২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭ আশ্বিন ১৪৩৩

মঙ্গল থেকে ‘ডাস্ট ডেভিলের’ আওয়াজ পাঠাচ্ছে পারসিভের‌্যান্স

মঙ্গলের বুকে ধুলিঝড়ের বাতাসে ঠিক কতগুলো বালির কণা ছিল, তার সঠিক সংখ্যা নির্ধারণের কৌশল উদ্ভাবনের দাবি করেছেন গবেষকরা।

মঙ্গল থেকে ‘ডাস্ট ডেভিলের’ আওয়াজ পাঠাচ্ছে পারসিভের‌্যান্স

ছবি: জেপিল/নাসা

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 14 Dec 2022, 05:59 PM

Updated : 14 Dec 2022, 05:59 PM

লাল গ্রহ মঙ্গলে ধুলার ঝড় হয় নিয়মিতই; তবে এই প্রথমবারের মত সেই ঝড়ের কেন্দ্র থেকে আওয়াজ রেকর্ড করেছে নাসার রোভার পারসিভের‌্যান্স।

পশ্চিমা সংস্কৃতিতে ধুলিঝড়কে ডাকা হয় ‘ডাস্ট ডেভিল’ নামে। তবে পৃথিবীর ডাস্ট ডেভিলের সঙ্গে মঙ্গলের ঝড়ের পার্থক্য এর আকারে। মঙ্গলপৃষ্ঠে দানবীয় আকারের ধুলার ঘূর্ণিঝড় দৈনন্দিন ব্যাপার।

অন্যান্য মহাকাশযানের মাধ্যমে মঙ্গলপৃষ্ঠের নানা বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছে নাসা; তবে ঝড়ের আওয়াজ এর আগে আর রেকর্ড করা যায়নি।

মাইক্রোফোন ব্যবহার করে আশপাশের আওয়াজ রেকর্ড করতে সক্ষম প্রথম রোভার হিসেবে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মঙ্গলে অবতরণ করেছিল পারসিভের‌্যান্স।

সিএনএন লিখেছে, ২০২১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর চালু ছিল পারসিভের‌্যান্সের সুপারক্যামেরার মাইক্রোফোন; আশপাশের আওয়াজও রেকর্ড করছিল রোভারটি। সে সময় মাইক্রোফোনের রেকর্ডিংয়ে ধরা পড়ে এই রোবটযানের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ধুলিঝড়ের আওয়াজ।

সম্প্রতি বিজ্ঞান সাময়িকী নেচার কমিউনিকেশনসে ওই ঘটনার নানা তথ্য প্রকাশ করেছেন গবেষকরা। ১১ সেকেন্ডের অডিও ক্লিপে ঝড়ের যে আওয়াজ শোনা গেছে, তা বিশ্লেষণ করে ঝড়ের বাতাসে ঠিক কতগুলো বালির কণা ছিল, তার সঠিক সংখ্যা হিসাব করার কৌশল উদ্ভাবনের দাবিও করেছেন ইউনিভার্সিটি অফ টুলুসের ‘হায়ার ইনস্টিটিউট অফ অ্যারোনটিক্স’-এর গবেষক ড. নাওমি মারডক।

রোভারের কাছ থেকে পাওয়া ছবি আর অন্যান্য ডেটা বিশ্লেষণ করে ডাস্ট ডেভিলের বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন গবেষকরা। ছবি আর তথ্য-উপাত্ত সমন্বয়ের পর গবেষকরা বলছেন, ধুলার ঝড়টির উচ্চতা ছিল ৩৮৭ ফুট বা ১১৮ মিটার; যা প্রস্থ্যে ছিল ৮২ ফুট বা ২৫ মিটার।

সিএনএন লিখেছে, মহাকাশ গবেষকরা মঙ্গলের ডাস্ট ডেভিল নিয়ে এত আগ্রহী, কারণ গ্রহটির বায়ুমণ্ডল আর আবহাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ওই ঝড়গুলো।

প্রতি মাসে পারসিভের‌্যান্স থেকে আটটি অডিও ফাইল পাচ্ছেন মারডক ও তার গবেষক দলের সদস্যরা। প্রতিটি অডিও ফাইলের দৈর্ঘ ১৬৭ সেকেন্ড।

পারসিভের‌্যান্সের মাইক্রোফোন তৈরির কাজটিও করেছিলেন এ গবেষক দল। সিএনএন জানিয়েছে, মাইক্রোফোনের আওয়াজ ব্যবহার করে মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলের অস্থিতিশীলতা পরিমাপ করছেন তারা।