Published : 02 May 2026, 10:25 AM
দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতির প্রাণভোমরা স্যামসাং, যার পেছনে রয়েছে জালিয়াতি, শত কোটি ডলারের কর ফাঁকি আর প্রেসিডেন্টকে গদিচ্যুত করার মতো বড় কেলেঙ্কারির গল্প।
এই বিশাল সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে গিয়ে লি পরিবারকে লড়তে হয়েছে ঘরে শত্রু ও বাইরে আদালতের সঙ্গে। নানা নাটকীয় পথ পেরিয়ে বর্তমান প্রধান লি জে-ইয়ং এখন ক্ষমতায়। তবে তিনি ঘোষণা করেছেন, পরিবারের এ রাজবংশীয় প্রথা তার মাধ্যমেই শেষ হতে চলেছে।
বিবিসি লিখেছে, বিশ্বের বড় বড় কোম্পানির শীর্ষ পর্যায়ে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটলে তা খুব একটা সাধারণ মানুষের নজরে আসে না। কোম্পানির পণ্য ঠিকঠাক চললে, সেবাগুলো ভালো থাকলে আর দোকানের তাক পণ্যে ভর্তি থাকলেই বোর্ডরুমে কে বসে আছেন তা নিয়ে সংবাদপত্রে খুব একটা মাতামাতি হয় না।
তবে স্যামসাংয়ের ক্ষেত্রে বিষয়টি আলাদা। এ কোম্পানির পেছনের পারিবারিক রাজবংশ এতটাই জটিল এবং দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতিতে কোম্পানিটির গুরুত্ব এতই যে, স্যামসাং সবসময় সংবাদপত্রের প্রধান শিরোনাম হয়ে থাকে।
২০১৭ সালের ঘটনাও ছিল ঠিক তেমনই। স্যামসাংয়ের সে সময়ের হবু উত্তরাধিকারী লি জে ইয়ং (জেওয়াই লি নামেও পরিচিত) এক দুর্নীতি কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার দায়ে জেল খাটেন। একই কেলেঙ্কারির কারণে দক্ষিণ কোরিয়ার তৎকালীন প্রেসিডেন্টকেও ক্ষমতা ছাড়তে হয়েছিল।
৫৭ বছর বয়সী লি হলেন স্যামসাং প্রতিষ্ঠাতার নাতি। ‘স্যামসাং রাইজিং’ বইয়ের লেখক জেফ্রি কেইন তাকে ‘প্রযুক্তির ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তবে ২০১৫ সালে তার বাবা স্যামসাংয়ের তৎকালীন চেয়ারম্যান হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে থাকার সময়ও লির উত্তরাধিকারী হওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত ছিল না।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট পার্ক গিউন-হে’র ঘনিষ্ঠ বন্ধু চোই সুন-সিল পরিচালিত কিছু ফাউন্ডেশনে অর্থ দিয়েছিলেন। এর বিনিময়ে তিনি এক ব্যবসায়িক একীভূতকরণ বা ‘মার্জার’ এর জন্য রাজনৈতিক সমর্থন চেয়েছিলেন, যা স্যামসাং গ্রুপের ওপর তার নিয়ন্ত্রণকে আরও মজবুত করত।
এ ছাড়া, স্যামসাংয়ের দুটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ‘স্যামসাং সিঅ্যান্ডটি’ ও ‘চেইল ইন্ডাস্ট্রিজ’ এর এ একত্র করার প্রক্রিয়ায় শেয়ার বাজার ও হিসাব জালিয়াতির অভিযোগও তার বিরুদ্ধে উঠেছিল।
প্রসিকিউটরদের দাবি ছিল, লি এ জালিয়াতি করেছিলেন যাতে নতুন গঠিত কোম্পানির সবচেয়ে বড় অংশের মালিকানা তার হাতে থাকে। এর মাধ্যমে তিনি পুরো সাম্রাজ্যের মূল চালিকাশক্তি ‘স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স’ এর নিয়ন্ত্রণ নিতে চেয়েছিলেন, যা এই শিল্পগোষ্ঠীর ক্ষমতা ও প্রতিপত্তির প্রধান উৎস।
লি জে-ইয়ং জালিয়াতির অভিযোগ সবসময় অস্বীকার করে এসেছেন। তবে ২০১৭ সালে ঘুষ দেওয়ার অপরাধে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন।
২০১৬ সালে এই বড় দুর্নীতি কেলেঙ্কারি ফাঁসের সময় সিউলের রাস্তায় লাখ লাখ মানুষ কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছিল। ফলে শেষ পর্যন্ত দেশটির প্রেসিডেন্টকে অভিশংসনের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হতে হয়।
কেন এ চুক্তি এত গুরুত্বপূর্ণ ছিল?
১৯৩০ এর দশকের শেষদিকে এক মুদি দোকান হিসেবে স্যামসাংয়ের যাত্রা শুরুর সময় থেকেই কোম্পানিটি লি পরিবারের হাতে রয়েছে।
লেখক জেফ্রি কেইন বলেছেন, দক্ষিণ কোরিয়ায় এ পরিবারটি ‘রাজপরিবারের সমান’। তারা এ ব্যবসাকে প্রকৃত বিশ্বশক্তিতে রূপান্তরিত করেছে; যার মধ্যে বিমা, মেমরি চিপ ও নির্মাণ শিল্পের পাশাপাশি অতি পরিচিত কনজিউমার ইলেকট্রনিক্সও (যেমন মোবাইল, টিভি) রয়েছে।
তবে এ বড় শিল্পগোষ্ঠীকে পরিবারের নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য কোম্পানিটিকে বেশ কিছু জটিল একীভূতকরণ, অধিগ্রহণ ও ক্ষমতা হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। আর এ ধরনের কৌশলী মারপ্যাঁচই লি জে-ইয়ং’কে জেলে পাঠিয়েছিল।
২০১৪ সালে তার বাবা (তৎকালীন স্যামসাং চেয়ারম্যান) হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই লি কার্যত কোম্পানির দায়িত্বে ছিলেন। তার বাবা স্যামসাংকে দক্ষিণ কোরিয়ার সফল ব্যবসা থেকে বিশ্বসেরা বহুজাতিক কোম্পানিতে পরিণত করেছিলেন। এই দায়িত্ব পুরোপুরি বুঝে নেওয়ার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে লি জে-ইয়ং কোম্পানির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করছিলেন।
তবে লি যখন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিলেন তখন তাকে এক কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়। স্যামসাংয়ের ওপর পরিবারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার যে জটিল প্রক্রিয়াগুলো চলছিল, সেগুলো তখনও শেষ হয়নি।
ততদিনে এ ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য বিস্ময়কর রকমের জটিল হয়ে উঠেছিল। এর অধীনে ডজন ডজন কোম্পানি ছিল, যার মধ্যে স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স থেকে শুরু করে খুচরা ব্যবসা, নির্মাণ শিল্প থেকে রাসায়নিক শিল্প সবই রয়েছে। এসব কোম্পানি একে অপরের সঙ্গে এমনভাবে শেয়ার আদান-প্রদানের মাধ্যমে যোগ ছিল যে, পুরো বিষয়টিকে মাকড়সার জালের মতো জটিল মনে হত।
আরেকটি বড় সমস্যা ছিল উত্তরাধিকার কর। লি পরিবারকে এক হাজার কোটি ডলারেরও বেশি কর পরিশোধের মুখে পড়তে হয়। এ মোটা অংকের অর্থ দেওয়ার জন্য যদি তারা কোম্পানির শেয়ার বিক্রি শুরু করতেন তবে পুরো স্যামসাংয়ের ওপর থেকে লি পরিবারের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি তৈরি হত।
উত্তরাধিকারের ঝুঁকি
একমাত্র ছেলে হওয়ায় বাবার মৃত্যুর পর লি জে-ইয়ংকেই স্যামসাংয়ের হাল ধরার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ তিন দশক ধরে তাকে এ পদের জন্য প্রস্তুত করা হলেও অনেকের কাছেই তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে বড় কোম্পানি এবং দেশটির অর্থনৈতিক আশার প্রতীক পরিচালনার জন্য খুব একটা যোপ্য বা দৃঢ়চেতা ব্যক্তি ছিলেন না।
দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদপত্র ‘হানিয়োরেহ’ এর সাংবাদিক জায়েয়ন লি বলেছেন, “তিনি আসলে সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির মানুষ ছিলেন... যেখানে তার বাবাকে খুব আগ্রাসী ও লক্ষ্য-কেন্দ্রিক হিসেবে দেখা হত, সেখানে লি জে-ইয়ং ছিলেন অনেক বেশি লাজুক, শান্ত ও সতর্ক।”
কেউ কেউ মনে করেন তার বোনই দক্ষতায় এগিয়ে ছিলেন। লি’কে যথেষ্ট কঠোর না হওয়ার জন্য সমালোচনাও সইতে হয়েছে। ডটকম বিপর্যয়ের সময় তার ব্যক্তিগত উদ্যোগ ‘ই-স্যামসাং’ ব্যর্থ হলে লি’র ব্যবসায়িক দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
পরিবারটি এর আগের প্রজন্মের উত্তরাধিকার নিয়েও তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখে পড়েছিল। লি জে-ইয়ং এর বাবা ছিলেন সবার ছোট ছেলে, অথচ বড় দুই ভাইকে বাদ দিয়ে তাকেই কোম্পানির প্রধান হিসেবে বেছে নেওয়া হয়।
সবচেয়ে বড় ছেলে অর্থাৎ লি জে-ইয়ং এর বড় চাচা লি মেং-হি’কে নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ঐতিহ্যগতভাবে তার উত্তরাধিকারী হওয়ার কথা থাকলেও একটি মত অনুসারে, তাকে কোম্পানি চালানোর সুযোগ দেওয়া হলে তিনি তা পালনে ব্যর্থ হয়েছিলেন।
তবে তিনি দাবি করতেন, সাত বছর কোম্পানি চালিয়েছিলেন লি মেং-হি। সত্য যাই হোক না কেন, ১৯৭৬ সালে ছোট ছেলে লি কুন-হি-কেই উত্তরাধিকারী ঘোষণা করা হয়। এ সিদ্ধান্ত পরবর্তী কয়েক দশক ধরে পারিবারিক সম্পর্কের ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল।

শূন্য চেয়ার
শুরুটা অনিশ্চয়তায় কাটলেও লি কুন-হি আশির ও নব্বইয়ের দশকে স্যামসাং গ্রুপের দারুণ সাফল্যের সময়টিতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তবে সামনে আরও চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছিল।
২০০৮ সালে লি জে-ইয়ং ও তার বাবা উভয়কেই পদত্যাগ করতে হয়। স্যামসাংয়ের একজন সাবেক আইনজীবী ‘হুইসেল-ব্লোয়ার’ বা তথ্যফাঁসকারী দাবি করেছিলেন, ঘুষ ও রাজনৈতিক লেনদেনের জন্য কোম্পানিটির গোপন তহবিল রয়েছে।
হানিয়োরেহ সংবাদপত্রের সাংবাদিক জায়েয়ন লি’র বর্ণনা অনুসারে, “সেই আইনজীবী বলেছিলেন, তিনি এই দুর্নীতি আর সহ্য করতে পারছিলেন না। তার মতে, স্যামসাংয়ের ভেতরে পচন এতটাই ধরেছিল যে, সেখানে কাজ করা তার জন্য দুঃসহ হয়ে উঠেছিল।”
এ ঘটনা কোম্পানিটি ও সার্বিকভাবে দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল, বিশেষ করে লি জে-ইয়ং যেহেতু পরবর্তী চেয়ারম্যান হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে ছিলেন ফলে উদ্বেগটা ছিল আরও বেশি।
হঠাৎ করেই কোম্পানিটি নেতৃত্বহীন মনে হতে লাগল। পরবর্তীতে তার বাবার বিরুদ্ধে আনা ঘুষের অভিযোগ প্রমাণিত না হলেও কর ফাঁকির দায়ে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। তাকে স্থগিত কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হয়েছিল। আইনত তিনি মুক্ত থাকলেও স্যামসাংয়ের শীর্ষ পদটি তখনও খালি ছিল। লি পরিবার কীভাবে আবার তাদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাবে সেটিই ছিল ওই সময় বড় প্রশ্ন।
৪০ বছরের শত্রুতা
শেষ পর্যন্ত লি কুন-হি প্রেসিডেন্টের ক্ষমা পান ও পুনরায় স্যামসাংয়ের চেয়ারম্যান হিসেবে ফিরে আসেন। তবে তার সমস্যা সেখানেই শেষ হয়নি। ২০১২ সালে তার বড় ভাই (লি জে-ইয়ং-এর বড় চাচা) তার নিজের ‘ন্যায্য অধিকার’ ও উত্তরাধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য আইনি লড়াই শুরু করেন। এমন পদক্ষেপ পরবর্তী প্রজন্মের ক্ষমতায় বসার পরিকল্পনাকে ওলটপালট করে দিতে পারত।
স্যামসাংয়ের প্রতিষ্ঠাতার বড় ছেলে সবসময় ভেবেছিলেন, তিনিই একদিন ব্যবসা পরিচালনা করবেন। তবে প্রথমবার উত্তরাধিকার নির্বাচনের সময় তাকে বাদ দিয়ে ছোট ভাইকে বেছে নেওয়া হয়।
১৯৭৬ সালে লি জে-ইয়ং এর বাবা চেয়ারম্যান হয়ে পুরো সাম্রাজ্য ভাগ করে দেন। ওই সময় এ পারিবারিক বিবাদ আরও তীব্র হয়। তার বড় চাচার পরিবারকে ব্যবসার এমন কিছু অংশ দেওয়া হয়েছিল যেগুলোকে তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হত।
এ কারণে ৪০ বছর পর লি জে-ইয়ং ও তার বাবা এমন এক আইনি দাবির মুখে পড়েন, যার ফলে তাদের কয়েকশ কোটি ডলার মূল্যের শেয়ার বড় চাচাকে ফিরিয়ে দিতে হত। এ মামলায় বড় চাচা জিতে গেলে পুরো ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য ভেঙে পড়ার উপক্রম এবং লি জে-ইয়ং এর ক্ষমতা অর্জনের পরিকল্পনাও হুমকিতে পড়ত।
পরিস্থিতি সামাল দেওয়া
শেষ পর্যন্ত ভাইদের মধ্যকার এই বিবাদ ও পরবর্তী আইনি লড়াই সম্ভবত স্পষ্ট এক উত্তরাধিকার পরিকল্পনার গুরুত্ব বুঝিয়ে দিয়েছিল। আদালত বলেছে, চাচার দাবির পেছনে কিছু যৌক্তিক ভিত্তি থাকলেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সময়সীমা পার হয়ে গেছে।
সাংবাদিক জায়েয়ন লি বলেছেন, “ভাই-বোনরা সবাই একে অপরের ওপর রাগ পুষে রেখেছিলেন, আর আমার মনে হয় সে কারণেই লি কুন-হি তার সন্তানদের জন্য উত্তরাধিকারের বিষয়টি একদম স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন।”
ফলে লি জে-ইয়ং এর বাবা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী হলে কে দায়িত্ব নেবেন তা নিয়ে কোনো সংশয় ছিল না। সেই ব্যক্তিটিই ছিলেন তার ছেলে, যিনি পরবর্তীতে বড় দুর্নীতি ও ঘুষ কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েন এবং পরবর্তী ১০ বছর সেই জটিলতার মধ্য দিয়েই পার করেছেন।
খালাস ও নতুন পথচলা
২০২৫ সালের জুলাইয়ের আগে লি জে-ইয়ং পুরোপুরি অভিযোগমুক্ত হতে পারেননি। সেই সময় সিউল হাই কোর্ট একীভূতকরণ সংক্রান্ত জালিয়াতির অভিযোগে তাকে খালাস দেওয়ার আগের রায়টি বহাল রেখেছে, যেখানে একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তিনি তার উত্তরাধিকার নিশ্চিত করেছিলেন বলে ধারণা করা হয়।
এ রায়ের মাধ্যমে স্যামসাং চেয়ারম্যানের দীর্ঘ এক দশকের অপরাধমূলক অভিযোগ, আদালতের শুনানি ও জেল খাটার অধ্যায় শেষ হয়।
বিষয়টি দক্ষিণ কোরিয়ার ‘চেবল’ বা পারিবারিক ব্যবসার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যেও বড় পরিবর্তন নিয়ে আসে। আইনি কার্যক্রম চলাকালীন লি জে-ইয়ং স্যামসাং রাজবংশের ভবিষ্যৎ পরিচালনার ক্ষেত্রে নতুন এক দিকনির্দেশনার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, “আমি এখনই প্রতিশ্রুতি দিতে চাই, উত্তরাধিকার নিয়ে ভবিষ্যতে আর কোনো বিতর্ক হবে না। আমি আমার সন্তানদের হাতে কোম্পানির ব্যবস্থাপনার অধিকার তুলে দেব না।”
এখন বড় প্রশ্ন হচ্ছে, বড় ছেলে যদি স্বয়ংক্রিয়ভাবে এ সাম্রাজ্যের চাবিকাঠি না পান তবে এ বড় কোম্পানির হাল ধরবে কে?