Published : 11 Jan 2026, 12:03 PM
চিপ নিয়ে বাণিজ্য সীমাবদ্ধতা থাকার পরও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবধান কমানোর দিকেই এগোচ্ছে চীন। ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা ও উদ্ভাবনী প্রচেষ্টা বাড়ায় এই অগ্রগতি সম্ভব হচ্ছে।
বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এক এআই সম্মেলনে চীনের গবেষকরা বলেন, উন্নত চিপ তৈরির যন্ত্রপাতির অভাব এখনো বড় বাধা হলেও সামগ্রিকভাবে খাতটিতে আত্মবিশ্বাস বাড়ছে। এই সপ্তাহে হংকং স্টক এক্সচেঞ্জে চীনের ‘এআই টাইগার’ স্টার্টআপ বলে পরিচিত মিনিম্যাক্স ও ঝিপু এআইয়ের শক্তিশালী অভিষেকও ওই আস্থার প্রতিফলন।
সম্মেলনে বক্তব্য দেন ওপেনএআইয়ের সাবেক জ্যেষ্ঠ গবেষক ইয়াও শুনইউ। গত ডিসেম্বরে তিনি টেনসেন্টের প্রধান এআই বিজ্ঞানী হিসেবে যোগ দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স।
ইয়াও বলেন, আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে কোনো চীনা কোম্পানি বিশ্বের শীর্ষ এআই কোম্পানি হয়ে উঠতে পারে। তার ভাষায়, “বর্তমানে বিদ্যুৎ ও অবকাঠামোর ক্ষেত্রে আমাদের বড় সুবিধা আছে। মূল সংকট উৎপাদন সক্ষমতা, বিশেষ করে লিথোগ্রাফি মেশিন এবং সফটওয়্যার ইকোসিস্টেম।”
রয়টার্স গত মাসে প্রতিবেদনে বলেছে, চীন চরম অতিবেগুনি বা ইইউভি লিথোগ্রাফি মেশিনের একটি কার্যকর প্রোটোটাইপ তৈরি করেছে, যা পশ্চিমা দেশের উন্নত সেমিকন্ডাক্টরের সমমানের চিপ উৎপাদনে সক্ষম হতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাতে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, মেশিনটি এখনো কার্যকর চিপ তৈরি করতে পারেনি এবং ২০৩০ সালের আগে তা সম্ভব নাও হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিনিয়োগ ও অবকাঠামোর ব্যবধানের কথাও স্বীকার করেন চীনা প্রযুক্তি নেতারা। আলিবাবার কিউয়েন লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের প্রযুক্তি প্রধান লিন জুনইয়াং বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের কম্পিউটার অবকাঠামো আমাদের তুলনায় এক বা দুই অর্ডার অব ম্যাগনিটিউড বড়। ওপেনএআইসহ অন্য প্ল্যাটফর্মগুলো পরবর্তী প্রজন্মের গবেষণায় ভারী বিনিয়োগ করছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের ক্ষেত্রে অর্থের টানাটানি রয়েছে। শুধু ডেলিভারিতেই সম্ভবত আমাদের কম্পিউটার অবকাঠামোর বড় অংশ ব্যয় হয়ে যায়।” বেইজিংয়ের সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে এজিআই-নেক্সট ফ্রন্টিয়ার সামিটে এক প্যানেল আলোচনায় এসব কথা বলেন লিন।
তবে সীমিত সম্পদই গবেষকদের নতুন পথে উদ্ভাবনে উৎসাহিত করছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। অ্যালগরিদম ও হার্ডওয়্যার কো-ডিজাইনের মাধ্যমে কম শক্তিশালী ও তুলনামূলক সস্তা হার্ডওয়্যারে বড় এআই মডেল চালানোর দিকে চীনা গবেষকরা জোর দিচ্ছেন।
ঝিপু এআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা টাং জিয়ে বলেন, তরুণ চীনা এআই উদ্যোক্তাদের মধ্যে উচ্চ ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা বাড়ছে, যা দীর্ঘদিন ধরে সিলিকন ভ্যালির বৈশিষ্ট্য হিসেবে পরিচিত।
হংকং আইপিওতে ৪৩৫ কোটি হংকং ডলার তোলা এই উদ্যোক্তা বলেন, “এই পরিবেশ যদি আরও উন্নত করা যায়, ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত মেধাবী মানুষদের উদ্ভাবনের জন্য সময় ও সুযোগ দেওয়া যায়, তাহলে সরকার ও দেশ হিসেবে আমরা অনেক কিছু এগিয়ে নিতে পারি।”