Published : 22 Aug 2025, 03:44 PM
ম্যালওয়্যার হলো এমন সব অ্যাপ্লিকেশন যা কম্পিউটারে গুপ্তচরবৃত্তি করে, ডেটা নষ্ট করে, হার্ড ড্রাইভ ধ্বংস করে দেয় কিংবা দূরে থাকা কারও হাতে সিস্টেমের নিয়ন্ত্রণ তুলে দেয়।
বিভিন্ন ধরনের ম্যালওয়্যার আগে থেকেই সক্রিয় থাকে তাই যে কোনো সময় কম্পিউটার আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তখন সবচেয়ে জরুরি হয়ে পড়ে কীভাবে ভাইরাস বা ক্ষতিকারক সফটওয়্যার সরানো যায় তা জানা।
প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট ‘হাও স্টাফ ওয়ার্কস’ লিখেছে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আতঙ্কিত না হওয়া। আবার এটাও ভাবার প্রয়োজন নেই যে কম্পিউটার একেবারে ফরম্যাট করে নতুন করে শুরু করতে হবে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পুরো সিস্টেম মুছে না ফেলেও ম্যালওয়্যার দূর করা সম্ভব। যদিও কিছু ডেটা হারানোর আশঙ্কা থাকে, তবে সবকিছু হারানোর ঝুঁকি সাধারণত থাকে না।
কম্পিউটার ভাইরাস শনাক্ত করা
প্রথমেই নিশ্চিত হতে হবে কম্পিউটার আসলেই ভাইরাসে আক্রান্ত কি না। কম্পিউটার হঠাৎ ধীরগতিতে কাজ করতে শুরু করলে সেটি ক্ষতিকারক কোডের লক্ষণ। ওয়েব ব্রাউজার অচেনা রূপ নিলে বা অপরিচিত সাইটে রিডিরেক্ট করলে ম্যালওয়্যারের উপস্থিতি অনুমান করা যায়।
ঘন ঘন ক্র্যাশ হওয়া বা অস্বাভাবিকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া ভাইরাসের ইঙ্গিত হতে পারে। কোনো ফাইল খুলতে গেলে যদি বার্তা আসে যে ফাইলটি করাপ্টেড, সেটিও সতর্ক সংকেত। এমন পরিস্থিতিতে অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার চালিয়ে ভাইরাস শনাক্ত ও অপসারণ করা উচিত।
উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারের ক্ষেত্রে অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার অপরিহার্য। নিরাপদে ব্যবহার অভ্যাস অনেক সময় ভাইরাস এড়াতে সাহায্য করে বটে কিন্তু ক্ষতিকারক প্রোগ্রাম তৈরিকারীরা সবসময় নতুন উপায়ে সিস্টেম সংক্রমিত করার চেষ্টা করে।
কিছু ম্যালওয়্যার আবার অ্যান্টিভাইরাস ডাউনলোড প্রক্রিয়াই বাধাগ্রস্ত করতে পারে। সে ক্ষেত্রে অন্য একটি কম্পিউটার থেকে সফটওয়্যার ডাউনলোড করে সিডি বা ফ্ল্যাশ ড্রাইভে এনে ইনস্টল করতে হয়।
অ্যান্টিভাইরাস না থাকলে এখনই কেনা বা ডাউনলোড করা উচিত। বাজারে নানা ধরনের অ্যান্টিভাইরাস পাওয়া যায়, এসবের কিছু ফ্রি এবং কিছু পেইড। তবে মনে রাখতে হবে, ফ্রি ভার্সনে সাধারণত অনেক উন্নত ফিচার অনুপস্থিত থাকে যা কেবল পেইড ভার্সনে পাওয়া যায়।
ম্যালওয়্যার অপসারণ করবেন যেভাবে
অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার হালনাগাদ থাকলে সেটি মেশিনে থাকা ম্যালওয়্যার শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। অধিকাংশ অ্যান্টিভাইরাস প্রোগ্রামে একটি সতর্কতা পেইজ থাকে যেখানে শনাক্ত করা প্রতিটি ভাইরাস বা ম্যালওয়্যারের নাম তালিকাভুক্ত থাকে। সফটওয়্যার যে ম্যালওয়্যারগুলো শনাক্ত করে তাদের নাম লিখে রাখা উচিত।
অনেক অ্যান্টিভাইরাস প্রোগ্রাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে ম্যালওয়্যার অপসারণ বা আলাদা করার চেষ্টা করে। এ সময় একটি অপশন বেছে নিয়ে নিশ্চিত করতে হয় যে সফটওয়্যার ম্যালওয়্যার মোকাবিলা করবে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটাই সবচেয়ে ভালো সমাধান, কারণ নিজ হাতে ম্যালওয়্যার অপসারণ করা বেশ জটিল হতে পারে।
যদি অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার বলে যে ম্যালওয়্যার সফলভাবে অপসারণ করা হয়েছে, তবে কম্পিউটার বন্ধ করে আবার চালু করতে হবে এবং আবার সফটওয়্যার চালাতে হবে। যদি দ্বিতীয়বারের স্ক্যানেও সবকিছু পরিষ্কার থাকে, তবে সিস্টেমকে নিরাপদ ধরে নিতে পারেন।
তবে যদি নতুন কোনো ম্যালওয়্যার শনাক্ত হয়, আগের ধাপগুলো আবার অনুসরণ করতে হবে। আর যদি একই ম্যালওয়্যার আবারও পাওয়া যায়, তাহলে অন্য সমাধানের মাধ্যমে চেষ্টা করতে হবে।
কম্পিউটার ভাইরাস এড়ানোর উপায়
উইন্ডোজ কম্পিউটারকে ভাইরাসমুক্ত রাখতে সাধারণ কিন্তু কার্যকর কিছু নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি।
১. ইমেইল ব্যবহারে সতর্কতা: অপরিচিত জায়গা থেকে আসা ইমেইলের অ্যাটাচমেন্ট খোলা বা হাইপারলিংকে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকতে হবে। ভাইরাস ছড়ানোর অন্যতম কৌশল হলো এ ধরনের লিংক ও অ্যাটাচমেন্ট ব্যবহার করা। কেবল সেই লিংকেই ক্লিক করতে হবে যেটির সম্পর্কে প্রেরক স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা দিয়েছে।
২. অটো-লঞ্চ বন্ধ রাখা: যদি ইমেইল ক্লায়েন্টে অটো-লঞ্চ ফিচার সক্রিয় থাকে তবে সেটি বন্ধ করে দেওয়া উচিত। কারণ এই ফিচারটি শুধু একটি ইমেইল খোলার মাধ্যমেই ভাইরাস চালু করতে পারে।
৩. মেসেজে সতর্ক থাকা: মেসেজ বোর্ড, ফেইসবুক মেসেজ কিংবা ইনস্ট্যান্ট মেসেজে পাওয়া লিংকে ক্লিক করার আগে সাবধান থাকতে হবে। মেসেজের উৎস ভালোভাবে যাচাই করা উচিত। বানান ভুল, অস্বাভাবিক বাক্য গঠন বা অদ্ভুত শব্দচয়ন দেখা গেলে সন্দেহজনক মনে করতে হবে। বিশেষত যদি জানেন প্রেরক সাধারণত এমন ভুল করেন না।
৪. সন্দেহজনক ওয়েবসাইট এড়িয়ে চলা: যেসব সাইটে সাধারণত ম্যালওয়্যার থাকে যেমন সফটওয়্যার, গান বা ভিডিও পাইরেসি সংক্রান্ত সাইট কিংবা প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট বা পর্নোগ্রাফির সাইট সে ধরনের ওয়েবসাইট ভিজিট না করাই ভালো। আধুনিক ওয়েব ব্রাউজার সাধারণত এসব সাইটে প্রবেশের চেষ্টা করলে সতর্কবার্তা দেয় সে সতর্কবার্তা উপেক্ষা করা উচিত নয়।
৫. পপ-আপে সতর্ক থাকা: ওয়েব ব্রাউজিংয়ের সময় পপ-আপ উইন্ডোর প্রতি নজর রাখা প্রয়োজন। অনেকসময় ভুয়া নোটিফিকেশন দেখায় যে নির্দিষ্ট কোনো সফটওয়্যার ডাউনলোড করতে হবে। এগুলো আসলে ম্যালওয়্যার ছড়ানোর কৌশল।
৬. নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ: সপ্তাহে অন্তত একবার অ্যান্টিভাইরাস বা ইন্টারনেট সিকিউরিটি সফটওয়্যার ব্যবহার করা উচিত। সফটওয়্যার ও অপারেটিং সিস্টেম নিয়মিত আপডেট রাখা জরুরি। এতে নিরাপত্তাজনিত ফাঁকফোকরগুলো দূর হয়। বেশিরভাগ অ্যান্টিভাইরাস সপ্তাহে অন্তত একবার আপডেট হয় কারণ নিরাপত্তা কোম্পানিগুলো নতুন ভাইরাস সম্পর্কিত তথ্য নিয়মিত তাদের ডেটাবেসে যোগ করে।
৭. অস্থায়ী ফাইল মুছে ফেলা: কম্পিউটারে অস্থায়ী ফাইল নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে যেন ম্যালওয়্যার সেগুলো ব্যবহার করে ক্ষতি না করতে পারে।