Published : 13 Apr 2026, 01:07 PM
জাপানে রোবট এখন আর মানুষের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং বন্ধু। দেশটিতে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা দ্রুত কমে যাওয়ায় কারখানা ও জরুরি সেবা সচল রাখাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ সংকট ঠেকাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইওয়ালা রোবটকে কাজে লাগাচ্ছে জাপান।
ব্রিটিশ প্রযুক্তি সংবাদের সাইট টেকক্রাঞ্চ প্রতিবেদনে লিখেছে, পরবর্তী বড় শিল্প বিপ্লব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে ‘ফিজিকাল এআই’, যেখানে জাপান প্রয়োজনের তাগিদে এই দৌড়ে নেতৃত্ব দিচ্ছে।
দেশটিতে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমে যাওয়ায় উৎপাদনশীলতা ধরে রাখার চাপ বাড়ছে। এ সমস্যা সমাধানে জাপানি বিভিন্ন কোম্পানি এখন কারখানা, গুদামঘর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোতে এআইচালিত রোবট মোতায়েন করছে।
২০২৬ সালের মার্চে জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় বলেছে, তাদের লক্ষ্য ২০৪০ সালের মধ্যে বিশ্ববাজারে ‘ফিজিকাল এআই’ খাতের ৩০ শতাংশ দখলে নেওয়া।
শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহৃত রোবট তৈরিতে জাপান আগে থেকেই বেশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০২২ সালে বিশ্ব বাজারের প্রায় ৭০ শতাংশ রোবটই তৈরি করেছিল জাপানি নির্মাতারা।
বিনিয়োগকারী ও শিল্প খাতের নির্বাহীদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে টেকক্রাঞ্চ খতিয়ে দেখেছে কেন এই পরিবর্তন ঘটছে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের তুলনায় জাপানের পদ্ধতি কতটা আলাদা এবং এ প্রযুক্তি পরিপক্ক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কোথায় এর আসল গুরুত্ব প্রকাশ পাবে।
শ্রমিক সংকটের মুখে ‘ফিজিকাল এআই’
জাপানে এ প্রযুক্তি গ্রহণের পেছনে বেশ কিছু কারণ কাজ করছে। ‘ওভেন ক্যাপিটাল’-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর রো গুপ্ত বলেছেন, রোবট নিয়ে জাপানিদের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি, জনসংখ্যা কমে যাওয়ায় তৈরি হওয়া শ্রমিক সংকট এবং হার্ডওয়্যার ও মেকাট্রনিক্স শিল্পে জাপানের শক্তিশালী অবস্থানই এর প্রধান কারণ।
‘গ্লোবাল ব্রেইন’-এর জেনারেল পার্টনার হোগিল ডো বলেছেন, “ফিজিকাল এআইকে কাজ চালিয়ে নেওয়ার একটি হাতিয়ার হিসেবে দেখা হচ্ছে। মানুষ কমে গেলে কীভাবে কারখানা, গুদামঘর ও সেবা খাত সচল রাখা যায় সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। আমার ধারণা, শ্রমিক সংকটই এখানে প্রধান চালিকাশক্তি।”
জাপানের জনসংখ্যা সংক্রান্ত সংকট এখন আরও ঘনীভূত হচ্ছে। ২০২৪ সালে টানা ১৪ বছরের মতো দেশটিতে জনসংখ্যা কমেছে। বর্তমানে কর্মক্ষম মানুষ মোট জনসংখ্যার কেবল ৫৯.৬ শতাংশ, যা আগামী ২০ বছরে আরও প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ কমবে বলে উল্লেখ করেছেন ডোহ।
এ সংকট এরইমধ্যে বিভিন্ন কোম্পানির কাজের ধরন বদলে দিচ্ছে। ২০২৪ সালে রয়টার্স/নিকেইয়ের এক জরিপে উঠে এসেছে, জাপানি বিভিন্ন কোম্পানি শ্রমিক সংকটের কারণেই এআই গ্রহণে বাধ্য হচ্ছে।
‘সেলসফোর্স ভেঞ্চার্স’-এর প্রিন্সিপাল শো ইয়ামানাাকা বলেছেন, “এখন আর কেবল কাজের দক্ষতা বাড়ানো মূল লক্ষ্য নয়, বরং শিল্প খাতকে টিকিয়ে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ।
“জাপানে এখন এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে শ্রমিকের অভাবে জরুরি সেবাগুলো চালু রাখাই কঠিন হয়ে পড়ছে। কর্মক্ষম জনসংখ্যা কমে যাওয়ায় শিল্পের মান ও সামাজিক বিভিন্ন সেবা বজায় রাখতে ফিজিকাল এআই এখন জাতীয় জরুরি প্রয়োজনে পরিণত হয়েছে।”
‘মুজিন’-এর সিইও ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা ইসেই তাকিনো বলেছেন, জাপান সরকার উৎপাদন ও লজিস্টিকস খাতে অটোমেশন বা স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা এগিয়ে নিতে তাদের প্রচেষ্টা আরও জোরদার করেছে।
শ্রমিক সংকটের মতো কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ ঠেকাতে সরকার এ অটোমেশনকে উৎসাহিত করছে। জাপানি কোম্পানি ‘মুজিন’ এমন এক সফটওয়্যার তৈরি করেছে, যা শিল্পে ব্যবহৃত বিভিন্ন রোবটকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পণ্য বাছাই ও লজিস্টিকসের কাজ করতে সাহায্য করে।
তাকিনো বলেছেন, তাদের মূল ফোকাস এমন রোবোটিক্স কন্ট্রোল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা, যা বর্তমান হার্ডওয়্যারগুলোকেই আরও দক্ষ ও স্বাধীনভাবে কাজের সক্ষমতা দেবে।
হার্ডওয়্যারের শক্তি ও সিস্টেম ঝুঁকি
রোবট তৈরির মৌলিক যন্ত্রাংশ বা ‘বিল্ডিং ব্লক’ তৈরিতে ঐতিহাসিকভাবেই জাপান অনেক এগিয়ে। তবে এ সুবিধা এআই যুগেও থাকবে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
জাপানি ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্টদের মতে, রোবটের মূল উপাদান যেমন, ‘অ্যাকচুয়েটর’ বা এক ধরনের মোটর, সেন্সর ও কন্ট্রোল সিস্টেমে জাপানের অবস্থান এখনও শক্তিশালী।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার ও ডেটা এসবকিছুর সমন্বয়ে পূর্ণাঙ্গ সিস্টেম বা ‘ফুল-স্ট্যাক সিস্টেম’ তৈরিতে অনেক দ্রুতগতিতে কাজ করছে।
‘সেলসফোর্স ভেঞ্চার্স’-এর ইয়ামানাাকা বলেছেন, “উচ্চমানের ও সূক্ষ্ম যন্ত্রাংশ তৈরির দক্ষতা জাপানের জন্য এক কৌশলগত সুরক্ষা দেয়াল হিসেবে কাজ করছে। কারণ, এআই ও বাস্তব জগতের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের জন্য এসব যন্ত্রাংশই মূল চাবিকাঠি।
“বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনে এই গুরুত্বপূর্ণ জায়গাটি নিয়ন্ত্রণে রাখা জাপানের জন্য বড় এক প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা। বর্তমানে জাপানের প্রধান কাজ, বিভিন্ন এআই মডেলকে এসব হার্ডওয়্যারের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত করে পুরো সিস্টেমটিকে আরও উন্নত ও কার্যকর করে তোলা।”
তাকিনো বলেছেন, হার্ডওয়্যারের সক্ষমতার দিক থেকে চীন ও জাপান সবচেয়ে শক্তিশালী, বিশেষ করে রোবটের নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণের প্রযুক্তিতে জাপান অনেক এগিয়ে।
অন্যদিকে, সেবা খাত ও বাজার উন্নয়নের ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ঐতিহাসিকভাবে অনেক মার্কিন কোম্পানি, যেমন অ্যাপল তাদের সফটওয়্যারের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সমন্বিত এক ব্যবসা গড়ে তুলেছে, যেখানে তারা এশিয়ার উন্নত হার্ডওয়্যারের সঙ্গে নিজেদের শক্তিশালী সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্মের সমন্বয় ঘটায়। তবে ‘ফিজিকাল এআই’-এর এ নতুন জগতে এই মডেলটি পুরোপুরি কার্যকর নাও হতে পারে বলে মনে করেন তাকিনো।
“রোবোটিক্স, বিশেষ করে ফিজিকাল এআইয়ের ক্ষেত্রে হার্ডওয়্যারের ভৌত বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে গভীর জ্ঞান থাকা জরুরি। এজন্য কেবল সফটওয়্যার দক্ষতা থাকলেই চলে না, বরং বিশেষায়িত ‘কন্ট্রোল টেকনোলজি’ বা নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তির প্রয়োজন। এসব প্রযুক্তি তৈরি করতে যেমন দীর্ঘ সময় লাগে তেমনই এতে ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকি এবং খরচও বেশি।”
টোকিও ও স্যান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক স্টার্টআপ ‘উইল’ স্বয়ংক্রিয় ব্যক্তিগত চলাচলের যান বা অটোনোমাস মোবিলিটি ভেহিকল তৈরি করছে।
কোম্পানিটির সিইও সাতোশি সুগি বলেছেন, তারা বিশ্ববাজারে নিজেদের বিস্তারের জন্য জাপানের ঐতিহ্যবাহী ‘মনোজুকুরি’ বা কারুশিল্পের নিপুণতাকে কাজে লাগিয়ে পূর্ণাঙ্গ এক ‘ফুল-স্ট্যাক’ পদ্ধতি গ্রহণ করছেন।
উইল এমন এক সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে, যেখানে বিদ্যুচ্চালিত যানবাহন, অনবোর্ড সেন্সর, ন্যাভিগেশন সিস্টেম ও ক্লাউডভিত্তিক ফ্লিট ম্যানেজমেন্টের সমন্বয় ঘটানো হয়েছে, যা স্বল্প দূরত্বে স্বয়ংক্রিয় যাতায়াতে সাহায্য করে।
সুগি বলেছেন, নিজেদের উন্নয়নের কাজে জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশকেই ব্যবহার করছেন তারা। হার্ডওয়্যারকে নিখুঁত করতে ও বয়স্ক জনশক্তির চাহিদা মেটাতে তারা জাপানকে বেছে নিয়েছেন, আর সফটওয়্যার উন্নয়ন ও বড় আকারের বাণিজ্যিক মডেল পরীক্ষার জন্য ব্যবহার করছেন যুক্তরাষ্ট্রকে।

পাইলট প্রজেক্ট থেকে বাস্তব প্রয়োগ
জাপান সরকার এই লক্ষ্য পেতে বড় অংকের অর্থ বিনিয়োগ করছে। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির অধীনে এআইয়ের মূল সক্ষমতা বাড়ানো, রোবটিক্স সংহতকরণ ও শিল্পক্ষেত্রে এর প্রসারের জন্য প্রায় ৬৩০ কোটি ডলার বরাদ্দ করেছেন।
পরীক্ষামূলক ধাপ পেরিয়ে এ প্রযুক্তি এখন বাস্তবে প্রয়োগ হতে শুরু করেছে। শিল্পক্ষেত্রে অটোমেশন বা স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা সবচেয়ে এগিয়ে আছে, যেখানে জাপান প্রতি বছর হাজার হাজার রোবট যোগ করছে, বিশেষ করে অটোমোবাইল বা গাড়ি নির্মাণ শিল্পে।
হোগিল ডোহ বলেছেন, এখন নতুন নতুন ক্ষেত্রেও এর ব্যবহার জনপ্রিয় হচ্ছে।
“এখনকার পরিস্থিতি খুব স্পষ্ট। বিভিন্ন কোম্পানি এখন আর কেবল পরীক্ষামূলক ব্যবহারের মধ্যে নেই, বরং অর্থ খরচ করে সরাসরি রোবট মোতায়েন করছে। পুরো শিফটে নির্ভরযোগ্যভাবে কাজ করা এবং উৎপাদনশীলতার ওপর এর প্রভাব এখন সরাসরি পরিমাপ করা যাচ্ছে।”
লজিস্টিকস বা পণ্য পরিবহন খাতের বিভিন্ন কোম্পানি এখন স্বয়ংক্রিয় ফর্কলিফট ও ওয়্যারহাউস সিস্টেম ব্যবহার করছে। অন্যদিকে, ফ্যাসিলিটি ম্যানেজমেন্টের ক্ষেত্রে ডেটা সেন্টার এবং শিল্প এলাকাগুলোতে পরিদর্শনের কাজে ইনস্পেকশন রোবট ব্যবহৃত হচ্ছে।
সফটব্যাংকের মতো বিভিন্ন কোম্পানি এরইমধ্যেই বাস্তবে ফিজিকাল এআইয়ের প্রয়োগ শুরু করেছে। তারা ‘ভিশন-ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল’-এর সঙ্গে রিয়াল-টাইম কন্ট্রোল সিস্টেমের সমন্বয় ঘটাচ্ছে, যা রোবটকে আশপাশের পরিবেশ বুঝতে এবং নিজে থেকেই জটিল সব কাজ সম্পন্ন করতে সাহায্য করছে।
প্রতিরক্ষা খাতের ক্ষেত্রে ‘তেরা ড্রোন’-এর সিইও তোরু তোকুশিগে বলেছেন, বর্তমানে বিভিন্ন স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হয়ে উঠছে। এখন প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কেবল প্ল্যাটফর্মের ওপর নয়, বরং ফিজিকাল এআই চালিত ‘অপারেশনাল ইন্টেলিজেন্স’ বা কার্যকরী বুদ্ধিমত্তার ওপর নির্ভর করবে।
তোকুশিগে বলেছেন, তেরা ড্রোন এখন কাজের তথ্যের সঙ্গে এআইয়ের সমন্বয় ঘটিয়ে এমন এক স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা তৈরির কাজ করছে, যা বাস্তব পরিবেশে নির্ভরযোগ্যভাবে কাজ করতে এবং জাপানের প্রতিরক্ষা অবকাঠামোকে আরও উন্নত করবে।
বিনিয়োগকারী ও শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখন আর কেবল হার্ডওয়্যারে বিনিয়োগ সীমাবদ্ধ নেই। কোম্পানিগুলো এখন অর্কেস্ট্রেশন সফটওয়্যার, ডিজিটাল টুইন বা বাস্তব বস্তুর ডিজিটাল রূপ, সিমুলেশন টুল ও ইন্টিগ্রেশন প্ল্যাটফর্মের পেছনে আরও বেশি পুঁজি বরাদ্দ করছে।
হাইব্রিড ইকোসিস্টেমের উত্থান
জাপানের ফিজিকাল এআই ইকোসিস্টেম প্রচলিত প্রযুক্তির তুলনায় ভিন্নভাবে বিকশিত হচ্ছে। এখানে ‘একক আধিপত্যের’ বদলে ‘হাইব্রিড মডেল’ বা সমন্বিত ব্যবস্থা প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই মডেলে বড় বিভিন্ন কোম্পানি নিজেদের বড় আকার ও নির্ভরযোগ্যতা দেবে, আর স্টার্টআপগুলো সফটওয়্যার ও সিস্টেম ডিজাইনে নতুন নতুন উদ্ভাবন নিয়ে আসবে।
‘টোয়োটা মোটর কর্পোরেশন’, ‘মিতসুবিশি ইলেকট্রিক’ ও ‘হন্ডা মোটর’-এর মতো বড় কোম্পানি উৎপাদন সক্ষমতা, গ্রাহক সম্পর্ক ও প্রযুক্তি প্রয়োগের ক্ষেত্রে এখনও অনেক এগিয়ে।
তবে অর্কেস্ট্রেশন সফটওয়্যার, পারসেপশন সিস্টেম বা পরিবেশ বোঝার সক্ষমতা এবং কাজের ধারা স্বয়ংক্রিয় করার মতো উদীয়মান ক্ষেত্রগুলোতে বিভিন্ন স্টার্টআপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ইয়ামানাকা বলেছেন, “স্টার্টআপ ও প্রতিষ্ঠিত বড় কর্পোরেশনেরর মধ্যে সম্পর্কটি একে অপরের পরিপূরক। রোবোটিক্সের জন্য ভারী হার্ডওয়্যার তৈরি, গভীর ব্যবহারিক জ্ঞান ও প্রচুর পুঁজির প্রয়োজন হয়।
“বড় বিভিন্ন কোম্পানির বিশাল সম্পদ ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে স্টার্টআপগুলোর বৈপ্লবিক উদ্ভাবনের সংমিশ্রণ ঘটিয়ে বিশ্ববাজারে নিজেদের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে পারে এ শিল্প।”
‘তেরা ড্রোন’-এর সিইও বলেছেন, জাপানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন আর কেবল বড় বড় কর্পোরেশনের একক আধিপত্যে নেই, বরং স্টার্টআপগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বাড়ছে। বড় কোম্পানিগুলো এখন বড় প্ল্যাটফর্ম ও সমন্বিত সিস্টেমের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। আর স্টার্টআপগুলো ছোট সিস্টেম, সফটওয়্যার এবং কার্যক্রম পরিচালনার দিকে নজর দিচ্ছে, যেখানে গতি ও দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
মুজিনের মতো বিভিন্ন কোম্পানি এমন সব প্ল্যাটফর্ম তৈরি করছে, যা হার্ডওয়্যারের ওপর ভিত্তি করে চলে এবং বিভিন্ন কোম্পানির তৈরি যন্ত্রপাতির মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে দ্রুত অটোমেশন নিশ্চিত করে।
‘তেরা ড্রোন’ও একইভাবে এআই ও অপারেশনাল ডেটা ব্যবহার করে বাস্তব ক্ষেত্রে বড় পরিসরে স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম চালুর কাজ করছে।
ডোহ বলেছেন, “প্রকৃতপক্ষে তারাই সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে যারা এই প্রযুক্তির প্রয়োগ, একীকরণ ও ক্রমাগত উন্নয়নের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখবে।”