Published : 12 Nov 2025, 01:40 PM
জেফ বেজোস যখন ঠিক করলেন অ্যামাজনকে স্মার্টফোন বাজারে প্রবেশ করতে হবে তখন পুরোপুরি মনোযোগ দিয়েই তিনি এগোলেন। ফলে তৈরি হল ‘ফায়ার ফোন’ নামের এক ‘অদ্ভুত’ ফোনের।
প্রযুক্তি সাইট ভার্জ লিখেছে, আইডিয়ার দিক থেকে ফোনটি যে কোনো গ্যাজেটের চেয়ে বৈচিত্র্যময় ও সমৃদ্ধ হলেও এর একটাই সমস্যা ছিল। কারণ, ফোনের সেইসব আইডিয়ার বেশিরভাগই ভালো নয়।
২০১৪ সালে লম্বা ফিচারের তালিকাসহ ফায়ার ফোন বাজারে আনে মার্কিন ই কমার্স জায়ান্টটি। ফোনের স্ক্রিনে ছিল থ্রিডি ইফেক্ট, অনেকগুলো ক্যামেরা ও পুরো হোম স্ক্রিনজুড়েই ছিল ‘ডিলাইটার’ নামে কিছু ফিচারে ভরা।
ফায়ার ফোন তৈরির মূল উদ্দেশ্য ছিল অ্যামাজন থেকে কেনাকাটার বিষয়টি সহজ করা। এমনটি চেয়েছিলেন বেজোস, তবে ব্যবহারকারীদের চাওয়া ছিল ভিন্ন। বাজারে আসার কয়েক মাসের মধ্যেই ফোনটি এক ডলারের কম দামে পাওয়া গিয়েছে। এরপরও মানুষ এই ফোন কিনতে চাননি।
বাজারে আসার মাত্র দুই মাসের মধ্যে অ্যামাজন ঘোষণা করেছিল, ‘এটিঅ্যান্ডটি’-এর সঙ্গে গ্রাহকরা দুই বছরের চুক্তি করলে দুইশো ডলারে পাওয়া যাবে ফোনটি। তবে শুরুতে ফোনটির দাম ছিল সাড়ে ছয়শ ডলার। এরপরও ক্রেতারা কিনতে না চাওয়ায় ৯৯ সেন্টে বিক্রি হয়েছিল ফোনটি।
মার্কিন ই কমার্স জায়ান্টটি বলেছে, ফায়ার ফোনের ব্যর্থতার কারণে ২০১৪ সালের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে তাদের ১৭ কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে।
বাজারে ফায়ার ফোন পুরোপুরি ব্যর্থ হওয়ার অনেক কারণ থাকলেও অন্যতম কারণ হচ্ছে, শুরুতে ফোনটির যে দাম ঠিক করা হয়েছিল সেটি। আগে অ্যামাজনের ফায়ার ট্যাবলেটের সফলতা দেখে গ্রাহকরা আশা করেছিলেন, ফোনটি সাশ্রয়ী মূল্যের ও ভালো মানের হবে, যা একই দামের অন্যান্য ফোনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারবে।
এই কৌশল অ্যামাজনের বিভিন্ন ট্যাবলেটের ক্ষেত্রে কাজ করলেও ফোনের ক্ষেত্রে খাটেনি। কারণ, অ্যাপলের আইপ্যাডের চেয়ে সাশ্রয়ী বিকল্প সরবরাহ করেছিল অ্যামাজনের ট্যাবলেট। তবে ফায়ার ফোনের মাধ্যমে সাড়ে ছয়শ ডলারে একটি হাই-এন্ড ফোন তৈরির চেষ্টা সফল হয়নি কোম্পানিটির।
অসাধ্য দামের পাশাপাশি ফায়ার ফোনের বিভিন্ন ফিচারও গ্রাহকদের পছন্দ হয়নি। ‘থ্রিডি ফাংশনালিটি’ ও ‘ফায়ারফ্লাই’-এর মতো ফিচার, যা আইটেম স্ক্যান ও শনাক্ত করার সুবিধা দিত তা গ্রাহকদের কাছে হতাশ করেছে। কারণ বাস্তব জীবনে কাজে লাগার মতো কিছু আশা করেছিলেন তারা।
ফায়ার ফোনে ছিল ‘ফায়ার ওএস’ নামের এক কাস্টমাইজ করা অ্যান্ড্রয়েড সিস্টেম। তবে এতে জিমেইল বা ম্যাপস-এর মতো প্রধান গুগল অ্যাপ ব্যবহার করা যাচ্ছিল না, যা গ্রাহকদের জন্য সীমাবদ্ধতা তৈরি করেছিল।
অ্যামাজনের ‘এটিঅ্যান্ডটি’-এর সঙ্গে চুক্তির কারণে ফায়ার ফোনের মার্কিন গ্রাহকরা আরও অসুবিধায় পড়েছিলেন। ফোনটি সব প্রাইম গ্রাহকের কাছে প্রচার করলেও বাস্তবে কেবল সেইসব গ্রাহকের কাছে বিক্রি করা যেত যাদের ‘এটিঅ্যান্ডটি’-এর সঙ্গে চুক্তি রয়েছে।
শেষ পর্যন্ত ফোনটি অ্যামাজনের জন্য বড় কিছুর সূচনা হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা সাফল্য বয়ে আনতে পারেনি। তবে এতে ফোনের গল্প কম রোমাঞ্চকর হয়ে ওঠেনি।