Published : 23 Feb 2026, 01:15 PM
নিজেদের তৈরি টুলই বিপাকে ফেলেছিল বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ক্লাউড সেবাদাতা কোম্পানি অ্যামাজনকে। গেল বছর অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস-এ টানা ১৩ ঘণ্টার বিভ্রাটের মূল কারণ ছিল তাদেরই নিজস্ব এক এআই কোডিং টুল।
এ সংশ্লিষ্ট চারজন ব্যক্তির বরাত দিয়ে ফাইনান্সিয়াল টাইমস প্রতিবেদনে লিখেছে, গত বছর নির্দিষ্ট কিছু পরিবর্তনের কাজ করতে গিয়ে ইঞ্জিনিয়াররা যখন ‘কিরো’ নামের এআই কোডিং টুলটি ব্যবহার করছিলেন সে সময়ই এ বিপত্তি ঘটে।
‘কিরো’ হচ্ছে ‘এজেন্টিক এআই’ টুল। যার মানে টুলটি ব্যবহারকারীর পক্ষ থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করতে পারে। এ ঘটনার ক্ষেত্রে জানা গেছে, বটটি নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে, পুরো সিস্টেমটি ‘ডিলিট করে পুনরায় তৈরি’ করতে হবে।
অভিযোগ উঠেছে, এআইয়ের এই স্বয়ংক্রিয় সিদ্ধান্তের কারণেই সেই দীর্ঘস্থায়ী বিভ্রাট ঘটেছিল, যার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছিল চীনের ওপর।
অ্যামাজন দাবি করেছে, এ ঘটনায় এআই টুলের জড়িত থাকাটার বিষয়টি ‘নেহাতই কাকতালীয় এক ঘটনা’ এবং ‘যে কোনো ডেভেলপার টুল বা মানুষের মাধ্যমেও একই সমস্যা হতে পারত’।
এ বিভ্রাটের জন্য ‘এআইয়ের ভুল নয়, বরং ব্যবহারকারীর ভুল’কে দায়ী করেছে কোম্পানিটি।
অ্যামাজন বলেছে, নিয়ম অনুসারে ‘কিরো’ যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে অনুমতির অনুরোধ জানায়। তবে গেল ডিসেম্বরের ওই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মীর কাছে ‘প্রত্যাশিত সীমার চেয়ে বেশি এক্সেস বা অনুমতি’ ছিল, যা ‘ব্যবহারকারীর এক্সেস কন্ট্রোল সংক্রান্ত সমস্যার কারণে ঘটেছে, এআইয়ের নিজস্ব কোনো স্বয়ংক্রিয় সমস্যার কারণে নয়’।
অ্যামাজনের বেশ কয়েকজন কর্মী ফাইনান্সিয়াল টাইমস’কে বলেছেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অন্তত দুইবার কোম্পানির নিজস্ব এআই টুলের কারণে তাদের পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে।
এডব্লিউএস-এর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, “এসব বিভ্রাট ছোট হলেও এ ধরনের ঘটনা যে ঘটতে পারে তা আগে থেকেই স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল।”
গত জুলাইয়ে ‘কিরো’ টুলটি চালুর পর থেকেই কর্মীদের তা ব্যবহারে বাধ্য করেছে কোম্পানিটি। অ্যামাজনের শীর্ষ পর্যায় থেকে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, প্রতি সপ্তাহে অন্তত ৮০ শতাংশ কাজ এ টুলের মাধ্যমে করতে হবে এবং কারা টুলটি ব্যবহার করছে তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এ ছাড়া এ ‘এজেন্টিক এআই’ টুলটি মাসিক সাবস্ক্রিপশন ফি’র বিনিময়ে গ্রাহকদের কাছে বিক্রিও করছে অ্যামাজন।
গত অক্টোবরের আরও এক গুরুতর ঘটনার ধারাবাহিকতা সাম্প্রতিক এসব বিভ্রাট। সে সময় টানা ১৫ ঘণ্টা এডব্লিউএস অচল থাকায় অ্যালেক্সা, স্ন্যাপচ্যাট, ফোর্টনাইট ও ভেনমো’র মতো জনপ্রিয় বিভিন্ন সেবা ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হয়েছিল।
ওই সময় এর কারণ হিসেবে নিজেদের ‘অটোমেশন সফটওয়্যার’-এর এক ত্রুটিকে দায়ী করেছিল কোম্পানিটি।
তবে নিজেদের নির্দিষ্ট কিছু পণ্য বা পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকাকে ‘সম্পূর্ণ বিভ্রাট’ হিসেবে মেনে নিতে নারাজ অ্যামাজন।