Published : 11 Mar 2026, 10:41 AM
ইলন মাস্ক ও বিশ্বের ধনকুবেরদের সম্পদ এখন ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে। এআই খাতের জয়জয়কার ও টেক শেয়ারের দাম বাড়ায় বর্তমানে বিশ্বে রেকর্ড সংখ্যক ৩ হাজার ৪২৮ জন বিলিয়নেয়ার রয়েছেন, যাদের মোট সম্পদের পরিমাণ সাধারণ মানুষের কল্পনাকেও ছাড়িয়েছে।
২০২৬ সালে ফোর্বসের সর্বশেষ হিসাব অনুসারে, ইলন মাস্ক বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি এবং তার সম্পদের পরিমাণ তালিকার পরবর্তী তিন শীর্ষ ধনীর মোট সম্পদের চেয়েও বেশি।
ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্ট লিখেছে, টেসলার এই প্রতিষ্ঠাতা ২০২২ সালে টুইটার (বর্তমান এক্স) কিনেছেন এবং মানুষকে মঙ্গলে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন। তার বর্তমান সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ৮৩ হাজার ৯০০ কোটি ডলার।
এ বিশাল সম্পদ মাস্ককে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীদের থেকে অনেকখানি এগিয়ে রেখেছে। তালিকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে থাকা গুগলের দুই সহ প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেইজ ও সের্গেই ব্রিনের সম্পদের পরিমাণ যথাক্রমে ২৫ হাজার ৭০০ কোটি ডলার এবং ২৩ হাজার ৭০০ কোটি ডলার।
চতুর্থ স্থানে রয়েছেন অ্যামাজনের জেফ বেজোস, যার সম্পদের পরিমাণ ২২ হাজার ৪০০ কোটি ডলার। নবম স্থানে রয়েছেন ওয়ারেন বাফেট, যাকে ‘ওরাকল অফ ওমাহা’ বলা হয় এবং সর্বকালের সেরা বিনিয়োগকারী হিসেবে বিবেচিত তিনি।
বাফেটের সম্পদের পরিমাণ তুলনামূলক কিছুটা কম, ১৪ হাজার ৯০০ কোটি ডলার। ৯৫ বছর বয়সী এই ধনী সব সময়ই বলে এসেছেন, তিনি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজে সম্পদের সিংহভাগই দান করে দেবেন।
ধনকুবেরদের সম্পদের হিসাব রাখা মার্কিন সাময়িকী ফোর্বস বলেছে, বিলিয়নেয়ারদের সম্পদের জন্য রেকর্ড গড়ার বছর ২০২৬। বর্তমানে বিশ্বের ধনী ব্যক্তিরা আগের চেয়ে আরও বেশি সম্পদশালী এবং তাদের সংখ্যাও আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি।
২০২৬ সালের বিশ্বের বিলিয়নেয়ার তালিকায় রেকর্ড সংখ্যক ৩ হাজার ৪২৮ জন স্থান পেয়েছেন, যা গত বছরের তুলনায় ৪০০ জন বেশি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতের জোয়ার ও প্রযুক্তি খাতের শেয়ারের দাম বাড়ার কারণেই এমনটি সম্ভব হয়েছে।

ফোর্বসের মতে, ‘বিলিয়নেয়ার হওয়ার জন্য এর চেয়ে ভালো সময় আর কখনও ছিল না’।
তালিকার শীর্ষস্থানীয়দের অধিকাংশই যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা। প্রথম অমার্কিন নাগরিক হিসেবে এই তালিকায় রয়েছেন ফরাসি নাগরিক বের্নার্ড আর্নো। তিনি ‘এলভিএমএইচ’ ফ্যাশন সাম্রাজ্য পরিচালনা করেন। তার সম্পদের পরিমাণ ১৭ হাজার ১০০ কোটি ডলার।
চীনা প্রযুক্তি জায়ান্ট বাইটড্যান্স-এর ঝাং ইমিং ৬ হাজার ৯০০ কোটি ডলার সম্পদ নিয়ে তালিকার ২৬ নম্বরে থাকা প্রথম চীনা নাগরিক।
তালিকার প্রথম নারী হিসেবে ১৪ নম্বরে রয়েছেন অ্যালিস ওয়ালটন, যার সম্পদের পরিমাণ ১৩ হাজার ৪০০ কোটি ডলার। তিনি ‘ওয়াল-মার্ট’ প্রতিষ্ঠাতা স্যাম ওয়ালটনের মেয়ে।
অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে ১৯ নম্বরে রয়েছেন বিল গেটস, যার সম্পদের পরিমাণ ১০ হাজার ৮০০ কোটি ডলার। মাইক্রোসফটের এ প্রতিষ্ঠাতা তার বন্ধু বাফেটের মতো নিজের সম্পদের সিংহভাগ দান করার পরিকল্পনা করছেন।
তবে জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে সম্প্রতি তার ভাবমূর্তি কিছুটা ক্ষুণ্ণ হয়েছে।
‘সুপার রিচ’ তালিকার নিচের দিকে আছেন যুক্তরাজ্যের জেমস ডাইসন, যার সম্পদের পরিমাণ দেড় হাজার কোটি ডলার। এ উদ্ভাবক ‘ব্যাগলেস ভ্যাকুয়াম ক্লিনার’-এর জন্য পরিচিত।

বিলিয়নেয়ারদের এ ক্রমাগত সম্পদ বেড়ে যাওয়ার ফলে মার্কিন সেনেটর বার্নি স্যান্ডার্সসহ আরও অনেকে ‘বিলিয়নেয়ার ওয়েলথ ট্যাক্স’ বা সম্পদ কর আরোপের দাবি তুলেছেন।
স্যান্ডার্স মার্কিন বিলিয়নেয়ারদের ওপর বার্ষিক ৫ শতাংশ হারে সম্পদ কর আরোপের প্রস্তাব করেছেন।
তিনি বলেছেন, ‘ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া’র অর্থনীতিবিদদের বিশ্লেষণ অনুসারে, এই কর ব্যবস্থা থেকে আগামী দশকে ৪.৪ ট্রিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করা সম্ভব।
এ পরিকল্পনা অনুসারে, মাস্কের করের পরিমাণ দাঁড়াবে ৪ হাজার ২০০ কোটি ডলার।
মাস্কের অনুমান, পৃথিবীর প্রতিবেশী গ্রহ মঙ্গলে জনবসতি গড়ে তোলা সম্ভব, সেখানকার জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য তিনি গ্রহটিতে প্রথমে পারমাণবিক বিস্ফোরণের কথা ভাবছেন।
তবে সমাজতন্ত্রী স্যান্ডার্সের সমালোচকরা বলেছেন, এ সম্পদের বেশিরভাগই শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করা, যা তাৎক্ষণিকভাবে নগদ অর্থ হিসেবে পাওয়া সম্ভব নয়।