Published : 11 Nov 2025, 11:39 AM
অ্যাপলের পণ্যের দাম নিয়ে বিতর্ক নতুন কিছু নয়। আইফোন ১৭ এর দাম যেখানে শুরু হয় আটশ ডলার থেকে আর এম৪ চিপের নতুন ম্যাকবুক এয়ার কিনতে গুণতে হয় অন্তত এক হাজার ডলার। তাই অনেকের কাছেই মনে হয় কুপারটিনো জায়ান্টটি মুনাফায় একটু বেশিই আগ্রহী।
তবু যারা এই ‘অ্যাপল ট্যাক্স’ মেনে নিয়েছেন, তাদের জন্য একটা বড় সান্ত্বনা হলো ম্যাকওএসে থাকা অসাধারণ কিছু ফ্রি সফটওয়্যার।
অ্যাপলের প্রতিটি ম্যাকেই এমন কিছু বিল্ট-ইন অ্যাপ থাকে যেগুলো অনেকেই কখনো খুলেই দেখেন না কিন্তু এই অ্যাপগুলোর দৈনন্দিন কিছু কাজকে অবিশ্বাস্যভাবে সহজ করে দিতে পারে। নিচে এমন ১৩টি অ্যাপের কথা বলা হলো-
১. ডিস্ক ইউটিলিটি
এক্সটার্নাল হার্ড ড্রাইভ ফরম্যাট করা, ইউএসবি ড্রাইভ এনক্রিপ্ট করা বা কোনো স্টোরেজ ডিভাইসের সমস্যা নির্ণয়ের জন্য ‘ডিস্ক ইউটিলিটি’ যথেষ্ট। উইন্ডোজের ‘ডিস্ক ম্যানেজমেন্ট’-এর মত কাজ করলেও এটি অনেক বেশি সহজ এবং ব্যবহারবান্ধব।
এতে ড্রাইভ পার্টিশন, মুছে ফেলা, ইজেক্ট করা বা মাউন্ট/আনমাউন্ট করার সব অপশন আছে। ‘ফার্স্ট এইড’ ফিচারটি দিয়ে ড্রাইভের ছোটখাটো ত্রুটি ঠিক করা যায়। শুধু খেয়াল রাখতে হবে অ্যাপলের নিজস্ব ‘এপিএফএস’ ফাইল সিস্টেম উইন্ডোজ বা লিনাক্সে ভালোভাবে কাজ করে না।
২. ফ্রিফর্ম
সৃজনশীল ব্যক্তিদের জন্য তৈরি এই অ্যাপটি মূলত একটি ডিজিটাল কর্কবোর্ড বা স্টোরিবোর্ড টুল। এখানে ছবি, পিডিএফ, নোট এমনকি হাতে আঁকা স্কেচও রাখা যায়। রিয়েল টাইমে একই প্রজেক্টে একশ জন পর্যন্ত কাজ করতে পারেন।
ড্র্যাগ-অ্যান্ড-ড্রপ ব্যবস্থাটি একে আরও সহজ করেছে আর ফেইসটাইম ইন্টিগ্রেশন ব্যবহারকারীকে বোর্ডের ভেতর থেকেই কল করার সুযোগ দেয়। অন্য কোম্পানিতে এই মানের অ্যাপ হলে হয়তো মাসে ১০ ডলার দিতে হতো কিন্তু অ্যাপল দিচ্ছে বিনামূল্যে।
৩. জার্নাল
ডিজিটাল ডায়েরির মতো এই অ্যাপে টেক্সট, ছবি, ভয়েস নোট এমনকি লোকেশনসহ প্রতিদিনের মুডও রেকর্ড করতে পারেন। ‘জার্নালিং সাজেশনস’ ফিচারটি ব্যবহারকারীর ভাবনা কখন লেখায় পরিণত করতে হবে তা বলে দেয়।
অ্যাপটিতে সব তথ্য এনক্রিপ্টেড থাকে, এমনকি আইক্লাউডেও সম্পূর্ণ এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন্সহ থাকে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সাইট স্ল্যাশগিয়ার।
৪. টাইম মেশিন
ব্যাকআপের ঝামেলা অনেকের কাছে ভয়ানক মনে হয় কিন্তু টাইম মেশিন সেটাকে একদম স্বয়ংক্রিয় করে তুলেছে। একবার সেটআপ করে রাখলেই ম্যাক নিজে নিজে নির্দিষ্ট সময় পরপর ব্যাকআপ করে নেয়।
তবে হার্ডড্রাইভ আনপ্লাগ করার আগে সফটওয়্যারের মাধ্যমে ইজেক্ট করতে ভুলবেন না, তা না হলে ব্যাকআপ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ম্যাকবুকের স্টোরেজের দ্বিগুণ ক্ষমতার এক্সটারনাল ড্রাইভ ব্যবহার করতে পরামর্শ দেয় অ্যাপল।
৫. শর্টকাটস
প্রোগ্রামিং না জেনেও অটোমেশন করতে পারবেন এই অ্যাপ দিয়ে। ব্যবহারকারীর যদি প্রতিদিন একসঙ্গে কয়েকটা অ্যাপ বন্ধ করা বা ‘ডু নট ডিস্টার্ব’ অন করার প্রয়োজন হয় তাহলে তা এক ক্লিকেই করতে পারবেন। অ্যাপলের গ্যালারিতে হাজারো প্রি-মেড শর্টকাট আছে। ব্যবহারকারী চাইলে নিজেও তৈরি করতে পারেন।
৬. রিমাইন্ডার্স
এটি একটি শক্তিশালী টু-ডু অ্যাপ, এতে সময়, গুরুত্ব বা লোকেশন অনুযায়ী টাস্ক সাজানো যায়। ব্যবহারকারী যদি কাউকে মেসেজ পাঠানোর সময় কোনো রিমাইন্ডার চান সেটিও সম্ভব। এমনকি সাব-টাস্ক ও শেয়ার্ড লিস্টও তৈরি করা যায়। এটি টিমওয়ার্কে বেশ কাজে আসে।
৭. ডিকশনারি
ইন্টারনেটে গিয়ে ডিকশনারি খোলার দরকার নেই। অ্যাপল ডিকশনারি অফলাইনেও কাজ করে, সেই সঙ্গে উইকিপিডিয়া থেকেও তথ্য আনতে পারে। শুধু শব্দে রাইট-ক্লিক করলেই ‘লুক আপ’ অপশন দিয়ে অর্থ, সমার্থক শব্দ বা উৎস জানা যায়।
৮. ম্যাগনিফায়ার ও জুম
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য বানানো হলেও এই টুলগুলো দৈনন্দিন কাজেও দারুণ সহায়ক। আইফোনের ক্যামেরা দিয়ে চারপাশ বড় করে দেখা বা স্ক্রিনের নির্দিষ্ট অংশে জুম করা সবই সম্ভব। ওয়েবসাইট বা অ্যাপে ছোট টেক্সট পড়তে গেলে এটি ভীষণ উপকারী একটি টুল।
৯. স্ক্রিনশটস
শিফট + কমান্ড + ৩ বা ৪ চেপে স্ক্রিনশট নেওয়া যায় এটা হয়ত জানা থাকলেও অনেকেই হয়ত জানেন না শিফট + কমান্ড + ৫ চাপলে পুরো স্ক্রিন রেকর্ডও করা যায়। চাইলে নির্দিষ্ট অংশ রেকর্ড করা যায়, ভয়েসসহ ভিডিও বানানো যায় এবং সংবেদনশীল তথ্য লুকিয়ে রাখা যায়।
১০. ভয়েস মেমোস
মিটিং, সাক্ষাৎকার বা ব্যক্তিগত আইডিয়া যে কোনো কিছু রেকর্ড করতে পারবেন এক ক্লিকে। রেকর্ডিং স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইক্লাউডে সেইভ হয় ফলে অন্য ডিভাইসেও শুনতে পারবেন। অডিও ট্রিম বা রিপ্লেস করার সুবিধা থাকায় আলাদা অডিও এডিটর লাগবে না।
১১. অ্যাক্টিভিটি মনিটর
উইন্ডোজের টাস্ক ম্যানেজারের মতই এটি দিয়ে ম্যাকের সিপিইউ, মেমোরি, নেটওয়ার্ক বা এনার্জি ব্যবহারের তথ্য দেখা যায়। কোন অ্যাপ অতিরিক্ত রিসোর্স নিচ্ছে বা ব্যাকগ্রাউন্ডে চলছে সেই তথ্য জেনে এখান থেকে সরাসরি বন্ধ করতে পারেন।
১২. স্টিকিজ
ডেস্কে রাখা পোস্ট-ইট নোটের ডিজিটাল সংস্করণ এটি। চাইলে এতে ছবি বা পিডিএফ যোগ করা যায়, রং বা ট্রান্সপারেন্সি বদলাতে পারেন, এমনকি সব নোট একসঙ্গে এক্সপোর্টও করতে পারেন। যতই সাদামাটা মনে হোক এই অ্যাপ একদম পুরনো ধাঁচে কাজের জিনিস।
১৩. টিপস
নতুন ফিচার বা সেটিং খুঁজতে গুগল করার দরকার নেই। টিপস অ্যাপ এখন ব্যবহারকারীদের জন্য ম্যাকের ‘হেল্প সেন্টার’। চাইলে সহজ ভাষায় প্রশ্ন লিখে সার্চ করতে পারেন যেমন ‘কীভাবে স্টার্টআপ অ্যাপ বন্ধ করব? সঙ্গে সঙ্গেই সঠিক গাইড চলে আসবে।
নতুন ডিভাইস কিনলে ‘ইউজার গাইডস’ বিভাগে গিয়ে সব ফিচার জেনে নিতে পারেন।