এআই ব্যবহারে তৈরি ভয়েস কল বেআইনী ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রে

"দুষ্কৃতিকারীরা দুর্বল পরিবারের সদস্যদের থেকে চাঁদাবাজি করতে, সেলিব্রেটিদের অনুকরণ করতে ও ভোটারদের মাঝে গুজব ছড়াতে ভয়েস কলে এআই তৈরি কণ্ঠস্বর ব্যবহার করছেন।”

প্রযুক্তি ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 10 Feb 2024, 10:07 AM
Updated : 10 Feb 2024, 10:07 AM

এআই দিয়ে তৈরি কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে রোবোকল বা যান্ত্রিক ভয়েস কল করা অবৈধ ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (এফসিসি)।

মার্কিন অঙ্গরাজ্য নিউ হ্যাম্পশায়ারের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারি নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে অনুকরণ করে একটি জাল রোবোকল তাকে ভোট না দেওয়ার কথা প্রচার করে। এরপরেই, বৃহস্পতিবার সংস্থাটি এ ঘোষণা দিয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স।

“ঘোষণামূলক এ রায়টি রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলদের রোবোকলগুলোর সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করার সুযোগ করে দেবে” – বলেছেন এফসিসি’র চেয়ারম্যান জেসিকা রোজেনওরসেল।

“দুষ্কৃতিকারীরা দুর্বল পরিবারের সদস্যদের থেকে চাঁদাবাজি করতে, সেলিব্রেটিদের অনুকরণ করতে ও ভোটারদের মাঝে গুজব ছড়াতে এসব কলে এআই তৈরি কণ্ঠস্বর ব্যবহার করছে। আমরা এসব কলের সঙ্গে জড়িত প্রতারকদের সতর্ক করে দিতে চাইছি।”

এফসিসি উল্লেখ করেছে, এর আগে অনাকাঙ্ক্ষিত এআই ভয়েস কলের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারতেন অ্যাটর্নি জেনারেলরা। তবে, এবারে বিভিন্ন কলের কণ্ঠ তৈরিতে এআই ব্যবহারকেই অবৈধ করবে নতুন নিয়ম।

বাইডেনের কণ্ঠস্বর নকল করে করা কলটির সঙ্গে টেক্সাসভিত্তিক কোম্পানি ‘লাইফ কর্পোরেশনের’ সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। ওয়াল্টার মঙ্ক নামের এক ব্যক্তির পরিচালিত ওই কোম্পানিটিকে সতর্ক বার্তা পাঠানো হয়েছে ও তদন্ত চলমান রয়েছে বলে এ সপ্তাহের শুরুতে বলেছিলেন নিউহ্যাম্পশায়ারের অ্যাটর্নি জেনারেল জন ফরমেলা।

“এসব নকল কণ্ঠের রোবোকলের বিশ্বাসযোগ্যতা ভোটার দমন স্কিম ও নির্বাচনী প্রচারের মৌসুমে এআই ব্যবহারের নতুন হুমকি নিয়ে এসেছে।” –  বলেছেন এফসিসি’র ডেমোক্র্যাটিক দলের কমিশনার জিওফ্রি স্টার্কস।

“ভয়েস ক্লোনিং (বা কণ্ঠস্বর নকল) মানুষদের এটি বোঝাতে পারে যে, তাদের পরিবারের সদস্যরা বা তাদেরই বিশ্বস্ত কেউ তাদেরকে কোনো কাজ করতে বলছে, এমনকিছু কাজ যা তারা অন্যথায় করবেন না।” – বলেছে এফসিসি।

২০২০ সালের মার্কিন নির্বাচনের আগে ১,১০০ টিরও বেশি অবৈধ রোবোকল করার জন্য রিপাবলিকান দলের কর্মীদের ওপর আরোপিত ৫১ লাখ ডলার জরিমানা ২০২৩ সালে চূড়ান্ত করেছে এফসিসি।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুসারে, সেসময় কলের মাধ্যমে সম্ভাব্য ভোটারদের ভোট দিতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছিল এই বলে যে, “কেউ মেইলের মাধ্যমে ভোট দিলে তাদের ব্যক্তিগত তথ্য একটি পাবলিক ডেটাবেইজের অংশ হবে। পুলিশ এগুলো ব্যবহার করবে পুরনো সমন খুঁজে বের করতে ও ক্রেডিট কার্ড কোম্পানিগুলো ব্যবহার করবে ঋণের বকেয়া সংগ্রহ করতে।”