Published : 19 Oct 2025, 05:37 PM
হোয়াটসঅ্যাপ এখন স্প্যাম মেসেজের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে। অচেনা লোকদেরকে বারবার মেসেজ পাঠিয়ে বিরক্ত করা ঠেকাতে এবার মেটা মালিকানাধীন এই মেসেজিং অ্যাপ বেঁধে দিচ্ছে মেসেজ সংখ্যার সীমা।
প্রথম দিকে শুধু ব্যক্তিগত যোগাযোগের জন্য তৈরি হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ এখন হয়ে উঠেছে গ্রুপ, কমিউনিটি এবং ব্যবসায়িক বার্তার কেন্দ্র। এই পরিবর্তনের ফলে ব্যবহারকারীরা প্রতিদিন আগের চেয়ে অনেক বেশি মেসেজ পাচ্ছেন যার মধ্যে অচেনা ব্যক্তি বা কোম্পানির মেসেজও কম নয়।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বা ব্যবসায়িক কোম্পানি যখন এমন কাউকে মেসেজ পাঠাবে যার কাছ থেকে তারা কোনো উত্তর পায়নি, সেই মেসেজগুলো মাসিক সীমার মধ্যে গণনা হবে। উদাহরণ হিসেবে, ব্যবহারকারী যদি কোনো কনফারেন্সে কারও সঙ্গে দেখা করে তিনটি মেসেজ পাঠান সেগুলোও সীমার মধ্যে ধরা হবে।
তবে হোয়াটসঅ্যাপ এখনো সুনির্দিষ্টভাবে জানায়নি প্রতি মাসে ঠিক কতগুলো মেসেজ পাঠানো যাবে। কোম্পানিটি বলছে, তারা আপাতত বিভিন্ন সীমা নিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে কাজ করছে।
যখন কোনো ব্যক্তি বা ব্যবসায়িক কোম্পানি এই সীমার কাছাকাছি পৌঁছে যাবে, তখন অ্যাপে একটি ওয়ার্নিং পপ-আপ দেখা যাবে। সেখানে দেখানো হবে কতটি মেসেজ পাঠানো হয়েছে, যাতে ব্যবহারকারী বা কোম্পানি আগেভাগেই সতর্ক হতে পারে এবং ব্লকড হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে পারে।
হোয়াটসঅ্যাপ প্রযুক্তি সাইট টেকক্রাঞ্চকে বলেছে, এই নতুন পরীক্ষা আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে একাধিক দেশে চালু হবে। তবে তারা আশ্বস্ত করেছে সাধারণ ব্যবহারকারীরা সাধারণত এই সীমায় পৌঁছাবেন না এবং তাদের মেসেজিং অভিজ্ঞতায় কোনো প্রভাব পড়বে না। মূলত এই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অতিরিক্ত মেসেজ পাঠানো ব্যবসায়িক কোম্পানি ও স্প্যামারদের বিরুদ্ধে।
ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার বাজারে হোয়াটসঅ্যাপ এখন শুধু ব্যক্তিগত নয়, ব্যবসায়িক যোগাযোগেরও বড় মাধ্যম। ফলে অনেক ব্যবহারকারীর ইনবক্সে অচেনা নম্বর থেকে আসা প্রচুর মেসেজ জমে থাকে।
এর আগেও হোয়াটসঅ্যাপ একাধিকবার এমন স্প্যাম কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে তারা ব্যবসায়িক অ্যাকাউন্টের জন্য মাসিক মার্কেটিং মেসেজ পাঠানোর সীমা নির্ধারণের পরীক্ষা শুরু করে। একই বছর তারা ব্যবহারকারীদের বিজনেস মেসেজ থেকে আনসাবস্ক্রাইব করার অপশন দেয়, যাতে কেউ আপডেট বা সাপোর্ট নিতে পারলেও প্রচারণামূলক স্প্যামে বিরক্ত না হয়।
এ ছাড়াও চলতি বছর শুরুর দিকে কোম্পানি ব্রডকাস্ট মেসেজের সংখ্যায়ও সীমা নির্ধারণের পরীক্ষা শুরু করে। এই পরীক্ষা এখন ১২টিরও বেশি দেশে রয়েছে যার মধ্যে ভারতও রয়েছে যেখানে হোয়াটসঅ্যাপের ব্যবহারকারী সংখ্যা ৫০ কোটির বেশি।
হোয়াটসঅ্যাপের এই নতুন উদ্যোগে স্প্যাম বার্তার সংখ্যা কমবে বলে আশা করছে কোম্পানিটি আর সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য এটি আরও নিরবচ্ছিন্ন, স্বস্তিদায়ক চ্যাটিং অভিজ্ঞতা নিয়ে আসবে।