Published : 23 Mar 2025, 04:07 PM
যুগান্তকারী এক প্রাইভেসি মামলা নিষ্পত্তির পর বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের টার্গেট করা বন্ধ করতে রাজি হয়েছে ফেইসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মালিক মেটা।
কোম্পানিটির এমন পদক্ষেপ লাখ লাখ সামাজিক সামাজিক যোগাযোগ ব্যবহারকারীর জন্য একটি নজির স্থাপন করতে পারে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ দৈনিক পত্রিকা গার্ডিয়ান।
মেটা বলেছে, লন্ডনের উচ্চ আদালতে এ মামলার বিচার এড়ানোর আইনি এই চুক্তির পর যুক্তরাজ্যের ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে প্ল্যাটফর্মের বিজ্ঞাপন মুক্ত সংস্করণের জন্য অর্থ নেওয়ার কথা বিবেচনা করছে তারা।
২০২২ সালে ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের এই কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করেন মানবাধিকার কর্মী টানিয়া ও’ক্যারল। তার অভিযোগ, ফেইসবুক বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে টার্গেট করে তার ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ ও তা প্রক্রিয়াকরণ করছে, যা যুক্তরাজ্যের নাগরিক অধিকারকে সম্মান জানাতে যে ডেটা আইন রয়েছে, সে আইনের চূড়ান্ত লঙ্ঘন।
টানিয়ার এ অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের ডেটা নিয়ন্ত্রক সংস্থা বা ইনফরমেশন কমিশনার্স অফিস (আইসিও)।
শুক্রবার দু পক্ষ মিলে এ বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে।
এদিকে, মামলা নিয়ে সমঝোতার পর বিজ্ঞাপনের জন্য ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের ব্যবহার বন্ধে মেটার প্রতিশ্রুতিকে ‘বিজয়’ হিসেবে দেখছেন টানিয়া।
তিনি যুক্তি দিয়েছেন, “নিজেদের ব্যক্তিগত তথ্যকে সরাসরি কোনো কোম্পানি অন্য কারো কাছে বিক্রি করে দেবে সে বিষয়ে আপত্তি জানানোর অধিকার রয়েছে মানুষের”।
তার এ যুক্তিকে সমর্থন জানিয়ে আইসিও বলেছে, “বিভিন্ন কোম্পানিকে অবশ্যই তাদের ডেটা ব্যবহার করার সময় সে বিষয়ে মানুষের পছন্দকে সম্মান জানাতে হবে। যার মানে হচ্ছে, ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের এমন ব্যবহার বন্ধের একটি স্পষ্ট উপায় দিতে হবে।”
টানিয়া বলেছেন, “এই নিষ্পত্তি কেবল আমার জন্যই নয়, বরং প্রাইভেসির মৌলিক অধিকারকে যারা গুরুত্ব দেন তাদের সবার জন্যই একটি বিজয়।
“আমরা কেউই দশকের পর দশক ধরে নজরদারি বিজ্ঞাপনের ফাঁদে আটকা পড়ার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অ্যাপের ব্যবহার শুরু করিনি। এর মাধ্যমে আমরা অনলাইনে আমাদের প্রিয়জনদের সঙ্গে সংযোগ তৈরি সক্ষমতা হারানোর হুমকিতে জিম্মি হয়ে পড়েছি।”
টানিয়ার এ অভিযোগের সঙ্গে ‘মৌলিকভাবে’ দ্বিমত পোষণ করেছে মেটা বলেছে, যুক্তরাজ্যের প্রাইভেসি আইন জিডিপিআর-এর অধীনে দেশটির আইনের বিভিন্ন নিয়ম গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে তারা।
মেটা আরও বলেছে, বিজ্ঞাপনের বিকল্প হিসেবে যুক্তরাজ্যে একটি সাবস্ক্রিপশন পরিষেবা চালু কথা বিবেচনা করছে তারা, যেখানে ব্যবহারকারীদের বিজ্ঞাপন ছাড়া পরিষেবার জন্য ফি দিতে হবে।
মেটার রাজস্বের প্রায় ৯৮ শতাংশ বিজ্ঞাপন থেকে আসে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে গার্ডিয়ান।