Published : 17 Dec 2025, 01:04 PM
লুইজিয়ানায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের বয়স যাচাই ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের ওপর মা-বাবার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করতে গত বছর একটি আইন পাশ হয়েছিল, যা এখন আটকে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এ অঙ্গরাজ্যটির একজন বিচারক।
‘সিকিওর অনলাইন চাইল্ড ইন্টারঅ্যাকশন অ্যান্ড এইজ লিমিটেশন’ নামে পরিচিত এ আইনটি ২০২৩ সালে পাস করেছিল লুইজিয়ানা। আইনটির আওতায় মার্কিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম জায়ান্ট মেটা, আমেরিকান অনলাইন কমিউনিটি প্ল্যাটফর্ম রেডিট, স্ন্যাপচ্যাট, ইউটিউব ও ডিসকর্ড’সহ অন্যান্য প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহারকারীর বয়স যাচাই ও মা-বাবার নিয়ন্ত্রণ ফিচার যোগ করতে হত।
এ গ্রীষ্মে আইনটি কার্যকরের কথা ছিল, আর সে অনুসারে প্রস্তুতিও নিচ্ছিল অঙ্গরাজ্যটি। তবে আইনটি কার্যকরের আগেই বিচারক তা আটকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি বিষয়ক সাইট এনগ্যাজেট।
বিচারক জন ডি গ্রাভেলস বলেছেন, এ আইনে ‘বয়স যাচাই ও মা-বাবাদের অনুমতির নিয়মগুলো কিছু ক্ষেত্রে বেশি জটিল, আবার কিছু ক্ষেত্রে কম’। এ ছাড়া, ‘সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম’ কী তা আইনে ‘স্পষ্টভাবে’ বলা হয়নি।
বিচারকের এমন রায়টি নেটচয়েসের জন্য বড় এক জয়। ‘নেটচয়েস’ মূলত এমন এক লবিয়িং গ্রুপ, যা বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানির প্রতিনিধিত্ব করে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বয়স যাচাই সংক্রান্ত আইনের বিরোধিতা করে আসছে। দলটির দাবি, এই আইন সংবিধি-বিরোধী এবং নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
রায় প্রকাশের পরে এক বিবৃতিতে নেটচয়েস বলেছে, লুইজিয়ানার এ আইনের মতো অন্যান্য আইন ব্যবহারকারীদের ‘প্রাইভেসির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে’।
নেটচয়েসের ‘লিটিগেশন সেন্টারের’ যুগ্ম পরিচালক পল টাস্কে বলেছেন, “লুইজিয়ানার এ আইন কেবল মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকেই সীমিত করত না, বরং মানুষদের ব্যক্তিগত তথ্যের জন্যও বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারত। এমন ঝুঁকি অন্য দেশে এরইমধ্যে দেখা যাচ্ছে, যেখানে কথার স্বাধীনতার নিশ্চয়তা নেই, যেমন যুক্তরাজ্য।”
এ বিষয়ে এনগ্যাজেটের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি লুইজিয়ানা অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস।