Published : 15 Sep 2025, 02:18 PM
ওয়্যারলেস ইন্টারনেট প্রযুক্তি গত শতকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার। এটি স্মার্টফোন, কম্পিউটার কিংবা ন্যাভিগেশন সিস্টেমকে বাতাসের মধ্য দিয়ে ডেটা আনানেওয়ার কাজটি করতে দেয়।
তবে প্রযুক্তিটি নিখুঁত নয়, এটি নানা ধরনের বাধার মুখে পড়ে। প্রতিযোগী ওয়্যারলেস সিগনাল, কঠিন বস্তু এমনকি খারাপ আবহাওয়াও ইন্টারনেট সংযোগে প্রভাব ফেলে।
ওয়্যারলেস ইন্টারফিয়ারেন্স বুঝতে হলে আগে জানতে হবে যে স্যাটেলাইট, রেডিও বা সেল টাওয়ারের মতো প্রতিটি ট্রান্সমিটার আসলে আল্ট্রাসনিক তরঙ্গ প্রেরণ করে যা রিসিভারের অ্যান্টেনায় ধরা পড়ে। সবচেয়ে ভালো ফল পেতে হলে ট্রান্সমিটার আর রিসিভারের মধ্যে কোনো বাধা না থাকা জরুরি। এ কারণেই মোবাইল ফোন কোম্পানির টাওয়ারগুলো এত উঁচু হয়।
কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি সবসময় অনুকূলে থাকে না। বাতাসে ধূলিকণা, গাছপালা কিংবা বাড়ির দেওয়ালের মতো জিনিস সিগনালকে দুর্বল করে দেয়। ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক তরঙ্গ এসব বস্তু ভেদ করতে পারে না, ফলে সিগনাল প্রতিফলিত হয়ে ভেঙে যায়। এর ফলেই গাড়ির রেডিওতে স্ট্যাটিক শব্দ শোনা যায় বা ইন্টারনেটে ডেটা লস হয়। ডেটা হারালে ট্রান্সমিটারকে সেটি আবার পাঠাতে হয় যার কারণে ডাউনলোডের গতি কমে যায়।
খারাপ আবহাওয়ায়ও একই সমস্যা হয়। মেঘ, বৃষ্টি, কুয়াশা কিংবা পানির উপস্থিতি সিগনালকে ভেঙে ফেলে, ফলে সংযোগ দুর্বল হয়ে পড়ে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সাইট ‘হাও স্টাফ ওয়ার্কস’।
কোন আবহাওয়া স্যাটেলাইট সিগনালকে বেশি প্রভাবিত করে
স্যাটেলাইট টিভি ও ইন্টারনেট অনেকের জন্য সুবিধাজনক সমাধান, বিশেষ করে যেসব এলাকায় অন্য কোনো সংযোগ নেই। তবে অন্যান্য ইন্টারনেট পরিষেবার তুলনায় স্যাটেলাইট ইন্টারনেট খারাপ আবহাওয়ার সময় বেশি বিঘ্নিত হয়।
কারণ, স্যাটেলাইটগুলো আকাশের অনেক ওপরে কক্ষপথে অবস্থান করে। ফলে তাদের সিগনাল মেঘের বাধার সম্মুখীন হয়। স্বাভাবিক আবহাওয়ায় এতে সমস্যা হয় না কিন্তু বজ্রঝড়ের সময় বিশাল মেঘ সহজেই সিগনাল দুর্বল করে ফেলে। তখন ডেটা ধীরগতিতে পৌঁছায় বা কয়েক মিনিটের জন্য পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
যারা স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের ওপর নির্ভর করেছেন তারা সম্ভবত এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন। খারাপ আবহাওয়ায় সিগনাল সমস্যার পাশাপাশি স্যাটেলাইট ডিশে বরফ জমতে পারে আবার ঝড়ো হাওয়া ডিশকে অস্বাভাবিক কোণে ঠেলে দিতে পারে। ঝড় কেটে যাওয়ার পরও সিগনাল অনেক সময় এসব কারণে ফেরে না।
দুঃখজনকভাবে, ঝড়ের সময় স্যাটেলাইট সিগনাল হারানোর তেমন কোনো সমাধান নেই। কেবল অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় থাকে না। তাই যদি এমন কোনো ডিভাইস থাকে যেটিতে খারাপ আবহাওয়ার মধ্যেও স্থায়ী ইন্টারনেট প্রয়োজন সেক্ষেত্রে বিকল্প সংযোগই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।
স্যাটেলাইট ট্রান্সমিশনের মতোই ঝড়বৃষ্টির সময় মোবাইল ডাটাও সমস্যায় পড়তে পারে। ৪জি কিংবা ৫জি সিগনাল বায়ুমণ্ডলের আর্দ্রতা ভেদ করতে গিয়ে দুর্বল হয়ে যায়। তবে সেল টাওয়ার সাধারণত মেঘস্তরের অনেক নিচে থাকে বলে এটি খুব বড় সমস্যা হয় না। তবুও ঘন কুয়াশা বা প্রবল বৃষ্টিতে সিগনালের কয়েকটি বার কমে যেতে পারে, বিশেষ করে যদি মোবাইলের অবস্থান টাওয়ার থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে হয়। বিরল ক্ষেত্রে বজ্রপাত সরাসরি ট্রান্সমিটারে আঘাত হানলে সেটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পুরোপুরি অফলাইনে চলে যেতে পারে।
তবে স্থায়ীভাবে দুর্বল সেল সার্ভিসের জন্য আবহাওয়া নয় বরং ভৌগোলিক ও বড় ভবনের মতো প্রতিবন্ধকতাই বেশি দায়ী। গাছপালা, উঁচু ভবন কিংবা বড় জলাশয়ের জলীয়বাষ্প রেডিও তরঙ্গকে বাধা দেয়। এ ছাড়া ট্রান্সমিশন থেকে দুরত্ব একটি বড় কারণ। বিশেষ করে ৫জি সংযোগের কার্যকর পরিসর প্রায় সাড়ে চারশ মিটার। এর চেয়ে দূরে গেলে সিগনাল দুর্বল হয়ে যায়।
অন্যদিকে, বাইরের আবহাওয়া সাধারণত বাসার ভেতরের ওয়াই-ফাই সিগনালকে প্রভাবিত করে না। রাউটার থেকে ডিভাইসে আসা সিগনাল একই থাকে। তবে ওয়াই-ফাই যে ইন্টারনেট সার্ভিস ব্যবহার করে সেটি যদি আবহাওয়ার কারণে বিঘ্নিত হয়, তবে সংযোগ সমস্যায় পড়তে হয়। রাউটারের অবস্থানও বড় ভূমিকা রাখে। এটি এমন জায়গায় থাকা উচিত যেখান থেকে সব ডিভাইসে সমানভাবে পৌঁছাতে পারে এবং দেয়ালের বাধা কম থাকে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতিতে খুব কমই এমন হয়।
কখনো যদি ওয়াইফাই সিগনালকে বাইরে দিয়ে যেতে হয় যেমন বাগানে বসে ব্যবহার করার সময় তখন বৃষ্টি বা কুয়াশা সিগনাল দুর্বল করতে পারে। কনসার্ট ভেন্যু বা পার্কের মতো খোলা জায়গায় ব্যবহার করা হটস্পটও খারাপ আবহাওয়ায় নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
ওয়াই-ফাই ইন্টারফিয়ারেন্সের সমাধান হিসেবে সরাসরি মডেমে তারযুক্ত সংযোগ দেওয়া যেতে পারে তবে এর সীমাবদ্ধতা আছে। তুলনামূলক ভালো সমাধান হলো বাসায় একাধিক অ্যাকসেস পয়েন্ট বসানো। এ ছাড়া দ্রুত ও সহজ সমাধান হিসেবে ওয়াই-ফাই বুস্টার ব্যবহার করলে রাউটারের সিগনালের পরিসর কার্যকরভাবে বাড়ানো সম্ভব।