‘ফোন নাম্বার যাচাইকৃত’ অ্যাকাউন্ট নিয়ে পরীক্ষা করেছে টুইটার
ব্যবহারকারীর বিভিন্ন তথ্য যাচাইয়ের কথা উল্লেখ করেছিলেন সাবেক সিইও জ্যাক ডরসি, যা অনেকটা ‘এয়ারবিএনবি’ বা ‘টিন্ডার’ সেবায় থাকা ফোন নাম্বার যাচাইকরণ ব্যবস্থার মতো।
‘বট অ্যাকাউন্ট’ নিয়ে ইলন মাস্কের ‘সমস্যা’ ছাড়াও টুইটার কীভাবে অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করে এবং কোনো অ্যাকাউন্টকে কীভাবে অন্যটি থেকে প্রাধান্য দেয়, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে অনেক ব্যবহারকারীর। এমন বাস্তবতায় এক গবেষক খুঁজে বের করেছেন চমকপ্রদ কিছু বিষয়।
বিশেষ এক ধরনের ‘টুইটার লেবেল’ খুজে বের করেছেন হংকংয়ের প্রকৌশলী জেন ম্যানচুন। এর মাধ্যমে ভেরিফাইড ফোন নাম্বার থাকা অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করা সম্ভব। আরেকটি ফিচারের কথা বলেছেন তিনি, যার মাধ্যমে দেখা যায় ব্যবহারকারীর টুইট সংখ্যা।
প্রযক্তিবিষয়ক সাইট ভার্জের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এরইমধ্যে নতুন এই ফিচারে প্রবেশাধিকার পেয়েছেন বেশ কিছু ব্যবহারকারী, যেখানে ‘অ্যানালিটিক্স’ নামে একটি লেবেলের মাধ্যমে নিজস্ব টুইট সংখ্যা যাচাই করা যায়।
“ফিচারটি কেবল টুইটদাতার কাছে সীমাবদ্ধ থাকবে, না কি সবার কাছে উন্মুক্ত থাকবে, সেটি এখনও পরিষ্কার নয়।”
ফোন নাম্বারের সঙ্গে একটি অ্যাকাউন্ট ‘লিংক’ করার মানে হচ্ছে ওই অ্যাকাউন্টের টুইটগুলো অপেক্ষাকৃত বেশি মনোযোগের সঙ্গে পোস্ট করা হয়েছে, কেবল কোনো ম্যাক্রো ব্যবহার করে তৈরি টুইট নয় - প্রতিবেদনে বলেছে প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট ভার্জ।
ব্যবহারকারীর কোন টুইটগুলো সবচেয়ে বেশি দেখানো হবে সেটি যাচাই করতে অথবা বিভিন্ন ধাপে থাকা ‘কোয়ালিটি ফিল্টার’ পেরোতেও এই ফিচার সহায়তা করতে পারে।
ভার্জের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যবহারকারীকে সর্বোচ্চ ১০টি অ্যাকাউন্টে একই ফোন নাম্বার ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে টুইটার। অন্যদিকে, ডেভেলপাররা বিভিন্ন স্বয়ংক্রিয় অ্যাকাউন্ট লেবেল করতে পারেন, যার মাধ্যমে সহজেই বোঝা যায় যে, প্রতিটি পোস্টের পেছনে মানুষের হাত নেই।
টুইটারের ভেরিফাই করা ‘ব্লু চেকড’ অ্যাকাউন্টে এরইমধ্যে ব্যবহারকারীর ফোন নাম্বার এবং ইমেইল ঠিকানা যোগ করার শর্ত রয়েছে। আর, টুইটারে থাকা সকল ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট ভেরিফাই করার পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন সামাজিক মাধ্যমটির সাবেক সিইও জ্যাক ডরসি। ব্যবহারকারীর বিভিন্ন নিজস্ব তথ্য যাচাইয়ের কথাও উল্লেখ করেছিলেন তিনি, যা অনেকটা ‘এয়ারবিএনবি’ এবং ‘টিন্ডার’ সেবায় থাকা ফোন নাম্বার যাচাইকরণ ব্যবস্থার মতো।
তবে, অ্যাকাউন্টের সঙ্গে ফোন নাম্বার যুক্ত করা এবং অ্যাকাউন্টের স্ট্যাটাস বা অবস্থা প্রকাশ্যে আনার প্রস্তাবে প্রশ্ন উঠছে ব্যবহারকারীর ডেটা সুরক্ষা নিয়ে।
২০২২ সালের ৫ অগাস্ট টুইটার জানায়, ৫৪ লাখ অ্যাকাউন্টের নাম, ফোন নাম্বার ও ইমেইল ঠিকানা হাতিয়ে নিয়েছে এক আক্রমণকারী।
কোম্পানিটির নিজস্ব অ্যাকাউন্টে প্রাইভেসি সংক্রান্ত ত্রুটি প্রথম দেখা যায় ২০২১ সালের জুন মাসের আপডেটে, যেটির সম্পর্কে এ বছরের জানুয়ারি মাসের আগ পর্যন্ত টুইটার জানতো না।
২০২২ সালের জুলাই মাসে যখন বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে প্রকাশ পায় যে কেউ একজন সামাজিক মাধ্যমটির ডেটাবেইজ বিক্রির চেষ্টা করছে, তখন তথ্য চুরির বিষয়টি নজরে আসে টুইটারের।
