নামে এক ২০ বছর বয়সী এক তরুণী। তারও অভিযোগ ছিল, সামাজিক মাধ্যম আসক্তি তার ক্ষতি করেছে।
ওই তরুণী মামলায় জয় এবং ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৬০ লাখ ডলার পেয়েছেন। যার মধ্যে মেটা দিয়েছে ৩০ লাখ ডলার এবং বাকি ৩০ লাখ ডলার দিয়েছে ইউটিউব।
ইউটিউব সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দিয়ে বলেছে, তারা ‘দায়িত্বশীলতার সঙ্গে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মটি তৈরি করেছে, যা কোনো সামাজিক যোগাযোগ মধ্যম সাইট নয়’।
ক্যালিফোর্নিয়ার আদালতেই সামাজিক মাধ্যম আসক্তি সংক্রান্ত তিন হাজার তিনশরও বেশি মামলা বর্তমানে ঝুলে রয়েছে।
পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তি, স্কুল ডিস্ট্রিক্ট, পৌরসভা ও অঙ্গরাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল আদালতে আরও দুই হাজার ৬০০টি মামলা দায়ের হয়েছে। আর এমনটা কেবল যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় এক অঙ্গরাজ্যের চিত্র।
প্রত্যেক বাদী যদি লাখ লাখ ডলারের ক্ষতিপূরণ পেতে শুরু করেন তাহলে ইউটিউব ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের জন্য এ সমস্যা কতটা বড় আকার নেবে তা সহজেই অনুমেয়।
সম্প্রতি বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকি, নিউ ইয়র্ক সিটিসহ আরও বেশ কয়েকটি অঞ্চলের আদালতে এমন মামলার মুখে পড়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রেমীমাংসাও করেছে।
এদিকে, মেটা ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম বরাবরই তাদের বিভিন্ন অ্যাপের আসক্তিকর হওয়ার দাবিটি অস্বীকার করে আসছে। তবে কে জি এম বা প্রথম মামলাটির একজন আইনজীবী বলেছেন, এসব কোম্পানির নিজস্ব অভ্যন্তরীণ যোগাযোগই তাদের এ দাবিকে মিথ্যা প্রমাণ করেছে।
মার্চে আইনজীবী জোসেফ ভ্যানজ্যান্ড্ট বলেছিলেন, “ইতিহাসে এই প্রথম কোনো জুরি সামাজিক মাধ্যম নির্বাহীদের সাক্ষ্য শুনেছেন এবং এমন কিছু অভ্যন্তরীণ নথিপত্র দেখেছেন, যা থেকে প্রমাণ মিলেছে, এসব কোম্পানি শিশুদের চেয়ে নিজেদের মুনাফাকেই বেশি প্রাধান্য দিয়েছে।”